রবিবার, ০৭ জুন, ২০২০
শিক্ষা বার্তা
প্রাইমারি স্কুল ব্যবস্থাপনায় মূর্খদের দাপাদাপি শেষ
নেতৃত্ব দেবেন শিক্ষিতরাই
এম.আইউব :
Published : Tuesday, 18 February, 2020 at 6:29 AM
নেতৃত্ব দেবেন শিক্ষিতরাইসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে (এসএমসি) শেষ হলো মূর্খদের আধিপত্য। সুযোগ থাকছে না স্বল্প শিক্ষিতদেরও। ফলে, যারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে পৈত্রিক তালুক ভেবে দুর্ব্যবহার করে আসছিল তাদের হাত থেকে রক্ষা পেতে যাচ্ছেন শিক্ষকরা। তাই এক প্রকার হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন। বর্তমানে শিক্ষকদের মধ্যে স্বস্তি বিরাজ করছে।
দীর্ঘদিন পর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি) গঠনে পরিবর্তন এনেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জাহানারা রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে সভাপতি হতে নূন্যতম ¯œাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। একইসাথে বিদ্যোৎসাহী মহিলা ও পুরুষ সদস্যদের এসএসসি পাস হতে হবে। কেবল তাই না, বিদ্যোৎসাহী সদস্যদের অবশ্যই অভিভাবক হতে হবে। যা আগে ছিল না।
ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের নীতিমালায়ও আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ বছর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নীতিমালা অনুযায়ী, নিকটবর্তী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, জমি দাতা কিংবা তার উত্তরাধিকার, স্থানীয় মেম্বর অথবা ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং শিক্ষক প্রতিনিধির বাইরে সকলকে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের অভিভাবক হতে হবে। অভিভাবকদের মধ্যে দু’জন মহিলা ও দু’জন পুরুষ অভিভাবক নির্বাচিত হবেন। বিদ্যোৎসাহী সদস্য স্থানীয় এমপির সাথে পরামর্শক্রমে প্রধান শিক্ষক কর্তৃক মনোনীত হবেন। একই ব্যক্তি একাদিক্রমে দু’বারের অধিক একই বিদ্যালয়ের সভাপতি হতে পারবেন না। বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর মাতা ও পিতা উভয়েরই ভোটাধিকার থাকবে।
শিক্ষকরা জানিয়েছেন, এতদিন রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে মূর্খ কিংবা স্বল্প শিক্ষিত লোকজন প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটিতে আসতো। হতো সভাপতি এবং বিদ্যোৎসাহী সদস্য। তারা কমিটিতে এসে শুরু করতো খবরদারি। ভুক্তভোগী শিক্ষকরা বিভিন্ন সময় অভিযোগ করে আসছেন, এসব মূর্খ লোকজন বিদ্যালয়ে গিয়ে তাদেরকে নানাভাবে হয়রানি ও মানসিক নির্যাতন করতো। সাধারণ শিক্ষকদের দাবি, ব্যবস্থাপনা কমিটিতে গিয়েই মূর্খ এবং অশিক্ষিত লোকজন স্কুলকে পৈত্রিক সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করতো। তারা শিক্ষকের মর্যাদা বুঝতো না। সময় অসময়ে অসম্মানজনক আচরণ করতো। তারপরও মুখ বুঝে সবকিছু সহ্য করতে হতো শিক্ষকদের। কোথাও অভিযোগ করেও ফল পেতেন না শিক্ষকরা।
নীতিমালা পরিবর্তন হওয়ায় হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন শিক্ষক সমাজ। তারা এই নীতিমালাকে যুগান্তকারী বলে উল্লেখ করেছেন। শিক্ষকরা বলছেন, শিক্ষিত লোকজন কমিটিতে আসলে তারা শিক্ষকদের মর্যাদা বুঝবেন। প্রতিষ্ঠানের গুণগত মানোন্নয়নে আন্তরিকভাবে ভূমিকা রাখবেন। ফলে, সামনের দিকে এগুবে শিক্ষা ব্যবস্থা।
এ বিষয়ে যশোর সদর উপজেলার দত্তপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল জব্বার বলেন, নীতিমালা পরিবর্তন হওয়ায় অবাঞ্চিত আচরণের হাত থেকে রক্ষা পাবেন শিক্ষকরা। এর আগে যারা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কমিটিতে আসতো তারা তেমন শিক্ষিত না হওয়ায় যাচ্ছেতাই আচরণ করতো। এ অবস্থার হাত থেকে রক্ষা পাবেন শিক্ষকরা।
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক গাজী শহীদুল ইসলাম বলেন, নীতিমালা পরিবর্তন সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ। কারণ এর আগে অধিকাংশ কমিটির বিভিন্ন পদে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মূর্খ কিংবা স্বল্প শিক্ষিতরা আসতো। তারা শিক্ষার মূল্য বুঝতো না। এ কারণে শিক্ষকদের মর্যাদা তাদের কাছে থাকতো না। তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে পৈত্রিক তালুক মনে করতো। শিক্ষার গণগত পরিবর্তনে তাদের তেমন কোনো ভূমিকা থাকতো না। নতুন নীতিমালায় শিক্ষিত মানুষ কমিটিতে আসলে তারা শিক্ষার উন্নয়নে নানা ধরনের ভূমিকা রাখবেন। মর্যাদা পাবেন শিক্ষকরা।
যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষিত লোকজন চালাবে এটিই স্বাভাবিক। তবে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সভাপতির ক্ষেত্রে একবারে ডিগ্রি পাস বাধ্যতামূলক করা ঠিক হয়নি। প্রথমে এইচএসসি কিংবা এসএসসি করা উচিত ছিল। কারণ ডিগ্রি পাস লোকজন বিভিন্ন পেশাগত কাজে ব্যস্ত থাকেন। তাদের পক্ষে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে পুরোপুরি সময় দেয়া কঠিন।
যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম বলেন, দেশে শিক্ষিতের হার বেড়েছে। এ কারণে শিক্ষাবান্ধব সরকার শিক্ষিত মানুষের প্রতি দরদী হয়ে নীতিমালা পরিবর্তন করেছে। এতে করে শিক্ষিত মানুষকে একদিকে সম্মান দেয়া হয়েছে, অন্যদিকে শিক্ষার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক দিক।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ যশোর শিক্ষাবোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর আমিরুল আলম খান বলেন, নীতিমালা পরিবর্তন কোনো সমাধান না। পিএইচডি ডিগ্রিধারী যদি অসৎ হন তাহলে তার কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা যায় না। আবার অশিক্ষিত লোকজন যদি সৎ হন তাহলে তার দিয়ে অনেক কিছু সম্ভব। এক সময় অশিক্ষিত অনেক সৎ মানুষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতেন। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft