বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
জাতীয়
বিজয়ের মাস ডিসেম্বর
মোহাম্মদ হাকিম :
Published : Tuesday, 10 December, 2019 at 6:07 AM
বিজয়ের মাস ডিসেম্বর২৬ মার্চ শুরু হওয়া স্বাধীনতা যুদ্ধে ১০ ডিসেম্বর ১৯৭১ পর্যন্ত সময়ে শহীদ হয়েছেন লাখ লাখ বীর বাঙালী। তাদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছে এদেশের মাটি। রক্তরঞ্জিত দিন-মাস পেরিয়ে আজ ১০ ডিসেম্বর। এদিন বাংলাদেশের বেশিরভাগ স্থানেই হানাদারবাহিনী পরাজিত হতে থাকে। আর বাংলার ঘরে ঘরে উড়তে থাকে বিজয় নিশান।
১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর ছিল শুক্রবার। ঢাকায় কারফিউ চলছে। বিদ্যুৎ নেই। পুরো ঢাকা অন্ধকার। ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল (রূপসী বাংলা হোটেল) ও হলি ফ্যামিলি হাসপাতালকে নিরাপদ জোন ঘোষণা করা হয়। বিদেশী কূটনীতিক ও নাগরিকেরা এখানে আশ্রয় নেন। এদিন ভারতীয় মিত্রবাহিনী ঢাকার রেডিও অফিস বোমা মেরে ধ্বংস করে। বন্ধ হয়ে যায় সম্প্রচার। বোমাবর্ষণ চলে চট্টগ্রামে ও চালনা বন্দরে। সকাল থেকে তিন ঘণ্টা যুদ্ধ চলে চালনায়। কমপক্ষে দশটি জাহাজ ধ্বংস হয়।
একাত্তরের আজকের দিনে লাকসাম, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, রংপুর, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া ও খুলনায় প্রচ- লড়াই হয়। রংপুর ও দিনাজপুরের পাকিস্তান সেনারা বগুড়া ও রাজশাহী থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। রাতে বাহাদুরাবাদ ফেরিঘাট মুক্তিবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আসে। লাকসাম মুক্ত হয়। সেখানে প্রায় ৫০০ পাকিস্তানি সেনাসহ কমান্ডিং অফিসার আত্মসমপর্ণ করেন। বিভিন্ন অঞ্চলে পাকিস্তানি ক্যাম্প গুটিয়ে নেয়া হয়। কিন্তু ক্যাম্পের সৈন্যরা তখনো প্রত্যন্ত অঞ্চলে যুদ্ধরত ছিল। হঠাৎ করে ক্যাম্প গুটিয়ে নেয়ার খবর তাদেরও জানানো হয়নি ক্যাম্প থেকে। ফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এসব পাকিস্তানি সৈন্য বিভিন্ন এলাকায় আত্মসর্পণ করতে বাধ্য হয়।
অন্যদিকে, পাকিস্তানিদের পরাজিত করে সর্বত্রই বীর মুক্তিযোদ্ধারা উড়াচ্ছে রক্তস্নাত জাতীয় পতাকা। বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী আর তাদের দোসর আলবদর-রাজাকাররা শেষ আঘাত হানছে। হত্যা ও ধ্বংসের বিভীষিকার তান্ডব চালাচ্ছে ওরা; কিন্তু সব পায়ে দলে এক নদী রক্ত পেরিয়ে বিজয় পতাকা উড়ছে বাংলাদেশের আকাশে। একাত্তরের এদিন ৫৭ নম্বর ডিভিশন গোটা বিশ্বকে দেখিয়ে দিল মিত্রবাহিনী কিভাবে রাজধানী ঢাকার নদীর বাধা অতিক্রম করে। ভোর থেকে ভৈরববাজারের ৩/৪ মাইল দক্ষিণে হেলিকপ্টার করে নামানো হলো ৫৭ নং ডিভিশনের সৈন্য। সারাদিন ধরে মেঘনা অতিক্রমের সেই অভিযান চলে। প্রথম বাহিনীটা ওপারে নেমেই ঘাঁটি গেড়ে বসল। কিছুটা উত্তরে ভৈরববাজারের কাছেই তখন পাকিস্তানি সৈন্যদের বড় একটা মজুদ। ব্রিজটার একটা অংশ ভেঙ্গে দিয়ে নদীর পশ্চিম পাড়ে ওৎ পেতে বসে থাকে হানাদাররা। আকাশে সূূর্য উঠতেই তারা দেখতে পেল হেলিকপ্টার। নদী পার হচ্ছে, তা দেখেও হানাদাররা ঘাঁটি ছাড়তে সাহস পেল না। ভাবল ওটা বোধহয় মিত্রবাহিনীর একটি ধাপ্পা। ওদিকে ছুটে গেলেই আশুগঞ্জ থেকে মূল মিত্রবাহিনীটা ভৈরববাজার-ঢাকার রাস্তা ধরবে।
১৯৭১ সালের আজকের দিনে যুদ্ধপরিস্থিতি যে অবস্থায় এসে দাঁড়ায় তাতে পাকিস্তান বাহিনীর কাছে পরাজয়ের স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে যায়। আত্মসমর্পণের প্রস্তুতি চলে পাকিস্তান শিবিরে। জাতিসঙ্ঘ থেকেও সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়, সাধারণ পরিষদ গৃহীত যুদ্ধবিরতি ও সৈন্য প্রত্যাহারের প্রস্তাব পাকিস্তান মেনে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এদিন ভারত সরকারের সাথে বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারের সাথে ভারতে বাংলাদেশী ১ কোটি শরণার্থী ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে সমঝোতা চুক্তি হয়। এ ব্যাপারে ভারতীয় সরকারের মুখপাত্র জানান, দু’দেশের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে শান্তিপূর্ণভাবে এ চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আগা শাহী জাতিসংঘের রাষ্ট্রদূত উ থান্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহারের দাবি করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী নয়াদিল্লীতে বলেন, যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত জাতিসংঘের আহ্বান ভারত প্রত্যাখ্যান করেনি বা গ্রহণও করেনি। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিজয় শুধু তখনই সম্ভব হবে যখন বাংলাদেশ সরকার কায়েম হবে এবং বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত এক কোটি শরণার্থী তাদের বাস্তুভিটায় ফিরে যেতে পারবে। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft