রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
আটত্রিশতম বিসিএসে কেশবপুরের ১১ মেধাবীর জন্য চাকরির সুপারিশ
মোতাহার হোসাইন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, কেশবপুর
Published : Sunday, 5 July, 2020 at 1:34 AM
আটত্রিশতম বিসিএসে কেশবপুরের  ১১ মেধাবীর জন্য চাকরির সুপারিশস্বপ্ন মানুষকে তার লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে পারে। তার জন্যে প্রয়োজন ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম ও সাধনা। এবারের ৩৮তম বিসিএসে জায়গা করে নিয়ে সেই ইচ্ছাশক্তির প্রমাণ দিয়েছেন যশোরের কেশবপুর উপজেলার ১১ জন মেধাবী। তাদের অধিকাংশই নিভৃতপল্লীর সাধারণ ও কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও মেধা ও যোগ্যতায় এ সাফল্য দেখিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আটত্রিশতম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে সারা দেশের যে দু’হাজার দু’শ’ চারজনকে চাকরিতে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে তাদের মধ্যে কেশবপুর উপজেলারই রয়েছেন ১১ জন। পিএসসি এই ১১ জনকে ট্যাক্সেসান, প্রশাসন, পুলিশ, কৃষি, স্বাস্থ্য, বন ও শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগের সুপারিশ করেছে। এক সাথে এক উপজেলা থেকে এতগুলো মেধাবীর বিসিএস ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সাফল্যে গত চারদিন ধরে কেশবপুরের সকল স্থান উৎসাহব্যঞ্জক আলোচনায় মুখরিত রয়েছে। ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদেরকে অভিনন্দনের বন্যায় ভাসাচ্ছেন সবাই।  
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ট্যাক্সেসান (কর) ক্যাডারে সহকারী কমিশনার পদে সুপারিশকৃত মঞ্জুরুল আলম রাসেলের বাড়ি গৌরীঘোনা ইউনিয়নের ভেরচী গ্রামে। কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবসরপ্রাপ্ত ইপিআই টেকনিশিয়ান আব্দুল জব্বারের একমাত্র ছেলে তিনি। মা মমতাজ বেগম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং কেশবপুর পৌরসভার পশুহাট এলাকায় তাদের দীর্ঘদিনের বসবাস। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেদার ইন্সটিটিউটে ফুটওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং এ লেখাপড়া শেষে রাসেল বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে (বিআরইবি) সহকারী পরিচালক পদে কর্মরত।
একই ইউনিয়নের গৌরীঘোনা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হরিপদ কুন্ডুর ছেলে মিঠুন কুমার কুন্ডু পুলিশ ক্যাডারে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে সুপারিশকৃত। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষ করে সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার হিসেবে ফেনীতে কর্মরত।
প্রশাসন ক্যাডারে সহকারী কমিশনার পদে সুপারিশকৃত শারমিন আক্তার রিমা কেশবপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের অবসরপ্রাপ্ত অফিস সহকারী ও উপজেলা পাড়ার বাসিন্দা আব্দুল লতিফের মেয়ে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মেসিতে লেখাপড়া শেষে রিমার বিয়ে হয় ৩৩তম বিসিএসের ডাক্তার নাহিদুল হকের সাথে।
ফরেস্ট (বন) ক্যাডারে সহকারী বন সংরক্ষক পদে সুপারিশকৃত শামীম রেজা উপজেলা পাড়ার বাসিন্দা দন্ত চিকিৎসক মুনছুর রহমানের ছেলে। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সয়েল ওয়াটার এন্ড এনভাইরনমেন্ট বিষয়ে লেখাপড়া শেষে খুলনার হরিনটানা থানায় উপপরিদর্শক (এসআই) পদে কর্মরত আছেন।
কৃষি ক্যাডারে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা পদে সুপারিশপ্রাপ্ত আসাদুজ্জামান উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের কোমরপোল গ্রামের আয়ুব আলীর ছেলে। তিনি ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষ করেছেন।
স্বাস্থ্য ক্যাডারে সহকারী সার্জন পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ডা. তুহিন পারভেজ জুয়েল রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেছেন। কেশবপুর সদর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক আসমত আলী মোল্যার ছেলে ডা. তুহিন পারভেজ বর্তমানে ঢাকায় কর্মরত।       
এছাড়াও, এ উপজেলার টুম্পা সাহা, আবুল কালাম, রোকনুজ্জামান রোকন, রবিউল ইসলাম ও বুলবুল আহমেদ রিয়াদ শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশকৃত। কেশবপুর পৌরসভার ভোগতী কালাবাসা মোড় এলাকার মৃত গৌরঙ্গ সাহার মেয়ে টুম্পা সাহা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে লেখাপড়া শেষ করে বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেন। সদর ইউনিয়নের নতুন মূলগ্রামের কৃষক ও ক্ষুদ্র কাপড় ব্যবসায়ী সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে আবুল কালাম লেখাপড়া শেষ করে শরিয়তপুরে একটি হাইস্কুলে শিক্ষাকতা করছেন। সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের কৃষক ও ক্ষুদ্র কাঠ ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান সরদারের ছেলে রোকনুজ্জামান রোকন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষ করে বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেন। বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নের বাউশলা গ্রামের কৃষিজীবী নাসির উদ্দিনের ছেলে রবিউল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিষয়ে লেখাপড়া শেষে কেশবপুরের গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত। পাঁজিয়া ইউনিয়নের সাগরদত্তকাটি গ্রামের কৃষক বজলুর রহমান গাজীর ছেলে বুলবুল আহমেদ রিয়াদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া শেষ করে বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।
এদিকে, বিসিএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে স্থান পাওয়া ১১ মেধাবীকে কেশবপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আশরাফ-উজ-জামান খান ও সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসাইনসহ সদস্যরা অভিনন্দন জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন সাধারণ পরিবার থেকে নিজ নিজ মেধা ও যোগ্যতায় উঠে আসা কেশবপুরের কৃতি সন্তানরা অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করবেন বলে কেশবপুর প্রেসক্লাব আশা করেন।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft