রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২০
সারাদেশ
গুমড়ে কাঁদছে শিক্ষিত বেকাররা
মোঃ আল-আমিন, ঝালকাঠি :
Published : Wednesday, 1 July, 2020 at 2:40 PM
গুমড়ে কাঁদছে শিক্ষিত বেকাররাঝালকাঠি করোনাকালে অসহায় হয়ে পড়েছে শিক্ষিত বেকাররা কোভিড-১৯ অর্থাৎ করোনাভাইরাস সংক্রমণে পুরো বিশ্ব আজ থমকে আছে। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহান শহরে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হলেও বর্তমানে বিশ্বব্যাপী এটি মহামারী আকার ধারণ করেছে। দেশে প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয় ৮ মার্চ এবং করোনায় প্রথম মৃত্যু হয় ১৮ মার্চ। গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। এরপর সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন বিভাগও বন্ধ হয়ে যায়। করোনাকালে দেশের অধিকাংশ মানুষ আজ কর্মহীন। সরকারি চাকরিজীবী ছাড়া হাতেগোনা কিছু  কর্মচারীরা মাস শেষে বেতন পাচ্ছেন। সমাজের নিম্ন আয়ের মানুষগুলো সরকারি সহযোগিতা পাচ্ছেন। সরকারি চাকরিজীবীরা বেতন পাচ্ছেন। এই সময়ে সবচেয়ে বেপরোয়া হয়ে পড়েছেন সমাজের শিক্ষিত বেকাররা। গত ২ থেকে ৩ মাসে এদের পাশে কাউকে দাঁড়াতে দেখা যায়নি। লেখাপড়া শেষে বারবার চেষ্টা করেও চাকরি না পাওয়া মানুষগুলো সমাজের শিক্ষিত বেকার নামে পরিচিত। সর্বোচ্চ সার্টিফিকেট নিয়েও অনেক সময় লক্ষ্যে পৌঁছাতে না পেরে হতাশায় থাকেন এ সব শিক্ষত বেকাররা। নিজে ও পরিবারকে বাঁচাতে ঢুকে যায় খ-কালীন পেশা টিউশনিতে। অনেকে দু-চারটা টিউশনির পয়সা দিয়ে চাকরির আবেদন করার খরচও জোগায়। সমাজের মধ্যবিত্ত বা নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েরা পড়ালেখার খরচ চালাতেই টিউশনিতে ঢুকে পড়েন। কেউ কেউ লম্বা সময় চেষ্টার পর চাকরিতে সুযোগ না পেয়ে শিক্ষা সহায়ক প্রতিষ্ঠান কোচিং সেন্টার বা প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেছে নেয়। এরা অধিকাংশই উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত। অথচ করোনাকালে কর্মহীন হয়ে এরা বেপরোয়া হয়ে পড়েছেন। দেশের এই বিশাল শিক্ষিত বেকার জন গোষ্ঠি তিনটি স্তরে কাজ করে আসছে। প্রথমত প্রইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (উচ্চ বিদ্যালয়, কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়) দ্বিতীয়ত কিন্ডার গার্টেন (কেজি স্কুল) তৃতীয়ত কোচিং সেন্টার। সমাজে এরা বেকার হিসেবে সু-পরিচিত। প্রাইভেট স্কুলগুলোকে সরকার বই-খাতা, সনদ দিয়ে প্রাথমিকভাবে অনুমতি দিয়ে থাকেন। এছাড়া কোচিংগুলোর উপরও কখনও সরকার চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। অতএব এটি শিক্ষা শক্তিশালী একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত। তারপরও সবসময় এসব প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন চাপে থাকে। এসব শিক্ষকরা শিক্ষাদানে একদিকে সরকারকে সহযোগিতা করছেন অন্যদিকে বেকারত্ব দূর করছেন। এদের পাশে সরকারের সহযোগিতা থাকাটা অতি জরুরি। অথচ সরকারি বহু কর্মকর্তা-কর্মচারী আছে যাদের সন্তান প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ছে। প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভালো কিছু পেয়েই এসব প্রতিষ্ঠানে ঝুঁকছে। এরপরও বলবো এরা ভালো কিছু না করলেও সমাজের ক্ষতি অনন্ত করছে না। কিছু সমাজের কিছু অতি উৎসাহী মানুষ সবসময় প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমালোচনা করে থাকেন। তাদের উদ্দেশ্যে বলবো, এসব প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করতে বাধ্য করে না। সবাই ইচ্ছে করেই সন্তানদের ভর্তি করান। তবে সমালোচনা কেন? প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সরকার বা অন্য কোনো সংস্থার আর্থিক সহযোগিতা ছাড়া সম্পূর্ণ ব্যক্তি মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত। যার সংখ্যা সরকার গঠিত ট্রাক্সফোর্সের আনুমানিক পরিসংখ্যান ৬০,০০০ (ষাট হাজার) প্রকৃতপক্ষে এর সংখ্যা আরও অনেক বেশি। সরকারি, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি এই ব্যক্তি মালিকানাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সকল শ্রেণির প্রায় ১ কোটির বেশি শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে, সেইসাথে নিজ উদ্যোগে প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে যা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। তাছাড়া বেকারত্ব নিরসন সরকারের বিরাট একটা সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। এই প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শত কষ্টে জীবিকা নির্বাহের পরও দাবি আদায়ের জন্য বা শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষায় আন্দোলন করে সরকার তথা জনগণকে কষ্ট দেয়নি। নাম না  প্রকাশের শর্তে এক জন কিন্ডার গার্টেন এর শিক্ষক বলেন আমরা তো কারো কাছে  পারবনা হাত পাততে। করোনার কারনে আমাদের  উপাজনের এক মাত্র মাধ্যম কেজিতে শিক্ষকতা সেটিও এখন বন্ধ জানি না কি করবো এখন। বর্তমানে করোনাকালে এসব শিক্ষিত কর্মহীনদের পাশে না দাঁড়ালে মানুষের শিক্ষিত হওয়ার ইচ্ছেই থাকবে না। গত ১৬ মার্চ সরকারে নির্দেশে হঠাৎ করে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হলো।  সরকারের সাথে সাড়া দিয়ে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোচিং, প্রাইভেট  বন্ধ হয়ে যায়। এমতো অবস্থায় সরকার বা এলাকার উচ্চ স্থরের মানুষ গুলো যদি আমাদের পাসে না দাড়ায় তাহলে এই শিক্ষার মানে কি??? অপর দিকে অনার্স ৪র্থ বর্ষের ছাত্র নাম পোকাশে ইচ্ছুক না থাকায় নামটি প্রকাশ করতে পারছি না, সে জানান এই সাধারণ ছুটিতে কোন প্রাইভেট পড়াতে না পারায় ভাড়ায় অটো রিক্স চালিয়ে কোন মতে পরিবার ও নিজের পকেটের খরচটা মিটিয়ে থাকি। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft