মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
মানসিক ভারসাম্য হারাতে বসেছে শিকলে বাঁধা শিশু আঁখি
শাহানুর আলম উজ্জ্বল, চৌগাছা (যশোর)
Published : Tuesday, 7 July, 2020 at 12:17 AM
মানসিক ভারসাম্য হারাতে বসেছে শিকলে বাঁধা শিশু আঁখিযে বয়সে মাতৃ¯েœহে বেড়ে ওঠার কথা, যে বয়সে স্কুলে যাওয়ার কথা, দুরন্তপনা করার কথা। সেই বয়সে শিকলবন্দি জীবন যশোরের চৌগাছার জামিরা গ্রামের মা হারা শিশু আঁখির (৭)। এই শিশুটি ঠিকমতো খেতেও পায় না। মায়ের ¯েœহ বঞ্চিত শিশুটি খাবারের জন্যে এদিক-ওদিক চলে যায়। এই অবস্থায় অসুস্থ দাদা শিশুটির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কায় বাধ্য হয়ে শিকলবন্দি করে রেখেছেন। এ কারণে ধীরে ধীরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে ফুটফুটে শিশুটি। শিশুটির দেখভালের জন্যে সামর্থ্যবানদের  সহযোগিতার হাত বাড়াতে আহŸান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।   
সরেজমিন জামিরা গ্রামে গিয়ে দেখা যায় শিশু আঁখি মাটি ও বেড়া দিয়ে তৈরি ছোট্ট একটি ঘরে নির্বাক বসে আছে। একটি খুঁটির সাথে তার বাম পা শিকল দিয়ে বাঁধা। গায়ে কোনো জামা নেই। মলিন একটি প্যান্ট পরা। মন খারাপ করে বসে আছে সে। চোখ দু’টি ছলছল করছে তার। এ সময় শিশুটিকে বিমর্ষ ও অসুস্থ দেখাচ্ছিল।
আশপাশের লোকজন জানায়, গ্রামের দরিদ্র আশরাফুল ইসলাম ও ফুলবানুর মেয়ে আঁখি। শিশুটির বয়স যখন সাত মাস তখন পিতামাতার মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। বর্তমানে মা অন্যত্র বিয়ে করে সংসার করছে। বাবা আশরাফুল ইসলাম রিকশাচালক। জীবিকার সন্ধানে প্রতিদিন যশোর শহরে চলে যান। সারাদিনের পরিশ্রম শেষে রাতে বাড়ি ফেরেন। বাবা তার মেয়েকে ঠিকমতো দেখাশুনা করেন না বলে স্থানীয়রা জানায়। ছোটবেলা থেকে দাদা-দাদি আঁখিকে দেখাশুনা করতেন। বর্তমানে দাদি প্যারালাইজড হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন। দাদাও খুব অসুস্থ। পাশের মসজিদের মোয়াজ্জিন তিনি। বয়সের ভারে তিনি কাজকর্ম করতে পারেন না।
আঁখির এই অবস্থার কথা বলতেই বৃদ্ধ দাদা চোখের পানি ফেলে বলেন, ‘ওর ভাগ্যটাই খারাপ। আঁখির যখন সাতমাস বয়স তখন ওর আব্বার সাথে পৃথক হয়ে যায় মা। ও এখন ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। কিন্তু ঠিকমতো খাবার দিতে পারিনা। এ কারণে বাড়ির বাইরে গিয়ে লোকের কাছে খাবার চায়। ওর ক্ষতি হবে জেনে আমরা বাধ্য হয়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখি। ও এখন ধীরে ধীরে পাগল হয়ে যাচ্ছে। আমরা এখন কী করবো। ওকে বড় করার মতো ক্ষমতা আমার নেই।’
ওই গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, শিশুটি দেখতে সুন্দর ও চঞ্চল। সহজে যেকোনো লোকের সাথে মিশে যায়। অভাবের কারণে বাড়ি থেকে বেরিয়ে লোকজনের কাছ থেকে চেয়ে খায়। মূলতঃ শিশুটির দেখাশোনার কোনো লোক নেই।’
প্রতিবেশী ইসলাম উদ্দিন জানান, আঁখির দাদি পঙ্গু। দাদা অসুস্থ। বাবাও কোনো খোঁজখবর নেয় না। শিশুটির দ্রæত চিকিৎসা করানো দরকার। এভাবে শিকলে বন্দি থাকলে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলবে।
শিশুটির করুণ দশার খবরে স্থানীয় হাসিব ইলেকট্রনিক্সের মালিক হাসিবুর রহমান হাসিব কিছু খাবার, বই ও  পোশাক পাঠিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানায় ।
ফুলসারা ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদি মাসুদ চৌধুরীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। শিকল দিয়ে শিশুকে বেঁধে রাখা অমানবিক। আমি এখনই খোঁজখবর নেব। বৃদ্ধ দাদা-দাদি যদি সম্মতি দেন তাহলে শিশুটির সকল দায়িত্ব আমি গ্রহণ করবো। আর যদি সম্মতি না দেন তাহলে মাসিক কিছু টাকা আমি দেব।’




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft