রবিবার, ০৭ জুন, ২০২০
সারাদেশ
কুয়াকাটা-গঙ্গামতি সৈকতে লাল কাঁকড়ার ‘আলপনা’
এইচ,এম, হুমায়ুন কবির, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) :
Published : Monday, 30 March, 2020 at 12:27 PM
কুয়াকাটা-গঙ্গামতি সৈকতে লাল কাঁকড়ার ‘আলপনা’সম্প্রতি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সারাদেশে চলছে ঘোষিত লকডাউন। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে পর্যটনকেন্দ্রগুলোও। টিভির খবরে শোনা গেছে জনশূন্য কক্সবাজার সমুদ্র তীরে যেমন ডলফিনের অবাধ বিচরণ দেখা যাচ্ছে, তেমনি কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে একই দৃশ্যলাল কাঁকড়ার আলপনা। কুয়াকাটায় পর্যটকের আনাগোনা নেই গত কয়েকদিন ধরে করোনাভাইরাসের কারনে। সাময়িক উপদ্রবহীন সৈকতে ফিরে এসেছে লাল কাঁকড়ার দল। ভাটা লাগার সঙ্গে সঙ্গে লাখ লাখ লাল কাঁকড়া মিছিল নিয়ে ছুটছে। এঁকেবেঁকে পুরো বেলাভূমিতে যেন তারা আলপনা আঁকছে। এ দৃশ্য কুয়াকাটা ও গঙ্গামতি সমুদ্রসৈকতে ঘুরে দেখা যায়। কয়েক যুগ পর ‘বেদখল’ হয়ে যাওয়া বেলাভূমি যেন পুনরুদ্ধার করেছে কাঁকড়ার দল। কয়েকদিন আগেও এমন দৃশ্য ছিল না। পর্যটকের ধাওয়ায় তারা লুকিয়ে থাকত গর্তে। হাজারো মানুষের পদচারণা ও মোটরসাইকেলের চাকায় পিষ্ট হয়ে গর্তগুলোও বুজে থাকত, মারা পড়ত লাল কাঁকড়া। বিস্তীর্ন সৈকতের বালুকা বেলায় লাল কাঁকড়ার খেলা ও প্রকৃতির অপরুপ সমারোহ। যেখানে দাঁড়িয়ে সুর্যোদয় ও সুর্যাস্তের অপরুপ দৃশ্য ছাড়া ও চোখে পড়বে দিগন্ত জোড়া আকাশ আর সমুদ্রের তরঙ্গায়িত ঢেউ আছড়ে পড়ছে সৈকতে।   
কুয়াকাটা ও গঙ্গামতি পর্যটকের পদচারণায় লাল কাঁকড়ার বিচরণভূমি হারিয়ে যেতে বসেছে। এগুলোর বিচরণ এলাকার পরিধিও ছোট হয়ে আসছে। সাগরে ভাটা থাকলে সৈকতের পরিধি বৃদ্ধি পায়। তখন লাল কাঁকড়া বালুর নিচের বাসা (গর্ত) থেকে বের হয়ে আসে; দৌড়াদৌড়ি করে। বালু থেকে মাটি আলাদা করে। যেন আলপনায় ঢেকে দেয় সৈকতের বেলাভূমি। কিন্তু দর্শনার্থী যখন ৩০-৪০ মিটার কাছে চলে আসে, তখন লাল কাঁকড়ার দল জীবন বাঁচাতে ভোঁ দৌড় দেয়। তখন কোনো কাঁকড়া উল্টে যায়। কোনোটি আহত হয়, হাত-পা ভেঙে যায়। পায়ের তলায় পিষ্ট হয়ে মারা পড়ে অনেক কাঁকড়া। তবে এখন যেন প্রকৃতির সঙ্গে প্রাণ ফিরে পেয়েছে লাল কাঁকড়াগুলোও।কুয়াকাটা-গঙ্গামতি সৈকতে লাল কাঁকড়ার ‘আলপনা’
গঙ্গামতির জেলে আলামিন বলেন, এখন পর্যটক না থাকায় আগের মতো ১৮কিলোমিটার সৈকতের মধ্যে তিন-চার কিলোমিটার সৈকতের সব জায়গায় লাল কাঁকড়া দেখা যাচ্ছে। সকাল ও বিকাল বেলা দেখা যায় শুধু লাল কাঁকড়া আলপনা।
কাঁকড়া ও সামুদ্রিক মাছ নিয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিড বাংলাদেশের কুয়াকাটা জোনের মাঠ কর্মকর্তা আফজাল হোসেন বলেন, কাঁকড়া আর্থ্রোপোডা প্রজাতির একটি ক্রাস্টাসীয় প্রাকৃতিক জীব। লাল কাঁকড়া এর একটি প্রজাতি। কুয়াকাটা সৈকত ও সমুদ্রে এ পর্যন্ত ৫০০ প্রজাতির কাঁকড়ার সন্ধান পাওয়া গেছে।
পরিবেশবিদ অধ্যাপক আইনুন নিশাত বলেন, 'লাল কাঁকড়ার কাজ হচ্ছে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করা। ওরা বেলাভূমিতে প্রতিদিন দু’বার বালু ও মাটি আলাদা করার কাজ করে। সেটা দেখতে আলপনার মতো মনে হয়।



আরও খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft