শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২০
জাতীয়
আজ গণতন্ত্র মুক্তি দিবস
কাগজ সংবাদ
Published : Friday, 6 December, 2019 at 6:59 AM
আজ গণতন্ত্র মুক্তি দিবসগণতন্ত্র মুক্তি দিবস আজ। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচার এরশাদ পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়। দেশ গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় সামিল হয়। সেই থেকে রাজনৈতিক দলগুলো প্রতি বছর ৬ ডিসেম্বরকে গণতন্ত্র মুক্তি দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।
১৯৮৪ সালের ২৪ মার্চ একটি নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে জেনারেল এরশাদ। দীর্ঘ আট বছর নয় মাস তিনি ক্ষমতায় ছিলেন। দীর্ঘ এ শাসনামলে তিনি ক্ষমতা নিরঙ্কুশ করতে বিভিন্ন দল থেকে লোক ভাগিয়ে রাজনৈতিক দলের জন্ম দেন। মন্ত্রীত্বসহ উচ্চ পদগুলোতে রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষী ও পতিতদের বসান। এরশাদের আমলে পতিত রাজনীতিকদের অবস্থা এমন অবস্থায় এসে দাঁড়ায় যে, ঢাকা থেকে এরশাদ সরকারের মন্ত্রীসভায় যোগ দিয়ে নিজ এলাকায় ফিরে আসার আগেই অনেক নেতার মন্ত্রীত্ব কেড়ে নেয়া হয়। রাষ্ট্রক্ষমতাকে একটি বাজারে বিষয়ে পরিণত করেছিলেন সাবেক এই সামরিক শাসক।
এরশাদ ক্ষমতা দখলের পর পরই সকল রাজনৈতিক কর্মকা- নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। এমনকী, তার বা তার অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে আকারে ঈঙ্গিতে কোনো কথা বলাও নিষিদ্ধ ছিল সে সময়। গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক নেতাদের ওপর চালানো হয় নির্যাতনের স্টিম রোলার। কিন্তু, এরশাদের সেই হুঙ্কারে ভীত না হয়ে প্রথম রাস্তায় নেমে আসে ছাত্র সমাজ। বিশেষ করে বামপন্থী ও প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলো একের পর এক কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন ছড়িয়ে দেন পুরো দেশে। একে একে এই আন্দোলনে যুক্ত হয় রাজনৈতিক দলগুলো। পাঁচদল, সাতদল এবং আটদল যুগপৎ আন্দোলনের মাধ্যমে আন্দোলনের দাবানল ছড়িয়ে দেয়। এই আন্দোলনে যুক্ত হয় আদমজিসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় কল-কারখানার শ্রমিকরাও।
এরশাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন নূর হোসেন, ডাক্তার মিলনসহ অসংখ্য ছাত্ররাজনৈতিক নেতাকর্মী। প্রথম বুদ্ধিজীবী শহীদ যশোরের দৈনিক রানার সম্পাদক কমরেড গোলাম মাজেদ। তিনি এরশাদের ভন্ডামি আর দুঃশাসনের বিরুদ্ধে দৈনিক রানারের পাতায় একের পর এক সংবাদ প্রকাশ করেছেন আর কারাবরণ করে নির্যাতিত হয়েছেন। সর্বশেষ আটকের পরে তাকে সিলেট কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অমানুষিক নির্যাতনের পর অসুস্থ হয়ে পড়লে নিশ্চিত মৃত্যু জেনে তাকে মুক্তি দেয় সামরিক সরকার। যশোরে ফিরে আসার পর ১৯৮৪ সালের ১০ এপ্রিল তৎকালীন সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য চৌরাস্তায় গোলাম মাজেদের জন্যে সংবর্ধনার আয়োজন করে। কিন্তু, তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১০ এপ্রিল গোলাম মাজেদ শাহাদৎবরণ করেন। তাঁর লাশ নিয়ে আসা হয় চৌরাস্তার সংবর্ধনা সভায়। সেই সভা থেকে ছাত্র নেতাকর্মীরা এরশাদ পতনের আগ পর্যন্ত ঘরে ফিরে যাবেন না বলে শপথ গ্রহণ করেন।
গণআন্দোলন এক পর্যায়ে গণঅভ্যূত্থানে রূপ নিলে এরশাদ ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন। এর আগে ১৯ নভেম্বর তত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা প্রণয়ন করে তৎকালীন তিন জোটের নেতারা। যার আলোকে প্রধান বিচারপতির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে বিদায় নেন। পরবর্তীতে বিচারপ্রতি শাহাবুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত নির্দলীয় তত্ববধায়ক সরকারের নেতৃত্বে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দেশ ফিরে আসে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায়। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft