মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
রাজাকারদের হাতে মিত্রবাহিনীর ছয় সদস্য নিহত
বাঘারপাড়ার খাজুরায় হলো ‘মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ’
চন্দন দাস, বাঘারপাড়া (যশোর) :
Published : Sunday, 8 December, 2019 at 6:20 AM
বাঘারপাড়ার খাজুরায় হলো ‘মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ’যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার খাজুরা ও এর আশপাশের মুক্তিযোদ্ধাদের দীর্ঘ দিনের দাবি অবশেষে পূরণ হতে চলেছে। খাজুরায় রাজাকারদের হাতে নিহত মিত্রবাহিনীর ছয় সদস্যের স্মৃতিতে নির্মিত হচ্ছে সৌধ। ১৬ ডিসেম্বরের আগেই নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে বলে ঠিকাদার জানিয়েছেন। সরকারের এ কর্মকান্ডকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এখানকার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষেরা।
যে স্থানে রাজাকারদের গুলিতে মিত্র বাহিনীর ছয় সদস্য নিহত হন তারই পাশে স্কুলের দেয়া পাঁচ শতক জমিতে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে এই সৌধ। এটি নির্মিত হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ‘মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্থানসমূহ সংরক্ষণ ও মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ’ প্রকল্পের অধীনে।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা জানান, ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর সকালে রাজাকাররা মিত্রবাহিনীর ছয়জনকে গুলি করে হত্যা করে এবং একজন সদস্য আহত হন। পরে মিত্র বাহিনী রাজাকারদের ক্যাম্প ধ্বংস এবং তাদের প্রত্যেককে হত্যা করে। ঠিক সেই স্থানেই নির্মাণ করা হচ্ছে ‘মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি সৌধ’।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা আরও জানান, ৬ ডিসেম্বর যশোর মুক্ত হওয়ায় পরদিন সকালে মিত্র ও মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা ট্যাংক-গাড়িবহর নিয়ে ঢাকা অভিমুখে যাচ্ছিলেন। যাওয়ার সময় তারা খবর পান খাজুরায় রাজাকার ক্যাম্পে মিত্রবাহিনীর ছয় সদস্য নিহত ও একজন আহত হন। এরপর সেখানে রাজাকারদের সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়া হয়।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা বলেন, মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগ থেকেই খাজুরা এমএনমিত্র (মনিন্দ্র নাথ) মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক পাশে রাজাকাররা ক্যাম্প তৈরি করে। খাজুরার মথুরাপুরের ইব্রাহিম ডাক্তারের নেতৃত্বে রাজাকাররা সেখানে নৃশংস কর্মকা- করতো। যুদ্ধ শুরুর পর তারা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোকজনসহ নিরীহদের ধরে এনে হাত-পা বেঁধে নৃশংস কায়দায় হত্যা করে পাশে চিত্রা নদীতে ভাসিয়ে দিতো। আশপাশের লোকজনের গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি ধরে এনে জবাই করে খেতো। নারীদের সম্ভ্রম লুট করতো। আমরা কয়েকদফা চেষ্টা করেও তাকে হত্যা করতে ব্যর্থ হয়।
স্মৃতি হাতড়ে তিনি (মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা) বলেন, ‘একদিন রাতে আমরা ওমেদ আলীর হলদিবাগানে অ্যাম্বুশ করি। আমাদের কাছে খবর ছিল, রাজাকাররা ধান্যখোলা যাবে। কিন্তু কে বা কারা বিষয়টি ইব্রাহিম রাজাকারকে জানিয়ে দেয়। তখন অতর্কিতে রাজাকাররা আমাদের ওপর হামলা করে। এতে বাঘারপাড়ার খাজুরা এলাকার পান্তাপাড়া গ্রামের মাজিদ শহীদ হন, পায়ে গুলিবিদ্ধ হন আতিয়ার নামে আরো একজন মুক্তিযোদ্ধা। পরে আমরা গুলি করতে করতে বেরিয়ে আসি’।
মুক্তিযোদ্ধারা জানান, ওইদিন কৌশলে ইব্রাহিম ডাক্তার সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে অবশ্য তাকে নিমটা এলাকা থেকে মুক্তিযোদ্ধারা ধরে আনেন। চুন-কালি আর জুতারমালা পরিয়ে গোটা বাজার ঘুরানোর পর তাকে হত্যা করা হয়।
এদিকে, মুক্তিযুদ্ধে খাজুরায় মিত্রবাহিনীর ছয় সদস্য নিহত হওয়ার পর স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা তাদের স্মৃতি অম্লান রাখার উদ্দেশ্যে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণে দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন।
মুক্তিযোদ্ধা অরুণ কুমার খাঁ বলেন, তাঁদের যে বলিদান, সেই ঋণ শোধ হওয়ার নয়। তবে, আগামী প্রজন্ম যাতে তাদের জীবনদানের কাহিনী জানতে পারে, সেলক্ষ্যে এখানে স্মৃতি সৌধ নির্মাণের আকাক্সক্ষা।
শহীদ মিত্র ও মুক্তিবাহিনী স্মৃতি পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক গোপীকান্ত সরকার ও সাধারণ সম্পাদক মশিয়ার রহমান জানান, এখানে একটি স্মৃতি সৌধের জন্য আমরা ১৯৯৭ সাল থেকে আবেদন নিবেদন করে আসছি। ২০১০ সালের ২৩ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক নূহ্ উল-আলম লেনিনকে একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এনে তাকে দিয়ে আমরা স্মৃতি ফলক উন্মোচন করাই। দীর্ঘদিন পর আমাদের সেই দাবি পূরণ হয়েছে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft