রবিবার, ০৭ জুন, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
যশোরে করোনা ভাইরাসের প্রভাব
বন্ধ হতে চলেছে দু’শ ক্লিনিক
জাহিদ আহমেদ লিটন :
Published : Wednesday, 25 March, 2020 at 6:17 AM
বন্ধ হতে চলেছে দু’শ ক্লিনিককরোনাভাইরাসের প্রভাবে যশোরের প্রায় দু’শ ক্লিনিক বন্ধের উপক্রম হয়েছে। এসব ক্লিনিকগুলোতে মিলছে না জরুরি চিকিৎসাসেবা। ডাক্তাররা তাদের চেম্বারে রোগী না দেখায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে বেকার হতে চলেছে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী তিন সহ¯্রাধিক কর্মচারি।
গত ৩১ ডিসেম্বর চিনের উহান প্রদেশে বিশ্বে প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী ধরা পড়ে। এরপর তা ছড়িয়ে পড়ে সারাবিশ্বে। এ রোগে ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশে ১৭ হাজার ২৬০ জন মানুষ মারা গেছে। আক্রান্ত হয়েছে ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৮৩৪ জন মানুষ। বাংলাদেশও এ রোগের বাইরে নেই। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে ৪ জন মারা গেছে ও ৪০ জন আক্রান্ত হয়েছে। বর্তমানে করোনা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে গোটাদেশে। বন্ধ করা হয়েছে নৌপথ ও রেলপথ। ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ হচ্ছে গণপরিবহন। করোনা প্রভাবের বাইরে যশোর জেলাও নয়। এ ভাইরাস আতঙ্কে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রায় রোগী শুন্য হয়ে পড়েছে। জরুরি বিভাগও এর বাইরে নয়। যশোর স্বাস্থ্য বিভাগের ডাক্তার-নার্সরাও আতঙ্কিত অবস্থায় রয়েছেন। এ কারণে অনেক ডাক্তার হাসপাতালে কম আসছেন ও তাদের ক্লিনিকের ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখা বন্ধ করে দিয়েছেন। এর প্রভাব পড়েছে ক্লিনিকগুলোতে। ডাক্তাররা না আসায় এসব ক্লিনিকে বর্তমানে রোগীশুন্য অবস্থা বিরাজ করছে। এছাড়া করোনা আতঙ্কে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাদের জরুরি বিভাগ বন্ধ করে দিয়েছে। শুধুমাত্র ভর্তি রোগীদের জন্য জরুরি বিভাগের ডাক্তাররা কাজ করছেন। একইসাথে তারা রোগী ভর্তিও কমিয়ে দিয়েছেন। নিজেদের সুরক্ষার জন্য তারা রোগী ক্লিনিকে ভর্তি করছেন না। সর্বত্রই ফাঁকা অবস্থা বিরাজ করছে।
শহরের কয়েকটি ক্লিনিক ঘুরে দেখা গেছে, প্রধান গেটগুলো কিছুটা বন্ধ করে রাখা হয়েছে। বহিরাগতরা গেলে তাদের হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে জীবানুমুক্ত করে ভেতরে প্রবেশ করানো হচ্ছে। আর গেটে দাঁড়ানো ব্যক্তি জানাচ্ছেন, ক্লিনিকে রোগী দেখা ভর্তি হচ্ছে না। আপাতত বন্ধ রয়েছে। অন্য কোন প্রয়োজনে গেলে তাদেরকে প্রবেশ করানো হচ্ছে। এসব ক্লিনিকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের চেম্বারও বন্ধ রয়েছে। রোগীরা গেলে তাদের সিরিয়ালও নেয়া হচ্ছে না। বলা হচ্ছে ডাক্তার চেম্বারে আসার পর নতুন সিরিয়াল গ্রহণ করা হবে। ডাক্তার কবে আসবেন, সেটা অনিশ্চিত। কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র ভর্তিকৃত রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান ও জরুরি অস্ত্রোপচার করছেন। এ অবস্থা বিরাজ করছে যশোর শহরের বেশিরভাগ ক্লিনিকে। অবশ্য কয়েকটি ক্লিনিক তাদের সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া সাধারণ মানুষও রোগ যন্ত্রনায় অতীষ্ট না হলে ক্লিনিকে বা ডাক্তারের চেম্বারে যাচ্ছেন না।
সূত্র জানায়, যশোরে সরকারি হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিক ব্যতিত জেলায় মোট ১৭৮টি লাইসেন্সধারী বেসরকারি ক্লিনিক রয়েছে। এর বাইরেও নাম সর্বস্ব একাধিক ক্লিনিক রয়েছে। এসব ক্লিনিকে করোনা আতঙ্কে বর্তমানে রোগীশুন্য অবস্থা বিরাজ করছে। ফলে বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে ক্লিনিকগুলো। এ কারণে ক্লিনিকের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী তিন সহ¯্রাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারি চাকরি হারানোর আশঙ্কা করছেন। করোনা ভাইরাসে তারা শুধুমাত্র জীবনাশঙ্কায় ভুগছেন না। আগামীর জীবন যাপনও তাদের অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে যশোর কুইন্স হসপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএসএম হুমায়ূন কবীর কবু বলেন, তাদের ক্লিনিক সবার জন্য খোলা রয়েছে। তারা করোনা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কাজ করছে। পরিস্থিতি যাই হোক তারা রোগীসেবা দিয়ে যাবে।
যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সাবেক সিনিয়র কনসালটেন্ট ও আদ-দ্বীন সখিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডাক্তার মোসলেম উদ্দীন বলেন, দেশে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলায় তিনি কখনো পিছপা হবেন না। শুধুমাত্র নিজে বাঁচলে হবে না, জনগনকে বাঁচাতে হবে। সতর্কতার সাথে তিনি সব সময় জনগনকে সেবা দিয়ে যাবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এ ব্যাপারে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিক ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ডাক্তার আতিকুর রহমান খান বলেন, চেম্বারে ডাক্তারদের সুরক্ষা দেয়ার দায়িত্ব ওই প্রতিষ্ঠানকে নিতে হবে। কেউ যদি রোগী না দেখেন, সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে রোগী সেবা বন্ধ করে কোন সুরক্ষা নয়। তিনি বলেন, সরকার স্বাস্থ্য বিভাগের সকল ইউনিটের ছুটি বাতিল করেছে। ডাক্তাররা আন্তরিকভাবে সরকারি হাসপাতালে রোগী সেবা দিচ্ছেন। সকল ক্লিনিক মালিককে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।
যশোরের সিভিল সার্জন ডাক্তার শেখ আবু শাহীন বলেন, বেসরকারি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে তাদের সেবা কার্যক্রম চালু রাখার কথা বলা হয়েছে। এটা না করে যদি কোন ক্লিনিক মালিক তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখে তবে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft