বুধবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯
সারাদেশ
পার্বতীপুরে হাতুড়ি ডাক্তারের অপচিকিৎসায় মরতে বসেছে কলেজ ছাত্রী রুকসানা
এস,এম নুর আলম, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :
Published : Tuesday, 12 November, 2019 at 7:36 PM
পার্বতীপুরে হাতুড়ি ডাক্তারের অপচিকিৎসায় মরতে বসেছে কলেজ ছাত্রী রুকসানাচিরিরবন্দরের সীমান্তঘেষা পার্বতীপুর উপজেলার আমবাড়ি হাটে হাতুড়ি ডাক্তারের অপচিকিৎসায় কলেজ ছাত্রী রুকসানা (১৭)’র জীবনে নেমে এসেছে অমানিশার অন্ধকার।
গুরুতর অসুস্থ্য রুকসানা প্রায় এক মাস যাবত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছেন। সামনেই তার এইচ,এস,সি পরিক্ষা। পরীক্ষায় অংশগ্রহন করা তার এখন অনিশ্চিত।
চিরিরবন্দরে পার্শ্ববর্তী পার্বতীপুর  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লক্স হাসপতাল সূত্রে  জানা গেছে, সম্প্রতি  রুকসানা পারভীন (১৭) নামের এক কলেজ ছাত্রী  মাথা ব্যাথার রোগ নিয়ে যায় আমবাড়ী হাটের পল্লী চিকিৎসক আব্দুল কাইয়ুমের চেম্বারে। আব্দুল কাইয়ুম ওই ছাত্রীর শরীরে কয়েকটি ইনজেকশন পুঁশ করেন। উচ্চ শক্তিসম্পন্ন গ্যাসের ক্যাপসুলসহ ১২/১৩ প্রকারের ট্যাবলেট দেয়া হয় ওই রোগীকে। এসব ঔষধ সেবন  করে পরেরদিন অসুস্থ  হয়ে পড়ে সে।  
পূনরায় কাইয়ুমের নিকট আসলে তাকে দেয়া হয় আরও ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল। এসব সেবন করে ওই ছাত্রী  জ্ঞান হারিয়ে পুরোপুরি শয্যাশায়ী হয়ে পড়ে। আশঙ্কজনক অবস্থায় তাকে  প্রথমে দিনাজপুর আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (দিমেক) ও পরে  রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ভূল চিকিৎসা ও মাত্রাতিরিক্ত ঔষধ সেবনের শিকার ওই ছাত্রীটি প্রায় একমাস যাবত হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছে। মেয়েটি আমবাড়ী মহিলা কলেজের ছাত্রী ও চলতি বছরের এইচ,এস,সি পরিক্ষার্থী। পার্শ্ববর্তী  ফুলবাড়ী উপজেলার এলুয়ারী ইউনিয়নের উত্তর শিবপুর গ্রামের মোকছেদ আলীর মেয়ে।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় মেয়েটির বাবা মোকছেদ আলীর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, তার মেয়েকে ডাঃ আব্দুল কাইয়ুম সামান্য মাথা ব্যাথার জন্য ৭/৮শ টাকার উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন এন্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন ট্যাবলেট, ক্যাপসুল দেন। শরিরে ইনজেকশনও পুঁশ করিয়েছেন। বাসায় নিয়ে আসার পর সারারাত মেয়েটি ঘুমাতে পারেনি। পরের দিন পূনরায় তাকে ডাক্তার কাইয়ুমের নিকট নিয়ে গেলে আরও কিছু ঔষধ সেবন করিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। তার এই অপচিকিৎসায় আমার এ পর্যন্ত লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হয়ে গিয়েছে। মেয়েটি এখনও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।
এদিকে এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে পার্বতীপুর উপজেলা সরকারী স্বাস্থ্য  কমপ্লেক্স এর  প্রধান উপজেলা স্বাস্থ্য  ও  পরিবার  পরিকল্পনা কর্মকর্তা তিন সদস্যের তদন্ত  কমিটি গঠন করেন। মঙ্গলবার সকালে গঠিত  তদন্ত  কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থলে তদন্তে  যান। কমিটির প্রধান ও সদস্যরা হলেন, উপজেলা  স্বাস্থ্য  কমপ্লেক্স এর  ডাক্তার  (আর,এম,ও)  মোঃ আলম মিয়া, সদস্য হেলথ্  ইন্সপেক্টর রজব  আলী ও আমবাড়ী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য  কমপ্লেক্স এর কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মোখলেছুর রহমান।
তদন্ত  কমিটির প্রধান ডাঃ আলম মিয়া পল্লী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমবাড়ীতে এমন আরও ১০/১২জন  হাতুড়ি ডাক্তার সাধারন মানুষদেরকে অপচিকিৎসা দিয়ে চলেছেন বলে  আমরা নিশ্চিত হয়েছি।  আজ সন্ধার মধ্যেই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার নিকট তদন্ত প্রতিবেদন  জমা দেয়া  হবে।
পার্বতীপুর  উপজেলা  স্বাস্থ্য  ও  পরিবার  পরিকল্পনা  কর্মকর্তা আব্দুল্লাহিল মাফি জানান, অবিলম্বে  ভ্রাম্যমান  আদালতের সহায়তায় সকল ধরনের হাতুড়ি ডাক্তারদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এব্যাপারে অভিযুক্ত পল্লী চিকিৎসক আব্দুল কাইয়ুমের সাথে সরাসরি কথা হলে তিনি তার ভূল স্বীকার করে ক্ষমা চান সকলের নিকট।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft