রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০
সারাদেশ
টাঙ্গাইলের বিদ্যুৎ বিভাগে কর্মরত রুবেলের বিরুদ্ধে ১লক্ষ টাকা আ্ত্মসাতের অভিযোগ
শামছউদ্দিন সায়েম, টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি :
Published : Friday, 6 December, 2019 at 8:55 PM
টাঙ্গাইলের বিদ্যুৎ বিভাগে কর্মরত রুবেলের বিরুদ্ধে ১লক্ষ টাকা  আ্ত্মসাতের অভিযোগটাঙ্গাইল সদর উপজেলার পোড়াবাড়ী ইউনিয়নের বাউসাইদ খারজানা উত্তর পাড়া গ্রামের মেছের আলী’র ছেলে রুবেল(২৫)রানার বিরুদ্ধে এক লক্ষ টাকা  আত্মসাৎ এর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রুবেল রানা  বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ টাঙ্গাইল কচুয়াডাঙ্গা বিদ্যুৎ অফিসে সহকারী হেলপার হিসেবে কর্মরত আছেন । ৫বছর যাবৎ সে বিদ্যুৎ অফিসে কাজ করে। প্রায় আট মাস পূর্বে  বিদ্যুৎ লাইনের বাঁশ/সিমেন্টের খুটি, ও তার সংযোগ দেওয়ার কথা বলে গ্রামবাসীর নিকট থেকে তিনি এ  টাকা আদায় করেন ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী গ্রামবাসীরা টাঙ্গাইল সার্কেলের অন্তর্গত-২ বিউবো,টাঙ্গাইল দপ্তরের আওতাধীন ১১ কেভি বেলতা ফিডারের অধীন বাউসাইদ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণীর বিদ্যুৎ গ্রাহক। গ্রামে দীর্ঘদিন যাবৎ বিদ্যুৎ লাইনের বাঁশ/সিমেন্টের খুঁটি ও নিম্নমানের তার ব্যবহার করার কারনে নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। বিদ্যুৎ লাইনে বাঁশের খুঁটি থাকার কারনে খুটি ভাঙ্গিয়া তার ছিড়ে মাঝে মধ্যেই দূর্ঘটনা ঘটে থাকে।
এ ছাড়াও গ্রামবাসীর অভিযোগ ইরি মৌসুমে লো-ভোল্টেজ সমস্যার কারনে সেচ মেশিন চালানো খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। উপরোক্ত বিষয়ে বিদ্যুৎ লাইন মেরামতের জন্য বিবিবি-২ কচুয়াডাঙ্গা , টাঙ্গাইর অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলীর নিকট একাধিকবার সাক্ষাৎ করিলেও কোন প্রকার প্রতিকার পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে গ্রামবাসী বিদ্যুৎ অফিসে মাষ্টার রোলে কর্মরত রুবেল রানার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ট্রান্সমিটার , বিদ্যুৎ খুটি ও তার বাবদ ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দাবী করে লাইন মেরামতের আশ্বাস প্রদান করেন। অসহায় গ্রামবাসী রুবেল রানা কে বিশ্বাস করে ১ লক্ষ টাকা প্রদান করলেও দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও কাজের কোন অগ্রগতি মেলেনি।  গ্রামবাসী রুবেল রানার সাথে বারবার যোগাযোগ করলেও তিনি কোন প্রকার কর্নপাত করেননি ।
এ ব্যাপারে পরিচালনা ও সংরক্ষন সার্কেল বিউবো ,টাঙ্গাইল এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর নিকটে  কৃষি আবাদ রক্ষার্থে বাঁশ/সিমেন্টের খুঁটি ও নিম্নমানের তার পরিবর্তন করে নতুন খুঁটি ও তার সংযোগ সহ বিদ্যুৎ লাইন মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান গ্রামবাসী।
এ প্রসঙ্গে ভুক্তভোগি আতিকুর রহমান ,শহর চাঁন মিয়া, জাকির হোসেন,জিন্নত ব্যাপারি ও আঁখলিমা বেগম বলেন, আমরাতো গ্রামের  সহজ-সরল মানুষ বিদ্যুৎ সম্পর্কে তো এতো সতো বুঝিনা । রুবেল গ্রামের ছেলে দেখি বিদ্যুৎ লাইনের কাজ করে,তাই একদিন লাইনের ব্যাপারে তাকে জানালাম। তখন  রুবেল  আমাদের নিকট ১লক্ষ ২০ হাজার টাকা চাইলো। কিন্তু আমরা সবাই মিলে তাকে ১লক্ষ টাকা দিলাম। বলেছিল কিছুদিনের মধ্যে লাইন লাগিয়ে দিবে। কিন্তু  সাত/আট মাস হয়ে গেল এখন পর্যন্ত খুঁটি ও বিদ্যুৎ লাইন লাগিয়ে দেয়নি।
তারা আরো বলেন,আমাদের খেতে পানি দিতে পারছি না। খেত গুলি মরে যাচ্ছে পানি না দেওয়ার কারণে। আমাদের ১৭/১৮টা স্কিম মেশিন চালাতে হয়। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে সব গুলি মেশিন বন্ধ আছে  ।
এ প্রসঙ্গে রুবেল রানার সাথে যোগাযোগ করা  হলে তিনি জানান, আমি গ্রামবাসীর নিকট থেকে ১ লক্ষ  টাকা নিয়ে শামছুল আলম নামে এক ঠিকাদারকে দিয়ে ছিলাম।
অফিস সূত্রে জানা যায়,শামছুল আলম হলেন মেসার্স খান পাওয়ার প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার । তিনি টাঙ্গাইলের বিসিক তারুটিয়া বসবাস করেন।
এ বিষয়ে মুঠো ফোনে ঠিকাদার শামছুল আলমকে প্রতিবেদক টাকা প্রাপ্তির ব্যাপারে প্রশ্ন করলে রুবেল রানার নিকট থেকে কোন প্রকার টাকা পায়নি বলেও জানান তিনি।
এ ব্যাপারে বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ টাঙ্গাইল কচুয়াডাঙ্গা বিদ্যুৎ অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম আহমেদ ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।  
পরিচালনা ও সংরক্ষণ সার্কেল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ তোফাজ্জল হোসেন প্রামানিক বলেন,আমি গ্রামবাসীর কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। গ্রাম বাসী আমাকে লিখিত অভিযোগ করলে সরেজমিনে গিয়ে যদি প্রমান পাই তাহলে এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft