রবিবার, ০৭ জুন, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
কায়েতখালী বাওড়
ভুয়া মৎস্যজীবীদের হাতে যাওয়ার শংকা
অভিজিৎ ব্যানার্জী :
Published : Wednesday, 25 March, 2020 at 6:17 AM
ভুয়া মৎস্যজীবীদের হাতে যাওয়ার শংকা যশোরের কায়েতখালী বাওড়টি এবারো ভুয়া মৎস্যজীবী ও একটি সংঘবদ্ধ চক্রের হাতে চলে যাওয়ার শংকায়  উত্তেজনা বিরাজ করছে। গতকাল বাওড়টির টেন্ডারে প্রকৃত মৎস্যবজীবীদের দরপত্র থেকে অমৎস্যজীবী চক্রটি ৩ হাজার টাকা বেশি  দর দেয়ায় এ শংকা করা হচ্ছে। সরকারিবিধি অনুযায়ী জাল যার জলা তার ভিত্তিতে মৎস্যজীবী কার্ডধারী সমিতির অনুকুলে বাওড় লিজ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন বাওড় পাড়ের মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের লোকজন। বিগত বছরগুলোর মত এবারো সন্ত্রাসী চক্রের দখলে বাওড়টি চলে গেলে আন্দোলনের নামার হুমকি দিয়েছে হাশিমপুর, কায়েতখালী ইছালীসহ এলাকার মৎস্যজীবীরা।
কায়েতখালী বাওড়টি ঐহিত্যবাহি বাওড়। বিগত ১০ বছর হাসিমপুর এলাকার একটি চিহ্নিত চক্র লাউখালী ও চান্দুটিয়া মৎস্যজীবী সমিতির প্যাড ব্যবহার করে টেন্ডারে অংশ নেয়। স্থানীয় মৎস্যজীবীদের নানা হুমকি দিয়ে টেন্ডারে অংশ নেয়া থেকে বিরত রাখে। একটি মৎস্যজীবী সমিতির নামে টেন্ডার নিলেও কার্যত বিগত সময় গুলোতে একদিনও ওই সমিতির কোনো সদস্যকে বাওড় পাড়ে দেখা যায়নি। দেখা গেছে চাঁচড়া, ছোট বালিয়াডাঙ্গা ও তালবাড়িয়ার এলাকার কয়েকজন চিহ্নিতকে। তারা মাছ ছেড়েছে আর বিক্রি করেছে। কোনো মৎস্যজীবী কিংবা জেলে সেখানে যাননি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এবার টেন্ডার আহবান করলে ২৪ মার্চ দুপুর ১২ টা পর্যন্ত কায়েতখালী বাওড় লিজ টেন্ডারের বিপরীতে দুটি মৎস্যজীবী  সমিতির দুটি দরপত্র জমা পড়েছে। দুপুর ১ টায় টেন্ডার বাক্স খোলা হয। দরপত্র দাখিলকারী দুটি সমিতির একটি হচ্ছে কায়েতখালী প্রকৃত জেলে ও মৎস্যজীবী সমন্বয়ে গঠিত কায়েতখালী মৎস্যজীবী সমিতি। অন্যটি হচ্ছে চান্দুটিয়া মৎস্যজীবী সমিতি। কায়েতখালী মৎস্যজীবী সমিতি দর দিয়েছে এক লাখ ৫২ হাজহা ৫শ টাকা। আর চান্দুটিয়া মৎস্যজীবী সমিতি দর দিয়েছে এক লাখ ৫৫ হাজার টাকা। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে এই চান্দুটিয়া মৎস্যজীবী সমিতি মূলত দরপত্র দাখিল করেনি। তাদের প্যাড  ও মৎস্যজীবীদের নাম ব্যবহার করেছে চাঁচড়া, ছোট বালিয়াডাঙ্গা ও তালবাড়িয়ার এলাকার চিহ্নিত চক্রটি। তারা সদস্যদের বিপরীতে বেশিরভাগ মৎস্যজীবীর কার্ড জমা দেয়নি বলে জানিয়েছেন সদর উপজেলা সহকারি ভূমি কমিশনারের কার্যালয়ের সার্ভেয়ার সাইফুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন কায়েতখালী মৎস্যজীবী সমিতি তার সব সদস্যের কার্ড জমা দিয়েছে। কাজেই বৈধতায় আছে কায়েতখালী মৎস্যজীবী সমিতি। আজ এব্যাপারে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
কায়েতখালী মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি আশানুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক অলোক বিশ^াস জানিয়েছেন বিগত সময়ে ভয়ে তারা টেন্ডারে অংশ নেননি। এবার সাহস করে  দরপত্র ফেলেছেন। কিন্তু পরিবেশ ভাল মনে হচ্ছেনা।  চান্দুটিয়া মৎস্যজীবী সমিতির  নামে দরপত্র ফেলা হলেও তাদের কেউ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কিংবা সহকারি ভূমি কমিশনারের কার্যালয়ে আসেননি। মূলত তাদের প্যাড ব্যবহার করেছে চিহ্নিত চক্রটি। বিগত সময়ে বিতর্কিত লোকজন নিয়ে বাওড় পাড়ে মহড়া দিয়ে মাছ ছেড়েছে। বাওড় পাড়ে বাসিন্দা ও প্রকৃত মৎস্যজীবী হয়েও কেউ বাওড়ে নামতে পারেননি। স্থানীয়দের  গোসল পযন্ত করতে দেয়া হয়নি। সন্ত্রাসী স্টাইলে মহড়া দিয়ে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।  ভুয়া মৎস্যজীবীদের কবল থেকে বাওড়কে মুক্ত করে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের কাছে লিজ  দেয়ার দাবি তাদের। তারা শংকা করছেন এবারো ওই সন্ত্রাসী চক্রের হাতে বাওড়টি চলে যেতে পারে। তারা উপজেলা নির্বাহী  কর্মকর্তা ও সহকারি ভূমি কমিশারকে ম্যানেজের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ তাদের।  
সরেজমিনে গেলে চান্দুটিয়া মৎস্যজীবী সমিতির কারোর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি টেন্ডার ড্রপিং  কার্যক্রমে। অমৎস্যজীবী এক ব্যক্তি ওই টেন্ডার ড্রপিং করতে দেখা গেছে চান্দুটিয়া মৎস্যজীবী সমিতির প্যাডে।
এব্যাপারে কথা হয় টেন্ডার কমিটির সভাপতি  উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের সাথে। তিনি গ্রামের কাগজকে জানান প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অনকুলে বাওড়টি লিজ দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। মৎস্যজীবীদের কার্ড যাচাই বাছাই করা হবে। বেশি দর দিলেই লিজ পাবেন এটা ভাবলে হবেনা। বিধিমোতাবেক টেন্ডার কমিটি চুড়ান্ত ব্যবস্থা নেবে। এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিনি  সদস্য সচিব  সদর উপজেলা সহকারি ভূমি কমিশনারকে বলবেন। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft