শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২০
অর্থকড়ি
কেজিতে চালের দাম বেড়েছে চার থেকে ছয় টাকা
ইউ কে বিশ্বাস :
Published : Sunday, 17 November, 2019 at 6:36 AM
কেজিতে চালের দাম বেড়েছে চার থেকে ছয় টাকা যশোরে পেঁয়াজের সাথে এবার চালের বাজারও আগুন। চাল প্রতি কেজিতে চার থেকে ছয় টাকা বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে মিল মালিকদের খামখেয়ালিপনায়। তারাই ইচ্ছামতো দাম বৃদ্ধি করছে। মিল মালিকরা যে দর বেধে বাজারে চাল পাঠায়, সেই দরের কমেও চাল বিক্রি করেন বলে দাবি করেন আড়তদাররা। তবে ক্রেতারা কোনো সিন্ডিকেট চক্রের বলি হতে চান না। তারা চালের দাম ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
যশোরের বড় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিকেজি চালে চার থেকে ছয় টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিআর-১০ বাজারে বিক্রি না হলেও বিআর-২৮ বিক্রি হচ্ছে ৩৩ থেকে ৩৪ টাকায় আর প্রতিবস্তা (২৫ কেজি) বিক্রি হচ্ছে আটশ ২৫ থেকে আটশ ৫০ টাকায়। যা কয়েকদিন আগে বিক্রি হয়েছে ৩০ থেকে ৩১ টাকায়। প্রতি বস্তার দাম ছিল সাতশ ৫০ থেকে সাতশ ৭৫ টাকা পর্যন্ত।
কাজল লতা বিক্রি হচ্ছে ৩৬ থেকে ৩৭ টাকায়, যা কয়েকদিন আগেও ছিল ৩২ টাকা। আর প্রতি বস্তার দাম এখন নয়শ টাকা। যা ছিল সাতশ ৫০ থেকে আটশ টাকার মধ্যে। সুপার মিনিকেট কয়েকদিন আগে ছিল ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা, আর প্রতিবস্তার দাম ছিল আটশ ৭৫ থেকে নয়শ টাকার মধ্যে। আর এখন দাম নেয়া হচ্ছে প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৪২ টাকায়। আর ২৫ কেজি বস্তার দাম পড়ছে এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০ টাকায়। প্রতিকেজি মিনিকেট চাল দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ টাকা। অথচ চার/পাঁচ দিন আগেও বিক্রি হয়েছে ৩৪ টাকায়। মিনিকেট চালের ২৫ কেজি বস্তার দাম পড়ছে নয়শ ৫০ টাকা। যার দাম ছিল আটশ ৫০ টাকা। প্রতিকেজি বাসমতি চালের দাম পড়ছে ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা। আর এক বস্তার (২৫ কেজি) দাম পড়ছে এক হাজার একশ ৫০ থেকে এক হাজার দু’শ টাকা। যা আগে বিক্রি হচ্ছিল ৩৮ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে এবং প্রতিবস্তার দাম ছিল নয়শ ৫০ থেকে এক হাজার টাকা।
এলসি বা মোটা চালের দাম বৃদ্ধি হয়নি। বাজারে প্রতিকেজি স্বর্ণা চাল বিক্রি হচ্ছে ২৭ টাকা। আর প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) স্বর্ণা চাল বিক্রি হচ্ছে এক হাজার দু’শ ৫০ থেকে এক হাজার তিনশ টাকায়। সাধারণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ মৌসুমে যদি কৃষকের কাছে ধান থাকতো তাহলে দাম এতো বৃদ্ধি পেতো না। এখন সব ধান মিলমালিকের হাতে। তাই তারা ইচ্ছামতো দাম বৃদ্ধি করছেন। বাজারে দাম কমাতে হলে মিল মালিক সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
এদিকে, যশোর বড় বাজারের চালের আড়তদার সোনালী স্টোরের ম্যানেজার মহব্বত আলী মিন্টু বলেন, তাদের চালের দর বৃদ্ধি বা কম নিয়ে কিছু করার নেই। মিল মালিকরা যে দর বেধে দেন তাই তারা বিক্রি করেন। তবে মাঝেমধ্যে মিল মালিকদের বেধে দেয়া দরের চেয়েও কম দামে তারা চাল বাজারে (পাইকারি) বিক্রি করেন।
আহম্মেদ আলী নামে এক ব্যাংকার সাত/আট দিনের চালের বাজারের বর্ণনা দিয়ে বলেন, দেশে এখন কোন বন্যা বা খরা নেই। অথচ চালের দাম বেড়ে গেল। তিনি চাকরি করেন বিধায় বর্ধিত দামে তার তেমন সমস্যা না হলেও যারা স্বল্প আয়ের মানুষ তারা কী করে বাড়তি দামে চাল কিনবেন?
আরজি রাইসের অধীর অধিকারী বলেন, ভারত থেকে চাল আসছে না। কারণ দেশের কৃষক যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সে জন্যে শতকারা ৫৫ ভাগ ভ্যাট দিতে হচ্ছে। যার কারণে চাল আমদানি করতে পারছে না ব্যবসায়ীরা। যার কারণে বাজারে দাম বৃদ্ধি হতে পারে।
উত্তম ট্রেডার্সের চিত্তরঞ্জন সাহা বলেন, কৃষকের ঘরে যদি ধান থাকতো তাহলে চালের দাম ৫০ পয়সা থেকে এক টাকা বৃদ্ধি পেতো। কিন্তু সব ধানই মিল মালিকরা কিনে নেয়। ফলে কারণে কৃষকের ঘরে কোন ধান মজুদ নেই।   
তবে বড় বাজারের একাধিক খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতা বলেন, মিল মালিকদের সিন্ডিকেট যদি ভাঙা না যায় তাহলে চালের দাম আরও বৃদ্ধি পাবে। কারণ চালের বাজার এখন তাদের হাতে। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft