বুধবার, ০১ এপ্রিল, ২০২০
অর্থকড়ি
অতিমুনাফাখোর ধরতে মাঠে প্রশাসন
বাড়তি দাম নিলেই জেল-জরিমানা
এম. আইউব :
Published : Sunday, 22 March, 2020 at 6:29 AM
বাড়তি দাম নিলেই জেল-জরিমানা প্রাণঘাতি ভাইরাস করোনা নিয়ে যখন সাধারণ মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত ঠিক সেই সময় এক শ্রেণির মুনাফারখোর অতিরিক্ত মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিক্রি করছে। বেশ কয়েকদিন ধরে এই অবস্থা বিরাজ করছে যশোরের বাজারে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। করোনার এই বিপদের মধ্যে যাতে কোনো অতি লোভী ব্যবসায়ী সাধারণ মানুষকে জিম্মি করতে না পারে সেই জন্যে মাঠে নেমেছে প্রশাসন।
শনিবার থেকে যশোরের বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পৃথক অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে একাধিক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। একইসাথে মাইকিং করে ন্যায্যমূল্যে আলু ও পেঁয়াজ বিক্রি করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। যেটি সাধারণ মানুষ ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। পাশাপাশি মুনাফাখোররা কিছুটা হলেও ঘাবড়ে গেছে।
করোনাভাইরাস আতঙ্কে সাধারণ মানুষ এক প্রকার দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এ কারণে নানান সময় গুজব ভর করছে তাদের ঘাড়ে। সবকিছু বন্ধ হয়ে যাবে-এমন গুজবে সাধারণ মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বেশি পরিমাণে কিনতে শুরু করেছে। বিশেষ করে চাল, আটা, চিনি, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, রসুন, আলু, মসলা, মাছ, মাংসসহ একান্ত প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য কিনছে লাইন দিয়ে। গত সপ্তাহখানেক ধরে এই অবস্থা চলছে। আর এই সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী।
যশোরের গুরুত্বপূর্ণ বাজার বলে পরিচিত বড়বাজার, চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড ও রেলবাজারের ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপ করে জানাগেছে, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের চাল কেজিতে চার-পাঁচ টাকা বেড়েছে। পেঁয়াজ বেড়েছে কেজিতে ২৫ টাকা। ডাল সাত থেকে ১০, আটা চার থেকে পাঁচ, চিনি পাঁচ থেকে সাত, আলু চার থেকে ছয়, রসুন ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। একইভাবে বেড়েছে মাছের দামও।
মিল মালিকরা বলছেন হঠাৎ করে চালের দাম বৃদ্ধির কোনো কারণ নেই। আর পাইকারি ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, চাহিদা বৃদ্ধির কারণে চালের দাম বেড়েছে। অন্যান্য পণ্যের ব্যবসায়ীদের বক্তব্যও একই রকম ছিল। কিন্তু ক্রেতারা তাদের বক্তব্য মানতে নারাজ। ক্রেতারা বলছেন, নিত্যপণ্যের দাম রাতারাতি আশঙ্কাজনকহারে বাড়তে পারে না। শনিবার বড়বাজারে আসা আব্দুল মজিদ নামে একজন ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাতারাতি এতো দাম বাড়তে পারে না। প্রশাসনিক নজরদারি দেরিতে হলেও শুরু হয়েছে। এটি অব্যাহত থাকলে অসাধু ব্যবসায়ীরা কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে দাবি তার।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষিতে শনিবার ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পৃথকভাবে অভিযানে নামে। সুফল চন্দ্র গোলদার, কেএম আবু নওশাদ, তাহমিদুল ইসলাম ও কেএম মামুনুর রশিদ নামে চারজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দু’টি টিমে বিভক্ত হয়ে শনিবার বড়বাজারের বিভিন্ন দোকানে অভিযান চালান। এসময় অতিরিক্ত দাম নেয়া এবং মূল্য তালিকা না থাকার কারণে চারটি দোকান মালিককে জরিমানা করেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুফল চন্দ্র দে গোহাটা রোডের সাধন স্টোরে দু’হাজার ও চুড়িপট্টির নুরইসলামকে পাঁচশ’ জরিমানা করেন। সাধন স্টোরে মূল্য তালিকা না থাকা এবং পেঁয়াজের দাম বেশি নেয়ায় নুরইসলামকে এ জরিমানা করা হয়। এছাড়া, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট  কেএম মামুনুর রশিদ অসীত সাহা নামে এক দোকানিকে পাঁচশ’ এবং শঙ্কর সাহা নামে আরেক দোকানিকে ১৫শ’ টাকা জরিমানা করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের সময় কাগজপত্র দেখে ৬০ টাকার পেঁয়াজ ৫০ এবং ২০ টাকার আলু ১৪ থেকে ১৭ টাকায় মাইকিং করে বিক্রি করা হয়। এ সময় ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয় ভ্রাম্যমাণ আদালতের পক্ষ থেকে। বলা হয় করোনার এই দুর্যোগের সময় কোনো ব্যবসায়ী যদি ক্রয়মূল্য থেকে অতিরিক্ত মুনাফা করেন তাহলে তাকে জেল জরিমানা করা হবে। অভিযান চলাকালে জেলা বাজার কর্মকর্তা সুজাত হোসেন খান, বাজার পরিদর্শক কুতুব উদ্দিন ও আব্দুস সালাম নামে তিনজন উপস্থিত ছিলেন।
একইদিন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোর পৃথক অভিযান চালায় বড়বাজারের বিভিন্ন দোকানে। অভিযানকালে অতিরিক্ত দাম নেয়া এবং মূল্য তালিকা না থাকার কারণে পাঁচটি দোকানে ২১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিব এ তথ্য জানিয়েছেন। মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা এবং পেঁয়াজ কেনা রশিদের সাথে বিক্রি মূল্যের বিস্তর ফারাক থাকায় সুমা এন্টারপ্রাইজকে আট হাজার, সুমন সাহা স্টোরকে দু’ হাজার,  মেসার্স আব্দুল গনি স্টোরকে তিন হাজার, হালিম স্টোরকে পাঁচ হাজার ও জামাল স্টোরকে তিন হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানকালে দোকান মালিকদের বাধ্যতামূলকভাবে মূল্য তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করার নির্দশ দেয়া হয়। এ সময় বাজারে থাকা সাধারণ মানুষের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।  
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে উপস্থিত ছিলেন এমন একটি সূত্র জানিয়েছে, চাল ব্যবসায়ীরা ক্রয় রশিদ দেখাতে পারেননি। কারণ হিসেবে তারা চাল কেনার আড়ৎ সোনালী স্টোর থেকে পান না বলে জানান। তখন সোনালী স্টোরের মালিক রফিকুল ইসলাম মুল্লুক চাঁদকে ডাকা হয়। তিনি এসে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে জানান, প্রতিদিন চার শতাধিক ব্যবসায়ীর কাছে নগদ এবং বাকিতে চাল বিক্রি করার কারণে রশিদ দিতে পারেন না। তবে, আজ রোববার থেকে প্রত্যেক ক্রেতাকে তার চালকেনা রশিদ দেয়া হবে বলে জানান রফিকুল ইসলাম।
বাজারে অভিযান শুরু হওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে। তারা এই অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে অভিযানে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কেএম মামুনুর রশিদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যতক্ষণ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হবে ততক্ষণ অভিযান চলবে। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft