মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
চলে গেলেন রাবি শিক্ষার্থীদের প্রিয় আবু ভাই
ডাঃ মোঃ হাফিজুুর রহমন (পান্না), রাজশাহী ব্যুরো :
Published : Friday, 17 January, 2020 at 6:21 PM
চলে গেলেন রাবি শিক্ষার্থীদের প্রিয় আবু ভাইমুক্তিযুদ্ধকালীন কিংবা তার আগে থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পরিচিত নাম আবু আহমেদ। ক্যাম্পাসে সবার কাছে ‘আবু ভাই’ নামেই পরিচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন তিনি সত্তর, আশি, নব্বই দশকের আন্দোলনের সাক্ষী হয়ে আছেন। চোখের সামনে দেখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা আন্দোলনের উত্থান ও পতন। সারাদিন প্রাণপ্রিয় ক্যাম্পাসে সময় কাটিয়েছন উৎসাহ, উদ্দীপনা আর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভালবাসায়। তার যেন ভালবাসার কমতি ছিল না। সবার কাছে হয়ে উঠেছিলেন আড্ডার অন্যতম ব্যক্তিত্ব। শুধু আড্ডাই নয়, সকল প্রকার রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনা ও পরিকল্পনার মূল কেন্দ্র ছিল আবুর ক্যান্টিন। না ফেরার দেশে চলে গেলেন রাবি শিক্ষার্থীদের প্রিয় মানুষ আবু আহমেদ ওরফে আবু ভাই।
শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে নগরীর মতিহার থানার হনুফার মোড় এলাকায় নিজ বাড়িতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মৃত্যুর আগে আবু আহমেদের শেষ ইচ্ছা ছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও ‘আবুর ক্যান্টিন’ চালু করা। ‘আবুর ক্যান্টিন’র ইতিহাসটুকু ভবিষ্যতের জন্য রেখে যেতে চেয়েছিলেন। আশঙ্কা করেছিলেন, হয়তো তা আর সম্ভব হবে না। তার সেই আশঙ্কাই সত্যি হল। অধরাই থেকে গেল তার শেষ ইচ্ছা-স্বপ্ন। না ফেরার দেশে চলে গেলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রিয় মুখ ‘আবু ভাই’।
৭৬ বছর পেরোনো আবু আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। ডায়াবেটিস, অ্যাজমা, হাইপ্রেসার, কিডনিসহ নানা রোগে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় সর্বশেষ ১১ দিন ধরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) বাড়িতে নিয়ে আসা হয় তাকে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে আবু আহমেদের ছেলে মো. সেলিম বলেন, শুক্রবার সকালে হঠাৎ করে বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তার পাশে গেলে আমাকে তার পা-টিপে দিতে বলেন। তখন তিনি জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিচ্ছিলেন। এর কিছুক্ষণ পরেই আমার চোখের সামনে বাবা মারা যান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে থেকেই ক্যাম্পাসে ক্যান্টিন পরিচালনা করে আসছেন আবু আহমেদ। তিনি আমাদের একজন অভিবাবক হিসেবে কাজ করতেন। চোখের দিক তাকালেই বুঝতে পারতেন পকেটে টাকা আছে কিনা? টাকা-পয়সা না থাকলেও তিনি আমাদের খাওয়াতেন। আমাদের নানামুখী আবদার রক্ষা করতেন। সত্যিকার অর্থে তিনি ছিলেন একজন উদার মনের মানুষ, শিক্ষার্থীদের মন বুঝতে তার সময় লাগতো না।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft