মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২০
জাতীয়
ঘুষ না চাইলে তো কেউ দেবে না : দুদক চেয়ারম্যান
কাগজ ডেস্ক :
Published : Sunday, 16 February, 2020 at 4:33 PM
ঘুষ না চাইলে তো কেউ দেবে না : দুদক চেয়ারম্যান দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, জোর করে কেউ টাকা পকেটে দিয়ে যায় না। ঘুষ না চাইলে তো কেউ দেবে না। চাইতে হলে হাত পাততে হয়।
রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তাদের ‘আয়কর আইন ও বিধানাবলী সংক্রান্ত বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্স ও উপ -করকমিশনারদের রিফ্রেশার্স প্রশিক্ষণ কোর্স’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (প্রশাসন) আরিফা শাহানা।
ইকবাল মাহমুদ বলেন, যে ট্যাক্স দেয়ার কথা সেটি যদি কেউ না দেন তাহলে দুদক আইনে তা আত্মসাৎ বলে গণ্য হবে, আত্মসাৎ করা দুর্নীতি। কারণ সেটা জনগণের টাকা, জনগণের হক। দুদক কখনও গণ্ডির বাইরে গিয়ে কিছু করতে চায় না। আমরা ট্যাক্স সংগ্রহ করি না। ব্যাংকের ঋণ তদারকিও আমরা করি না। কিন্তু ঋণ নিয়ে পালিয়ে গেলে সেটা দেখার দুদকের এখতিয়ার রয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা দুদক কর্মকর্তাদের বলেছি, আগে নিজেরা ট্যাক্স আইনটা জানেন। যৌথভাবে দেখুন। জালের মতো বিছিয়ে আছে ব্যুরোক্রেসি (আমলাতন্ত্র)। আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, আমাদের কোনো ট্যাক্স বেইস নেই। এমন অনেক লোককে আমরা পেয়েছি যার কোনো ট্যাক্স ফাইল নেই কিন্তু বিএমডব্লিও গাড়ি হাঁকাচ্ছে। আমরা যখন দেখতে চাইলাম, এমন দামি গাড়ি কারা চালায়, তখন অনেকে সমালোচনা করেছে। আমরা চাই না কেউ জনগণের হক মেরে পোরশে গাড়ি (এক ধরনের বিলাসবহুল গাড়ি) চালাক।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এমনও লোক আছে ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করেনি কিন্তু ব্যাংক থেকে ১০০ কোটি টাকা নিয়ে চলে গেছে। এটা আমরা বন্ধ করতে চাই। দেশের উন্নয়নকে যদি টেকসই করতে চান তাহলে ইন্টারনাল রিসোর্স সিস্টেম থাকতে হবে।
তিনি বলেন, এনআইডি যার আছে তার ট্যাক্স ফাইল থাকবে না কেন? এই উত্তর এনবিআর (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) কবে দেবেন আমি জানি না। এনআইডি যার আছে তার ট্যাক্স ফাইল থাকতে হবে। ট্যাক্স বৃদ্ধির পক্ষে না। বরং ট্যাক্স কমান কিন্তু ট্যাক্স আদায় নিশ্চিত করেন। কারণ এই দেশের মালিক জনগণের হক যেন কেউ মেরে না যায়।
ক্ষোভ প্রকাশ করে ইকবাল মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে ১৬ কোটি মানুষ। কিন্তু ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করে ২০-২৫ লাখ মানুষ। এর থেকে লজ্জার আর কিছু নেই। এটা একটা জাতীয় লজ্জা। অথচ ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করার অর্থ হচ্ছে আপনি এদেশের মানুষ।
এনবিআরকে উদ্দেশ করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, টাকা মানুষ ঘরে রেখে দেয়। কখনও বাসায় সার্চিং হয় না। হয়তো ইদানীং হচ্ছে। যদি সন্দেহ হয় তাহলে সার্চ করেন। ২০ লাখ লোক ট্যাক্স রিটার্ন দেয় আর ১২ লাখ ট্যাক্স দেয়-এটা সত্যি লজ্জাজনক। দুদক-এনবিআরের মধ্যে আমরা লিঙ্কআপ করতে পারছি না টেকনোলজি না থাকার কারণে।
বাংলাদেশে অবস্থান করা বিদেশিদের অনেকে ট্যাক্স দেয় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, অথচ তাদের খুব সহজেই ধরার সুযোগ আছে। এনবিআর এনআইডি ধরে কাজ করুক, স্পেশাল ব্রাঞ্চ ও ইমিগ্রেশন শাখা সবাই কাজ করুন। ফিঙ্গারিং করুন। কে বেতন পাচ্ছে, কে ওভারটাইম স্টে করছে, ধরেন। চেইনের মধ্যে নিয়ে আসেন। তাদের ধরেন। দুঃখজনক যে এটা হচ্ছে না। জনগণের টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশিরা চলে যাবে সেটা হতে দেয়া যায় না।
ঠিকমতো ট্যাক্স আদায় না হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইকবাল মাহমুদ বলেন, এমন অনেক তথ্য আমাদের কাছে আছে যে, দুই হাজার ডলার বেতন কিন্তু আর্নহ্যান্ড পাঁচ হাজার ডলার। কনসালট্যান্টদের অনেকে ইনকাম ট্যাক্স দেয়। কিন্তু এত এত কনসালট্যান্টদের সুবিধা অন্য কোথাও নেই। তাদের অতিরিক্ত সুবিধা দেয়া, অতিরিক্ত ইনকামের সুযোগ দেয়া টাকা আত্মসাতের শামিল। চৌকিদার- তফাদার যদি দুই হাজার খানার ট্যাক্স আদায় করতে পারেন, তাহলে এনবিআর কেন পারবে না? তাহলে রাজউক, এনবিআর, সিটি করপোরেশন মিলে কেন ঢাকার হোল্ডিংস ট্যাক্স আদায় করা সম্ভব হবে না।
তিনি বলেন, আমরা কোনও সৎ ব্যবসায়ীকে হয়রানি করতে চাই না। বরং তাদের সুবিধা, উন্নতিতে সহযোগিতা করতে চাই। বিনিময়ে তারা ট্যাক্স, রিটার্ন দেবেন।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft