বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
যশোরে সরকারি নির্দেশনা মানছে না শিক্ষক-কর্মচারী
ক্রেডিট ইউনিয়ন কিস্তি আদায়ে জবরদস্তি !
এম. আইউব :
Published : Saturday, 16 May, 2020 at 11:59 PM
ক্রেডিট ইউনিয়ন কিস্তি আদায়ে জবরদস্তি !সরকারি নির্দেশনা মানছে না যশোর সদর উপজেলা শিক্ষক-কর্মচারী ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড। এই প্রতিষ্ঠানটি সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও সদস্যদের কাছ থেকে জবরদস্তি করে কিস্তি আদায় করছে। এ কারণে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে। ভুক্তভোগীদের বক্তব্য, তাদের সাথে জুলুম করছে শিক্ষক-কর্মচারী ক্রেডিট ইউনিয়ন।
যশোর সদর উপজেলা শিক্ষক-কর্মচারী ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড সমবায় বিভাগ থেকে রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত। এই প্রতিষ্ঠানটির সদস্য কেবলমাত্র শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা। প্রতিষ্ঠানটি মূলত ঋণ কার্যক্রম নির্ভর। এখানকার সদস্যদের ঋণ দেয়া হয় মাসিক কিস্তিতে। প্রতি মাসে ঋণের বিপরীতে সুদসহ কিস্তি পরিশোধ করতে হয়। শিক্ষক কর্মচারী ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের ব্যবস্থাপক রাম বাবুর দাবি, তাদের মোট সদস্য তিনশ’ ৬২। এদের মধ্যে ঋণ দেয়া হয়েছে একশ’ ৬০ জনকে।
গত মার্চ মাসে দেশে করোনা মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়লে সরকার সব ধরনের ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়। সে মোতাবেক প্রায়সব প্রতিষ্ঠান তাদের ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ রেখেছে। এমনকি শিক্ষকদের বেতনের বিপরীতে ঋণ দেয়া প্রতিষ্ঠান রূপালী ব্যাংকও বন্ধ রেখেছে কিস্তি আদায়। ব্যতিক্রম হচ্ছে যশোর সদর উপজেলা শিক্ষক-কর্মচারী ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড। এই প্রতিষ্ঠানটি সরকারি নির্দেশনার ধার ধারছে না। তারা কিস্তি আদায় অব্যাহত রেখেছে। কিস্তি নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন ব্যবস্থাপক রাম বাবুও। তিনি জানিয়েছেন, কিস্তি না নেয়ার ব্যাপারে তারা কোনো নির্দেশনা পাননি এ কারণে নিচ্ছেন। তবে, তার দাবি কারও উপর জবরদস্তি করা হচ্ছে না। যে যেরকম পারছেন তিনি সেইভাবে কিস্তি দিচ্ছেন।
তবে, তার এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে অভিযোগ করেছেন ঋণ নেয়া কয়েকজন শিক্ষক। তারা জানিয়েছেন, কিস্তি দেয়ার জন্যে তাদেরকে ব্যাপকভাবে চাপ দেয়া হচ্ছে। কয়েকজন শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,‘এটি শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতিষ্ঠান হলেও বর্তমানে আচরণ করছে কাবলিওয়ালাদের মতো। প্রতিষ্ঠানটির কাছে দুর্যোগ কোনো বিষয় না। তারা যেকোনো উপায়ে কিস্তি আদায় করেই ছাড়ছে। যা সরকারি নির্দেশনার পরিপন্থি।’
এ  বিষয়ে জানতে ফোন করা হয় প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি ফজলুল হককে। তার ফোন বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে, কথা হয় সেক্রেটারি জহুরুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন,‘শিক্ষকদের বেতনের বিপরীতে ঋণ দেয়া হয়। এ কারণে বেতন পাচ্ছে বলে কিস্তি নেয়া হচ্ছে। এছাড়া, কিস্তি নেয়া যাবে না বলে কোনো নির্দেশনা আমরা পাইনি। আমরা হাফ হাফ করে কিস্তি নিচ্ছি। আমাদের এফডিআর আছে। তাদেরকেতো ঋণ দিতে হয়। এ কারণে নিতে হচ্ছে।’
সরকারি নির্দেশনা অমান্য করার বিষয়ে কথা হয় রেজিস্ট্রেশন দেয়া কর্তৃপক্ষ যশোর সদর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা রণজিত কুমারের সাথে। তিনি বলেন,‘সরকার দু’মাস পর্যন্ত সব ধরনের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এ অবস্থায় কারও কিস্তি নেয়া আইন সঙ্গত না। আমি এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি ম্যানেজারের সাথে কথা বলবো।’ তারা কিস্তি না নেয়ার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা পায়নি বলে তাকে জানালে তিনি বলেন,‘যেখানে সরকার ঘোষণা দিয়েছে সেখানে কি জনে জনে চিঠি দিয়ে জানাতে হবে।’




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft