বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
দক্ষিণের বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনিক নজরদারি বৃদ্ধি
কোয়ারেন্টাইন ও জরিমানা
কাগজ সংবাদ :
Published : Saturday, 21 March, 2020 at 6:35 AM
দক্ষিণের বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনিক নজরদারি বৃদ্ধিবিশ্বে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করার পর বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন হাজারো প্রবাসী। প্রতিদিনই বাড়ছে ফেরার সংখ্যা। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে বা ঘরে থাকার নির্দেশনা দেয়া হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল রয়েছে এই ঝুঁকির মধ্যে। খুলনা বিভাগের বাগেরহাটে কোয়ারেন্টাইনে আছে পাঁচশ’ ৮১ জন, খুলনার কয়রায় ২৭ এবং পাইকগাছায়  নয়জন, মাগুরায় ১শ’ ৩৬ জন, নড়াইল একশ’ নয়জন, ঝিনাইদহে পাঁচ এবং সাতক্ষীরায় একশ’ ৬৯ জন এর মধ্যে একজন সনাক্ত হয়েছে। ঝুঁকির নিয়েই চলছে বিয়ের অনুষ্ঠান, ধর্মীয় সভাসহ জনসমাগমপূর্ণ অনুষ্ঠান।
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সাতক্ষীরায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮২ জনকে হোম করেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে গত চারদিনে সাতক্ষীরায় হোম করেন্টাইনে রাখা হয়েছে ১৬৯ জনকে। এছাড়া সাতক্ষীরায় বিভিন্ন দেশ থেকে বাড়িতে ফেরা ৮ হাজার ৮৬৮ জনের তালিকা করেছে জেলা প্রশাসন। এই প্রথম সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে একজনকে ভর্তি হয়েছেন। সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বাড়ি ওই ব্যক্তি ভারতের আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেন বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার ভারত থেকে ভোমরা বন্দর দিয়ে পার হয়ে সরাসরি সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে এসে ভর্তি হয়।  
জেলা পুলিশের তথ্য মতে, গত পহেলা মার্চ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত ৮ হাজার ৮৬৮ জন লোক বিদেশ থেকে সাতক্ষীরায় এসেছে। এদের মধ্যে প্রায় ৮০% এসেছে ভারত থেকে। জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জন অফিসে তাদের তালিকা পাঠানো হয়েছে।
মাগুরা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মাগুরায় এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগী পাওয়া যায়নি। তবে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ৫৫ জনসহ মোট একশ’ ৩৬ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে।
সিভিল সার্জন ডাক্তার প্রদীপ কুমার সাহা জানান, জেলার চার উপজেলায় বিদেশ থেকে আসা একশ’ ৩৬ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে। জেলা, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে হোম কোয়ারেইটাইনে থাকা বিদেশ ফেরত ব্যাক্তিদের কঠোর নজরদারীতে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মাগুরা জেলায়  মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশসহ ইটালি ও মালোয়শিয়া থেকে আসা একাধিক ব্যক্তি হোম কোয়ারেনটাইন না মেনে পরিবারের সদস্যদের সাথে বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন। স্থানীয়দের এমন অভিযোগ পাওয়ার পর, এসকল ব্যক্তি ও তাদের পবিরারের সদস্যদের এ বিষয়ে সর্তক করা হয়েছে। কোয়ারেন্টাইন না মেনে চললে তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নড়াইল প্রতিনিধি জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে নড়াইলে ১০৯ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। শুক্রবার ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে করোনা প্রতিরোধে সচেতনতা মূলক আলোচনা সভায় এ তথ্য জানান জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন নড়াইল-২ আসনের এমপি মাশরাফি বিন মর্তুজা।
এসময় আরও বক্তব্য দেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ^াস, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, সিভিল সার্জন ডাক্তার মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তারআব্দুস শাকুর, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার মশিউর রহমান বাবু প্রমুখ।এছাড়া এ সময় সরকারি কর্মকর্তা, গণমধ্যম কর্মি, ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
বাগেরহাট প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বাগেরহাট  জেলায় এই পর্যন্ত পাঁচশ’ ৮১ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে চারজনের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনের মেয়াদ শেষে তারা সুস্থ্য রয়েছেন। এখন হোম কোয়ারেন্টাইনে আছে পাঁচশ’ ৭৭ জন।  মার্চের ১ তারিখ থেকে ১৬ তারিখ পর্যন্ত বিশে^র বিভিন্ন দেশ থেকে বাগেরহাট জেলায় ৩ হাজার ৩শ জন প্রবাসী ফিরে এসেছে। বাকি বিদেশ ফেরতদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখতে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ তৎপরতা অব্যহত রেখেছে।  
বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডাক্তার কেএম হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বাগেরহাটের পুলিশ সুপারের মাধ্যমে ইমিগ্রেশন বিভাগের বিদেশ ফেরতদের তালিকা আমার কাছে এসেছে। ইতিমত্যে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটি করা হয়েছে। তারা সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। পাশাপাশি বাকি বিদেশ ফেরতদের বিদেশ ফেরতদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে’।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ জানান, জরুরি সভার মাধ্যমে জেলার সকল সংগঠনকে করোনা সচেতনতা বাড়াতে সত্রিয় করা হয়েছে। কেউ যাতে দ্রব্যমূল্য বাড়াতে না পারে সেজন্য সেজন্য একাধিক মোবাইল টিম কাজ করছে।
চিতলমারি প্রতিনিধি জানিয়েছেন’ বাগেরহাটের চিতলমারীতে সদ্য বিদেশ ফেরতদের মধ্যে সরকারি নির্দেশ অমান্যকারীদের খুঁজতে মাঠে নেমেছেন উপজেলা প্রশাসন। এদের সকলকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়েছিল প্রশাসন। শুক্রবার সকালে নির্দেশ অমান্যকারীদের খুঁজতে বের হয় ভ্রাম্যমান আদালতের একটি টিম।
চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফুল আলম জানান, সম্প্রতি এ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ভারত, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, আমেরিকা, জর্ডান, সিঙ্গাপুর, ওমান, সাইপ্রাস, ইরাকসহ বিভিন্ন দেশ হতে চারশ’ ৪৮ জন বাড়ি ফিরে এসেছেন। তাদের মধ্যে একশ’২২ জনের ১৪ দিন পার হয়ে গেছে। আর বাকি তিনশ’২৬ জনকে নিজ বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়। এদের মধ্যে কেউ সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করছে কিনা তা খুঁজতে মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। তবে এখন পর্যন্ত এ উপজেলায় কোনো করোনা রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরপুর-দূর্গাপুর ইউনিয়নের বিদেশ ফেরত পাঁচজনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুন্দরপুর-দূর্গাপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইলিয়াস রহমান মিঠু।
কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ১৪দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা না মানায় কোটচাঁদপুরের এক প্রবাসীকে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করেছেন। অপরদিকে শুক্রবার পাঁচ শতাধিক আমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়ে বিয়ে অনুষ্ঠান প্রসাশন বন্ধ করে দিয়েছে। একই আদালত বেশি দামে চাল বিক্রি করার অপরাধে দু’চাউল ব্যবসায়ীকে জরিমানা করে।
কোটচাঁদপুর থানার ওসি মাহাবুবুল আলম জানান, উপজেলার সলেমানপুর গ্রামের দাশ পাড়ার এক প্রবাসী কয়েক দিন আগে দেশে ফেরেন। তাকে উপজেলা প্রশাসন থেকে হোম কোয়ারেণ্টাইনে থাকার নির্দেশনা দিলেও তিনি তা না মেনে উন্মুক্ত চলা ফেরা করতেন। এমন খবরে বৃহস্পতিবার বিকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। এরপর ওই আদালত কোটচাঁদপুর শহরের চাউল ব্যবসায়ী দীপংকর অধিকারী এবং রতন কুমার সাহাকে বেশি দামে চাল বিক্রি ও মূল্য তালিকা না থাকার অভিযোগে দু’জনকে ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার  নাজনীন সুলতানা।
এছাড়া শুক্রবার কোটচাঁদপুর মেইন বাসস্টেশন পাড়ার পাঁচশতাধিক আমন্ত্রিত অতিথিপূর্ণ বিয়ের অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। পৌর অডিটোরিয়ামে বিয়ে অনুষ্ঠানটি হওয়ার কথা ছিল।
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, পাইকগাছায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সতর্ক থাকার জন্য জনসাধারণের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে সচেতনতামূলক লিফলেট। বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের জন্য ব্যবস্থা করা হচ্ছে হোম কোয়ারেন্টাইনের। এছাড়াও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানে বিশেষ চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ পর্যন্ত বিদেশ ফেরত ৯ ব্যক্তিকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে ইউএনও জুলিয়া সুকায়না জানিয়েছেন। এ সব ব্যক্তিরা অতিসম্প্রতি কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়া, দুবাই, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এলাকায় এসেছেন। সৌদি আরব থেকে এক ব্যক্তি এলাকায় এসেছেন এমন খবর পেয়ে উপজেলার হিতামপুর গ্রামে গিয়ে ওই ব্যক্তিকে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা দেন ইউএনও জুলিয়া সুকায়না।
কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, খুলনার কয়রা উপজেলায় গত ৫ দিনে বিদেশ ফেরত ২৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টইনে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ভারত ফেরত ২৬ জন আর যুক্তরাষ্ট্র ফেরৎ একজন।
ইতোমধ্যে উপজেলার অভ্যন্তরে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের লক্ষে খুলনা-৬ কয়রা-পাইকগাছা আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যানকে উপদেষ্টা এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে সভাপতি ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসারকে সদস্য সচিব করে ১০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাক্তার সুদীপ বালা বলেন, এ পর্যন্ত যারা হোম কোয়ারেন্টইনে আছে তাদের মধ্যে কোনো করোনা ভাইরাসের লক্ষন দেখা যায়নি। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন মনিটরিং করছে। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft