সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
অর্থকড়ি
রাজশাহীতে চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী
ডাঃ মোঃ হাফিজুর রহমান (পান্না), রাজশাহী ব্যুরো
Published : Friday, 24 January, 2020 at 8:16 PM
রাজশাহীতে চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখীরাজশাহীতে হঠাৎ করেই ঊর্ধ্বমুখী চালের বাজার। গত এক সপ্তাহ আগে রাজশাহীর পাইকারী বাজারে চালের দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এখন ধীরে ধীরে খুচরা বাজারেও চালের দাম বাড়ছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ ক্রেতারা। খুচরা বাজারের বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারী আড়ৎ থেকে চাল কিনতে হচ্ছে বেশি দামে। তাই বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দামে।
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, মিলমাকিল কারসাজিতেই বাজারে চালের দাম বাড়ছে। দু’মাস আগেও চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছিল। তখন সরকার ও মিলমালিকদের নিয়ে দফায় দফায় বৈঠকের পর দাম কমে আসে। কিছু দিন নিশ্চুপ থাকার পর চালের দাম বাড়াতে মিলমালিক আবারো তৎপর হয়ে ওঠেছে। সম্প্রতি ধানের দাম বাড়ার অজুহাতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) চালের দাম বাড়ানো হয়েছে ১০০-২০০ টাকা। খুচরা বিক্রেতারা বলেন বাধ্য হয়ে দাম বাড়াতে হচ্ছে।
রাজশাহী নগরীর কাদিরগঞ্জ ও সাহেববাজার চালপট্টির পাইকারী আড়তগুলো ঘুরে জানা যায়, এক সপ্তাহ ধরে চালের দাম বাড়ছে। বর্তমানে এক বস্তা (৫০ কেজি) আটাশ ধানের চাল ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া পারিজা ২ হাজার ৮০০, স্বর্ণা ২ হাজার ৫০০, মিনিকেট ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া ৫০ কেজির বাসমতি চালের বস্তা ২ হাজার ৭০০ এবং নতুন আতব ৪ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। অথচ এক সপ্তাহ আগেও ৮৪ কেজির আটাশ চালের বস্তা ৩ হাজার ১০০ থেকে ৩ হাজার ১৫০ টাকা, পারিজা ২ হাজার ৫০০, স্বর্ণা ২ হাজারর ৩০০, মিনিকেট ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৪০০ এবং বাসমতি চালের ৫০ কেজির বস্তা ২ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
শুক্রবার সকালে মহানগরীর সাহেববাজার চালের বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাইকারী বাজারে চালের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে খুচরা বাজারেও কোনো কোনো দোকানে কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা দাম বেড়েছে চালে। এপি চাল ভা-ারে সকালে আটাশ ৩৮ থেকে ৪২ টাকা, মিনিকেট ৪৬ থেকে ৫০, স্বর্ণা ৩২ থেকে ৩৫, গুটি স্বর্ণা ৩০, জিরাশাল ৪৫ থেকে ৪৮, সিদ্ধ পায়জাম ৫০ এবং বাসমতি ৬০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। দোকানে এই মূল্যতালিকা টাঙিয়ে রাখা হয়।
এপি চাল ভা-ারের বিক্রেতা মিলন প্রসাদ বলেন, তারা এক সপ্তাহ আগে কেনা চাল বিক্রি করছেন। সে জন্য দাম বাড়ানো হয়নি। কিন্তু এক সপ্তাহের মধ্যে যারা চাল কিনেছেন তাদের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বিষয়টি স্বীকার করেন সুবল চাল ভা-ারের বিক্রেতা আবদুল করিম বলেন, আমরা তিন-চার দিন আগে চাল এনেছি। পাইকারী বাজারে চালের দাম বেড়েছে। সে অনুযায়ী আমাদেরও কেজি প্রতি দাম কিছুটা বাড়াতে হয়েছে।
এদিকে চালের দাম বৃদ্ধিতে খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষ বিপাকে পড়েছেন। চাল কিনতে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সেলিম হোসেন নামে এক ব্যক্তি বলেন, হঠাৎ করে চালের দাম বাড়া অযৌক্তিক। কারণ ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। দাম যেন আর না বাড়ে সেই ব্যবস্থা নেয়া দরকার। পাশাপাশি কেন দাম বাড়লো সেটাও তদন্ত করে দেখা দরকার। সেজন্য বিশেষভাবে বাজার মনিটরিং করতে হবে।
দাম বৃদ্ধির কারণ পাইকারী চালের আড়ৎ কাদিরগঞ্জ এলাকার সততা এন্টার প্রাইজের ব্যবস্থাপক শাহজাহান আলী বলেন, আমরা কমিশনে চাল বিক্রি করি। মিলমালিক চাল এনে দেয়ার পর বলে দেন, এই চাল এই দামে বিক্রি করতে হবে। সে অনুযায়ীই আমাদের বিক্রি করতে হয়। তারপর টাকা বুঝিয়ে দিলে আমাদের কমিশন দেয়া হয়। দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে আমাদের কোনো ভূমিকা নেই। এটা মিলমালিকরা করেন। একই কথা বলেন সাব্বির রাইস এজেন্সির ব্যবস্থাপক গোলাম রাব্বানী।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, এবার আমন মৌসুমে কৃষকরা জরুরি প্রয়োজন মেটাতে কম দামে ধান বিক্রি করেছে। এখন কৃষকের ঘরে তেমন ধান নেই। বরং কৃষকের ঘরের ধান এখন মিল মালিকদের কাছে মজুদ রয়েছে। আর কৃষকের ঘরে ধান ফুরিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই বাজারে ধানের দাম বাড়তে শুরু করেছে। ফলে কৃষকের লাভ এখন ভোগ করছে মিল মালিকরা।
তবে মিলমালিকরা বলছেন, বাজারে ধানের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবং সরকারি আমন সংগ্রহ অভিযান শুরু হওয়ায় বেড়েছে চালের দাম। তাছাড়া খাদ্য বিভাগে চাল সরবরাহ করতে মিল মালিকরাও বাজারে ধান কেনার প্রতিযোগিতা শুরু করেছে। এ কারণে বাজারে ধানের দাম বেড়ে গেছে। বর্তমানে বাজারে ধানের দাম অনেক বেশি। তারপরও ধান পাওয়া যাচ্ছে না। আর বেশি দামে ধান কেনায় চালের উৎপাদন খরচ বাড়ছে। ফলে চালের দামও বাড়ছে।
চালের দাম বৃদ্ধি বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রাজশাহী জেলার সহকারী পরিচালক হাসান আল মারুফ জানান, হঠাৎ করে চালের দাম বেড়েছে বলে তিনিও শুনেছেন। রাজশাহীর মিল থেকে শুরু করে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিশেষভাবে মনিটরিং করা হবে। অসাধু উপায়ে দাম বাড়ালে ভোক্তা আইনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft