বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২০
অর্থকড়ি
লাগামহীন পেঁয়াজের বাজার
প্রতিকেজি সর্বোচ্চ ২৭০ টাকা
বিক্রেতারাও মাল তুলছেন না
কাগজ ডেস্ক :
Published : Saturday, 16 November, 2019 at 6:55 AM
প্রতিকেজি সর্বোচ্চ ২৭০ টাকাঅস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে পেঁয়াজের বাজারে। মূল্য বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় গতকালও যশোরসহ খুলনা বিভাগের দশ জেলায় দাম বেড়েছে ঘণ্টায় ঘণ্টায়। যশোরের বড় বাজার, রেলস্টেশন বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে সকালে ২৪০ টাকায় প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হলেও বিকেলে দিকে তা বেড়ে ২৬০ টাকায় পৌঁছে। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে শুক্রবার এ এলাকার সর্বোচ্চ ২৭০ টাকা কেজি দামে পেঁয়াজ বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে, অনেক এলাকায় ২২০ থেকে ২৪০ টাকার মধ্যেই পেঁয়াজ বেশি বিক্রি হয়েছে।
প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য থেকে জানা যায়, অনেক এলাকায় দোকানিরা পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন। বেশি দামে কিনতে চাইলেও কয়েক স্থানে পেঁয়াজের সরবরাহ না থাকায় খালি হাতে ফিরতে হয়েছে ক্রেতাকে। বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৪০ থেকে ২৬০ টাকায়। কয়রায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের ভয়ে আড়ৎদাররা পেঁয়াজ বিক্রিই বন্ধ করে দিয়েছেন। কয়রার খুচরা বাজারের মাত্র একটি দোকানে শুক্রবার পেঁয়াজ বিক্রি করতে দেখা গেছে।
যশোরের বাজারগুলোতে শুক্রবার সকালের দিকে ২৩০ টাকা থেকে ২৪০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি হতে দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার এই দাম ছিল ২০০ টাকা আর বুধবার ছিল ১৬০ টাকা। শুক্রবার বিকেলের মধ্যে পেঁয়াজের দাম ওঠে ২৫০ টাকা থেকে ২৬০ টাকায়। এই দাম আরও বাড়তে পারে বলে দোকানিরা জানিয়েছেন। তাদের দাবি বাজারে সরবরাহ কম বলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নতুন পেঁয়াজ না ওঠা পর্যন্ত এই দাম কমবে বলে মনে করেন তারা।
যশোরের পার্শ্ববর্তী কয়েকটি বাজারে খোঁজ নিয়ে পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধির খবর জানা গেছে। এগুলোর মধ্যে সদর উপজেলার হাশিমপুর বাজারে ২৫০ টাকা, রাজারহাটে ২৪০ চল্লিশ টাকা, চুড়ামনকাঠিতে ২২০ টাকা, রূপদিয়া বাজারে ২৬০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে।
যশোরের মণিরামপুর থেকে জাহাঙ্গীর আলম জানান, উপজেলার পৌর কাঁচা বাজারে শুক্রবার ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে। বাজারের পাইকার আব্দুল আলিম, রকিব ও আবু জাফর জানান, বাজারে দুই গ্রেডের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। প্রথম গ্রেডের পেঁয়াজ ১৮০ টাকা কেজি পাইকারি ও প্রথম গ্রেডের পেঁয়াজ ২০০ টাকা কেজিতে কিনেছেন খুচরা বিক্রেতারা। তারা এসব পেঁয়াজ ২০০ ও ২২০ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছেন। তবে, পাইকার রকিব জানিয়েছেন, বেলা বৃদ্ধির সাথে সাথে পেঁয়াজের দামও বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে তার ২৫০ টাকা কেজিতেও বিক্রি হয়েছে। তার পরও অনেক ক্রেতা পেঁয়াজ পাননি। বাজারে বর্তমানে পেঁয়াজের আকাল চলছে বলে ক্রেতা-বিক্রেতারা জানিয়েছেন।
যশোরের অভয়নগর পৌর প্রতিনিধি জানান, উপজেলার নওয়াপাড়া বাজারে গত ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজিতে ফের ৬০ টাকা বেড়ে ২৬০ টাকা বৃদ্ধি হয়েছে। গত মঙ্গলবারের তুলনায় দাম বেড়েছে ১২০ টাকা। খুচরা দোকানি মোস্তফা শেখ জানান, পাইকার নাসির সরদারের কাছ থেকে ২৪০ টাকা দরে ২০ কেজি পেঁয়াজ কিনে তা ২৫০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। আড়তদার নূর আলী জানান, দাম বেশি হওয়ায় তিনি পেঁয়াজ কেনেন নি। শুক্রবার বাজার ঘুরে জানা গেছে, সকালে বাচ্চু কাজীর মেসার্স সততা ভান্ডার থেকে নয় বস্তা, নাসির সরদারের মেসার্স আল্লার দান ভান্ডার থেকে ১০ বস্তা এবং ফরিদ সরদারের মেসার্স সরদার বীজ ভান্ডার থেকে ছয় বস্তা পেঁয়াজ ২২০ টাকা থেকে ২৪০ টাকা কেজিতে পাইকারি বিক্রি হয়েছে। এই ২৫ বস্তা পেঁয়াজ শুক্রবার সকালেই আসে ফরিদপুরের কালিনগর বাজার থেকে।
বাঘারপাড়া থেকে চন্দন দাস জানান, শুক্রবার সকালে বাঘারপাড়া বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২২০ টাকা কেজিতে। বৃহস্পতিবার এই দাম ছিল ১৯০ থেকে ২০০ টাকা কেজি।
ঝিকরগাছা থেকে ইমরান রশীদ জানান, বাজারে পেঁয়াজ বিক্রির পরিমাণ কমেছে। নিতান্ত যতটুকু না হলে নয়, মানুষ ততটুকুই কিনছেন। যারা এক কেজির কমে কখনো পেঁয়াজ কেনেননি তারা এক পোয়া কিনেছেন। পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারাও কম করে পেঁয়াজ উঠিয়েছেন। শুক্রবার বাজার ঘুরে এই পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। ঝিকরগাছা বাজারে দোকানিরা এক পোয়া করে পেঁয়াজের দাম হাঁকাচ্ছেন। প্রতি পোয়ার দাম ছিল ৫৫ টাকা। সেই হিসেবে ২২০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে। তবে বেলা বৃদ্ধির সাথে সাথে দামও বাড়তে থাকে।
ঝিনাইদহ থেকে রাজিব হাসান জানান, ডাকবাংলো, হাটগোপালপুর, বিষয়খালিসহ বিভিন্ন বাজারে শুক্রবার প্রতিকেজি পেঁয়াজ ২৩৫ থেকে ২৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
সাতক্ষীরা থেকে রেজাউল বিশ্বাস জানান, সুলতানপুর বড়বাজার, কাটিয়া বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২২০ টাকা থেকে ২৩০ টাকা কেজি দরে।
বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, বাগেরহাট শহরের বিভিন্ন বাজারে শুক্রবার প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা।
মাগুরা থেকে লিটন ঘোষ জানান, মাগুরা পুরাতন বাজার আড়তে প্রতিকেজি পেঁয়াজ পাইকারি বিক্রি হয়েছে ২৪০ টাকা। নতুনবাজার, ভায়নার মোড়, পুলিশলাইন বাজার, বৌবাজারসহ বিভিন্ন বাজারে খুচরা বিক্রি হয়েছে ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি।
নড়াইল থেকে আব্দুল কাদের জানান, রূপগঞ্জ বাজার, নড়াইল বাজার, টার্মিনাল বাজার, গোবরা বাজার, মাইজপাড়া বাজারে শুক্রবার সকালে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৪০ টাকা কেজিতে। বিকেলের দিকে এই দাম বেড়ে হয় ২৬০ থেকে ২৭০ টাকা।
কুষ্টিয়া থেকে বাবলু রঞ্জন বিশ্বাস জানান, কুষ্টিয়া মিউনিসিপ্যাল বাজার, সাদ্দাম বাজার, মীরপুর বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা কেজিতে।
আলমডাঙ্গা থেকে প্রশান্ত বিশ্বাস জানান, চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা, মুন্সিগঞ্জ বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৪০ টাকায়।
মেহেরপুর থেকে প্রতিনিধি জানান, স্থানীয় বাজারে শুক্রবার প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৩০ থেকে ২৪০ টাকায়।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে টিপু সুলতান জানান, কালীগঞ্জে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৫০-২৭০ টাকায়। বৃহস্পতিবার এর দাম ছিল ১৯৫ থেকে ২০০ টাকা কেজি। শুক্রবার ছুটির দিনে বাজারে প্রচুর ভীড় ছিল। দাম শুনে ক্রেতারা ভ্রু কুঁচকেছেন। অনেকেই পেঁয়াজ না কিনে বাড়ি ফিরেছেন। কেউ কেউ দোকানিকে কটু কথাও শুনিয়েছেন। বিক্রেতা লাল্টু মিয়া বলেছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়াই পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। পাইকারের কাছ থেকে যা কিনেছিলেন কয়েকদিনে তার অর্ধেকও বিক্রি করতে পারেননি। ক্রেতারা দাম শুনে আজেবাজে মন্তব্য করছেন।
বাজারের আরেক বিক্রেতা নাজিম হোসেন বলেন, তিনি পাইকারি বাজার থেকে প্রতিকেজি ২৬০ টাকা দরে পেঁয়াজ কিনে এনেছেন। এর সঙ্গে পরিবহন খরচ যোগ করে এখন তিনি প্রতি কেজি ২৭০ টাকায় বিক্রি করছেন। শুক্রবার সারাদিনে মাত্র ১০ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন বলে জানান তিনি। নতুন বাজারের দোকানি নাজিম দাম বেশি হবার কারণে শুক্রবার মাত্র পাঁচ কেজি পেয়াজ কিনে বিক্রি করছেন বলে জানান।
খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনার আড়তগুলোতে পেঁয়াজের মজুদ কমেছে। দাম বৃদ্ধির কারণে পাইকাররা পেঁয়াজ তুলছেন না।
প্রতিনিধিরা আরও জানিয়েছেন, স্থানীয় প্রশাসনের তদারকি না থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ীরা একের পর এক পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি করে চলেছে। সরকার বাজার মনিটরিঙের কথা বললেও এসব এলাকায় এ ধরনের কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। সে কারণে সাধারণ মানুষ পেঁয়াজের ব্যবহার অনেক কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। যারা সপ্তায় দু’কেজি পেঁয়াজ কিনতেন এখন তারা আড়াইশ গ্রাম বা এক পোয়ার বেশি কিনছেন না। অনেক বাজারে বিক্রেতারা এক পোয়ার টোপলা করেও পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft