বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
জগহাটির বাগদিদের খবর রাখেনা কেউ
মিজানুর রহমান, চুড়ামনকাটি (যশোর)
Published : Tuesday, 7 July, 2020 at 12:18 AM
জগহাটির বাগদিদের খবর রাখেনা কেউমৌলিক অধিকার বঞ্চিত যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের জগহাটি গ্রামের বাগদি স¤প্রদায়ের মানুষ। ওদের পাপ ওরা বাগদি সম্প্রদায়ে জন্মগ্রহণ করেছে! তাইতো ওদের থাকতে হয় অবহেলিত। করোনার ভয়ে সবাই যখন বাড়িতে তখন এক মুঠো খাবার যোগাতে মাছ, শামুক, কুঁচে ধরতে এলাকার বিভিন্ন খালবিলে ছুটে বেড়াচ্ছে বাগদি সম্প্রদায়ের মানুষেরা। অর্ধাহারে অনাহারে থাকা এসব মানুষের ভাগ্যে  জোটে না ত্রাণ। স্থানীয় চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মুন্না ও বেসরকারি সংস্থা বাঁচতে শেখা ছাড়া এখনো পর্যন্ত অন্য কেউই তাদের খোঁজ নেয়নি।
চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের জগহাটি গ্রামে বসবাস করে বাগদি স¤প্রদায়ের প্রায় দুশ’ পরিবার। এসব পরিবারে প্রায় আটশ’ সদস্য রয়েছে। সদর উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় বাওড়টি জগহাটি গ্রামে হওয়ায় বহু বছর আগ থেকে এখানে বসবাস শুরু করে বাগদিরা। পরিবারগুলোর প্রধান আয়ের উৎস ছিল জগহাটি বাওড়সহ এলাকার বিভিন্ন খালবিল থেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা। জগহাটি গ্রামের বাওড়ের পাড়ে এসব পরিবার ছোট ছোট কুঁড়ে ঘর বানিয়ে যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছে। এক সময় তারা এই বাওড় থেকে মাছ ধরে এলাকার বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি করে ভালোভাবেই জীবিকা নির্বাহ করতো। এক সময় সেটিও হাতছাড়া হয়ে যায় তাদের। তাইতো বেঁচে থাকার তাগিদে তারা আদি পেশা মাছ ধরা ছেড়ে বেছে নেয় শামুক-কুঁচে ধরার কাজ।
সরেজমিন জগহাটি গ্রামে গিয়ে দেখাগেছে, কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পুরুষের পাশাপাশি নারীরা এলাকার বিভিন্ন খাল বিলে গলা পর্যন্ত ডুবিয়ে শামুকসহ কুঁচে ধরে বাড়িতে আনছেন। পরে সেগুলো বিক্রি করে নিজেদের খাবার যোগাড় করছেন। যেটা রীতিমতো যুদ্ধের মতো। করোনার কারণে সবাই যখন বাড়িতে তখন তারা তাদের এক মুঠো খাবার যোগাতে হিমসিম খাচ্ছেন। আবার অনেকে জানেই না করোনা কী।
হরি নামের এক বাগদি বলেন, ‘সরকার আসে সরকার যায়, শুধু পরির্বতন হয় না আমাদের ভাগ্যের।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভোটের সময় আসলে রাজনৈতিক নেতারা আমাদের ভাগ্যের পরির্বতনের কথা বলে ভোট লুফে নেয়। এরপর তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না।’ তিনি বলেন, শুধুমাত্র চেয়ারম্যান মুন্না তাদেরকে মাঝেমধ্যে চাল দেন। যদিও প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই কম।
ফৈলি বালা বলেন, ‘ঘরে বসে থাকলে তো আমাগো হবে না। আমাগো খাবার দেবে কে। শুনেছি সরকার বাড়ি বাড়ি খাবার দিচ্ছে। আমাদের তো কেউ খবরও নিল না। যতদিন বাঁচবো ততদিন নিজেদের খাবার নিজেদেরই জোটাতে হবে।’
রাঁধা নামে একজন বলেন, ‘পানিতে গলা ডুবিয়ে শামুক কুড়িয়ে বাড়িতে আসলে শরীরে এমনিতেই জ্বর চলে আসে। চাল কিনবো নাকি ওষুধ কিনে খাবো আমরা। তাইতো শরীর খারাপ হলে সৃষ্টিকর্তাই আমাদের ভরসা।’ অজিত বলেন, ‘প্রায় পরিবারকে কোনো না কোনো দিন না খেয়ে থাকতে হয়।’
প্রতি কেজি শামুক চার-পাঁচ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে অন্ন জোটায় বাগদিরা। বর্তমানে এলাকার খালবিলে শামুক ও কুঁচে তেমন পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে বাগদি সম্প্রদায়ের লোকজন।
এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মুন্না বলেন, খুব কষ্ট করেই তারা জীবনযাপন করে আসছে। ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি যে অনুদান আসে তার বেশিরভাগ এই গ্রামে দেয়া হয়। তাদের আরও সহযোগিতা করার প্রয়োজন।
এক সময় গ্রামের কাগজের সংবাদ দেখে যশোরের সাবেক জেলা প্রশাসক মহিবুল হক বাগদি সম্প্রদায়ের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও তিনি বদলি হওয়ায় সেটি এগোয়নি। এরপর সরকারিভাবে আর কেউ কখনো খবর নেয়নি।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft