বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল, ২০২০
অর্থকড়ি
যশোরের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কমে গেছে
কাগজ সংবাদ :
Published : Sunday, 17 November, 2019 at 6:36 AM
যশোরের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কমে গেছে যশোরের বাজারে আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে পেঁয়াজের আমদানি। অব্যাহত মূল্য বৃদ্ধির কারণে পাইকাররা বাজারে পেঁয়াজ তোলা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন। যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। এভাবে আরও কয়েকদিন চললে বাজার পেঁয়াজশূন্য হওয়ার আশঙ্কা করছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। তবে, বিদেশ থেকে আমদানি শুরু হলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে মত দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
যশোরের বড়বাজারে প্রায় ৫০জন আড়তদার রয়েছেন। গতকাল তাদের অধিকাংশকেই অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে হাতে গোনা কয়েকজন পাইকার সামান্য কয়েকবস্তা পেঁয়াজ নিয়ে আসলেও ক্রেতার অভাবে তা ফিরিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
বাজারের আড়ৎতার নিউ মদিনা ভান্ডারের সত্ত্বাধিকারী শেখ জিয়া দৈনিক গ্রামের কাগজকে জানান, সাধারণত ফরিদপুর, কুষ্টিয়া এবং রাজবাড়ি এলাকার কিং পেঁয়াজ যশোরের বাজারে নিয়ে আসেন পাইকাররা। এসব পেঁয়াজ রাখি করে সারা বছর বিক্রি হয়। কিন্তু, গত বছর পেঁয়াজ চাষিরা ব্যাপক ক্ষতির শিকার হওয়ায় এবছর চাষ করেছেন কম। সে কারণে পাইকাররা মোকামগুলোতে সেভাবে আর পেঁয়াজ পাচ্ছে না। যার প্রভাব পড়েছে বাজারে।
তিনি জানান, শনিবার হাতে গোনা কয়েকজন পাইকার সামান্য কয়েকজন বস্তা পেঁয়াজ নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু কোন ক্রেতা তা নিতে রাজি হননি। বাধ্য হয়েই তারা সেগুলো ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন।
এর কারণ কী জানতে চাইলে শেখ সিরাজ বলেন, ‘পাইকাররা মোকামগুলো থেকে ২০৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। সেই পেঁয়াজ লেবার ও পরিবহন খরচ মিলিয়ে যশোরে নিয়ে আসতে ২০৮ থেকে ২১০ টাকা পড়ছে। কিন্তু, খুচরা বিক্রেতারা শনিবার কোন পেঁয়াজই ২০০ টাকার ওপরে কেজিতে কিনতে রাজি হননি। আবার এই দামে বিক্রি করলে পাইকারদের লোকসান হবে। সে কারণে তারা পেঁয়াজ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন।’
এদিকে, শনিবার যশোরের বাজর ঘুরে দেখা গেছে পেঁয়াজ বিক্রি অনেক কমে গেছে। খুচরা দোকানিরা জানিয়েছেন প্রতিটি ক্রেতাই আগের থেকে পেঁয়াজ কেনা কয়েকগুণ কমিয়ে দিয়েছেন। আগে দিনে এক থেকে দেড় মণ পেঁয়াজ বিক্রি হলেও এখন পাঁচ/দশ কেজির বেশি বিক্রি করতে পারছেন না। আবার সরকার বিমানে পেঁয়াজ আমদানি করছে খবরে শনিবার বাজারে কেজিপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা দাম কমে গেছে। অথচ শুক্রবার সেই পেঁয়াজ বেশি দামে কিনতে হয়েছে। যা এখন লোকসানে বিকোতে হবে। সে কারণে খুচরা বিক্রেতারাও পেঁয়াজ কেনা কমিয়ে দিয়েছেন।
জজমজ বাণিজ্য ভান্ডারের মানেজার মো. মিন্টু জানান, শুক্রবার যশোরের পাইকারি বাজারে ২০০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে। সেই পেঁয়াজ শনিবার বিক্রি হয়েছে ২১০ থেকে ২১৫ টাকা কেজিতে। এসব পেঁয়াজের মাণও খুব একটা ভালো না-ফাটা আর পঁচা। এসব পেঁয়াজ মিশর থেকে আমদানি করা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন মজুদ থাকা আর বৃষ্টির পানি লাগার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এসব খুচরা বিক্রেতারা কিনতে চাচ্ছে না। আবার পাইকাররা আগের থেকেই দাম নির্ধারণ করে দিয়ে বলছে তার নিচে বিক্রি করা যাবে না।
যশোরের বাজারে পেঁয়াজের সঙ্কট তৈরি হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে নিউ মদিনা ভান্ডারের সত্বাধিকারী শেখ জিয়া বলেন, সরকার আমদানি শুরু করলেই পেঁয়াজের কোনো সঙ্কট থাকবে না, দামও পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাবে। কার্গো বিমানে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে খবরেই একদিনে বাজারে ১৫ থেকে ২০ টাকা দাম কমে গেছে বলেও তিনি দাবি করেন।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft