বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৯
সারাদেশ
মধ্যরাতে আঘাত হানবে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল
ক্ষতি মোকাবেলায় প্রস্তত উপকূলবাসী
কাগজ ডেস্ক :
Published : Saturday, 9 November, 2019 at 7:59 PM
মধ্যরাতে আঘাত হানবে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে পশ্চিমবঙ্গ-খুলনা উপকূল অতিক্রম করার কথা। উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর-উত্তর পূর্ব দিকে ঘণ্টায় প্রায় ১৫ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসছিল। এর প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় শনিবার সকাল থেকেই দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছিল । কোথাও তোথাও ভারী বৃষ্টিপাতও হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোসাম্মদ আয়েশা খাতুন শনিবার বিকেল সোয়া চারটার দিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের ওপরোক্ত তথ্য জানান।
আয়েশা খাতুন জানান, ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা জেলাসমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণসহ ঘণ্টায় একশ থেকে ১২০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ঘূর্ণিঝড় ও মুন ফেজ-এর প্রভাবে উপকূলীয় এসব জেলাগুলোর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পাঁচ থেকে সাত ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
উপপরিচালক মোসাম্মদ আয়েশা খাতুন জানান, ঘূূর্ণিঝড় বুলবুল শনিবার বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৪৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৪৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৪০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ২৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।
অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।
মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ১০ (দশ) নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৯ (নয়) নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। কক্সবাজার উপকূলকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
এদিকে, আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্ততি গ্রহণ করা হয়েছে উপকূলীয় জেলাগুলোতে। জেলা প্রশাসন ছাড়াও জেলা পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদগুলো স্বস্ব উদ্যোগে ঘূর্ণিঝড় ও ঝড়পরবর্তী সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোবাবেলায় নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ইতোমধ্যে উপকূলীয় এলাকার সাধারণ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা গ্রহণ করা হয়েছে। শনিবার সকাল থেকেই মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত এবং চট্টগ্রাম বন্দরকে নয় নম্বর মহাবপিদ সংকেত দেখানোর নির্দেশ দেয়া হয়। এর পরপরই প্রশাসন মাইকিং করে উপকূলবাসীকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্যে উদ্বুদ্ধ করতে থাকে। দুপুর পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে মানুষের যাওয়ার হার কম থাকলেও যতই দিন গড়িয়েছে ততই মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রমুখো হতে শুরু করে। তবে কিছু কিছু এলাকায় মানুষের মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার প্রবণতা খুব কম লক্ষ্য করা গেছে।
উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খাবারের জন্যে শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করার কথাও জানিয়েছেন আমাদের প্রতিনিধিরা।
খুলনা ব্যুরো জানায়, ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে খুলনাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। অতিদুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলোতে মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছে। ইতোমধ্যে প্রায় দু’লাখ মানুষ জেলার বিভিন্ন সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় গ্রহণ করেছে। দুর্যোগ পরবর্তী তৎপরতায় প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছে।
খুলনার জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, সাতটি উপজেলায় ৩৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে প্রায় দু’লাখ ৩৮ হাজার ৯৫০ জন মানুষের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এর বাইরে বিপদাপন্ন দু’লাখ ৭৮ হাজার ২৮৫ জন মানুষকে  বিভিন্ন স্কুল, কলেজসহ উঁচু স্থাপনাকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র করে সেখানে নিয়ে যাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে দাকোপ উপজেলায় ৮৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৬২ হাজার ২৫০ জন, বটিয়াঘাটা উপজেলায় ২৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৫ হাজার, পাইকগাছা উপজেলায় ৩২টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২৬ হাজার ২৫০ জন, কয়রা উপজেলায় ১২১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৮৭ হাজার, ডুমুরিয়া উপজেলায় ২৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১২ হাজার ৭৫০ জন, রূপসা উপজেলায় ২৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২০ হাজার ৩০০ জন ও তেরখাদা উপজেলায় ২২টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৫ হাজার ৪০০ জন অবস্থান নিতে পারবেন।
খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জানিয়েছেন, এরই মধ্যে সাতটি উপজেলার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে আহ্বান জানানো হয়েছে। এজন্য মাইকিংও করা হচ্ছে। ইসলামি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় প্রতিটি মসজিদ থেকে মাইকিং করা হয়েছে। রেড ক্রিসেন্টের প্রায় ৬ হাজার সদস্যসহ মোট ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীও তৎপর রয়েছে। পর্যাপ্ত শুকনো খাবারও মজুত রাখা রয়েছে। এছাড়াও নগদ অর্থ, ওষুধ এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট পাঠানো হয়েছে বিভিন্ন এলাকায়।
এদিকে লেঅকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রসহ নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হলে সাধারণ লোকদের মধ্যে যাওয়ার আগ্রহ নেই বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন এলাকায় কর্তব্যরত স্বেচ্ছাসেবকদের। কয়রা উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, সন্ধায় ঝড়ের প্রভাব বাড়বে। এ অবস্থায় লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। কিন্তু মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছেন না।’
কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিমুল কুমার সাহা বলেন, ‘সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে। মানুষকে এখনও উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে ফোর্স করা হবে বলে জানান তিনি।’
দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘ এলাকায় এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।’
এদিকে শনিবার মধ্যরাত থেকেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। দিনভর বৃষ্টি ছিল। সেই সাথে হালকা ঝড়ো হাওয়া শুরু হয় বিকেল থেকে।
খুলনা আবাওয়া অফিসের জৈষ্ঠ্য আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ বলেন, ঘূর্ণিঝড়টি প্রবল আকার ধারণ করে উপকূলের দিকে ধাবিত হচ্ছে। কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ একটানা ৭৪ কিলোমিটার থেকে সর্বোচ্চ ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাগর উত্তাল রয়েছে। উপকূলে ১৩০ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি খুলনা জেলা ও সিটি ইউনিটির আয়োজনে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবেলায় প্রস্তুতিমূলক সভা শনিবার দুপুরে খুলনা সার্কিট হাউস সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন।
তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোংলা বন্দর থেকে ৩৮৫ কিঃমিঃ দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে। মোংলা বন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বালা হয়েছে।  এটি আজ (শনিবার) রাত আটটায় খুলনা উপকূলে আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে। খুলনা জেলার কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ, বটিয়াঘাটা ও রূপসা উপজেলার কিছু এলাকা ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে এই সকল এলাকায় সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সকল সাইক্লোন সেন্টার প্রস্তুত রয়েছে এবং সাধারণ জনগণ এই সেন্টারে আসতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে মাইকিংকরে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে যেতে বলা হচ্ছে। পর্যাপ্ত শুকনো খাবার, নগদ অর্থ, ওষুধ এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট পাঠানো হয়েছে।
সভায় জানানো হয়, অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবকের পাশাপাশি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রায় ছয় হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
খুলনা সিটি রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সহসভাপতি হালিমা ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন জেলা ইউনিটের ভাইস চেয়ারম্যান জোবায়ের আহমেদ খান জবা, খুলনা জেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সম্পাদক মকবুল হোসেন মিন্টু, সিটি ইউনিটের সম্পাদক মল্লিক আবিদ হোসেন কবির, সিপিপি’র ডেপুটি পরিচালক গোলাম কিবরিয়া,  ইউনিট কর্মকর্তা মোঃ মইনুল ইসলাম পলাশ প্রমুখ।
দাকোপ (খুলনা) থেকে জিএম আজম জানান, গভীর সমুদ্রে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘুর্ণিঝড় বুলবুল আতঙ্কে দাকোপের দেড় লক্ষাধিক মানুষ। মোংলা ও পায়রায় ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখানোর পর উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘুর্ণিঝড় মোকাবেলায় দপ্তরের প্রধানদের সমন্বয়  ৯টি ইউনিয়নে ও পৌরসভায় একাধিক টিম গঠন করছে। উপজেলা সদরে ঘুর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবেলায় কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও সিপিপি ও বিভিন্ন মসজিদ থেকে মানুষকে নিরাপদ  থাকার জন্য মাইকিং করে আশ্রয়কেন্দ্র সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নেয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে। পশুর ও শিপসা নদীতে লঞ্চ ও ট্রলার, জাহাজসহ সকল প্রকার নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এদিকে জেলা প্রশাসকের পক্ষে থেকে জরুরি বরাদ্ধ হিসাবে দু’লাখ ৫০ হাজার নগদ টাকা, ৫০ টন চাল ও সাতশ প্যাকেট শুকনা খাবার উপজেলার জন্যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রস্তুত রয়েছে ১০৫টি সাইক্লোন শেল্টার। তাছাড়া খুলনার উপকূলীয় অঞ্চলে সরকারের পক্ষে থেকে পাঁচটি যুদ্ধ জাহাজ ঘুর্ণিঝড় মোকাবেলায় উদ্ধার কাজে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। চালনা পৌরসভার বাসিন্দা হুমায়ন কবির হিরা, মুজিবর শেখ, জমিদার শেখ, জিয়ারুল ইসলাম জিয়া, বুলু কাজী, জব্বার শেখ, আক্তার শেখসহ একাধিক ব্যাক্তির সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রবল ঘুর্ণিঝড় বুলবুল আতংকে রয়েছে তারা  এবং নিরাপদ আশ্রায় কেন্দ্র পরিবার নিয়ে আশ্রায় গ্রহণ করেছে। অনেকেই পরিবার পরিজন খুলনায় নিরাপদ আশ্রায় পাঠিয়ে দিয়েছে।  
এ ব্যাপারে সুতারখালী ইউনিনের চেয়ারম্যান মাসুম আলী ফকিরের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ইউনিয়নের সকল সাইক্লোন শেল্টার খোলা রাখা হয়েছে। অনেকেই সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রায় গ্রহণ করেছে। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অতি প্রবল ঘুর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবেলায় সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। শিপসার নদীতে জোয়ারের তোড়ে ওয়াপদার বেড়ীবাঁধের কয়েক জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে।
বাগেরহাট থেকে অরিন্দম দেবনাথ জানান, বাগেরহাটে প্রলঙ্করি সিডরের মতো আতঙ্ক বিরাজ করছে। আতঙ্কিত লোকজন ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জানার পর ঘুর্ণীঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে শুরু করেছেন। সাথে নিচ্ছেন মূল্যবান মালপত্র ও গবাদীপশু। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে বাগেরহাটে শনিবার দুপুর থেকে ঝড়ো হাওয়ার সাথে বৃষ্টির গতি ক্রমশ: বাড়ছে। বিকেলে তা প্রবল আকার ধারণ করে। জেলার উপকূলীয় শরণখোলা, মোংলা, রামপাল ও মোড়েলগঞ্জ উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামের সাধারণ মানুষ ও গবাদীপশু নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নিয়ে যাওয়া হয়। একাজে পুলিশ, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, সেচ্ছাসেবক, রেডক্রিসেন্ট, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ সমন্বিত সহায়তা করছেন। মোংলা বন্দরের সকল জাহাজ নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। মালামাল ওঠা-নামা বন্ধ রয়েছে।
এদিন সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা প্রায় জনমানবশূন্য দেখা গেছে। লোকজনের মধ্যে প্রলয়ঙ্করী সিডরের মত আতঙ্ক বিরাজ করছে। হামিদুর রহমান, হাসেম শেখ, মলয় বিশ্বাস, সুব্রত মন্ডল, কুলসুম বেগমসহ স্থানীয়রা বলেন, এ ধরনের বৃষ্টির লক্ষণ ভালো না। এমন বৃষ্টি হলে, বড় ধরনের ঝড় হওয়ার শঙ্কা। উপকূলীয় ঝুঁকিপূর্ণ ভেড়িবাঁধ নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ভর পূর্ণিমায় জোয়ারের সময় বুলবুল আঘাত হানলে অতিমাত্রায় জলোচ্ছ্বাস হতে পারে, যাতে জান-মালের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির শঙ্কা রয়েছে বলে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে উঠতি আমন ধান, পান বরজ, কলা ক্ষেত ও শীতকালীন ফসলের ব্যাপক হানী হবে বলে মনে করছেন।
এদিকে, গ্রামে গ্রামে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থানীয়দের আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। অব্যাহত মাইকিং চলছিল। জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ বলেন, বাগেরহাটের ২৩৪টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রের ধারণক্ষমতা রয়েছে দু’লাখ ৪২ হাজার ৭৭৫ জন মানুষের। জেলার সব আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেয়া হয়েছে। ৮৪টি মেডিকেল টিম, ১০টি কন্টোলরুম প্রস্তুত রয়েছে। সরকারি-বেসকারি ১৭ হাজার ১৩০জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন।  
কোস্টগার্ডের পশ্চিম জোনের অপারেশন অফিসার লেফটেন্যান্ট ইমতিয়াজ আলম বলেন, সুন্দরবনে থাকা জেলেদেরকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় এক হাজারজনকে আনা হয়েছে। অন্য জেলেদের আনার প্রক্রিয়া চলছে। প্রয়োজনে কোস্টগার্ডের নিজস্ব ক্যাম্পে আশ্রয় দেয়া হবে।
বুলবুলের খবরে সাগরে থাকা মাছধরা ট্রলার ও নৌকা তীরে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে। শনিবার সকালে বাগেরহাট দড়াটানা নদীতে দেখা যায় দু’শতাধিক মাছ ধরা ট্রলার সমুদ্র থেকে ফিরে এসেছে। জেলেরা জানান, ১০ নম্বর সংকেত পেয়ে প্রাণ বাঁচাতে চলে এসেছেন। তবে এখনো অনেক জেলে সাগরে রয়েছেন বলে তারা জানান। তাদের ভাষায়, আসলে বঙ্গোপসাগর থেকে ইচ্ছে করলেই চলে আসা যায় না, আসতে অনেক সময় লাগে।’
বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মাসুদ সরদার বলেন, বুলবুলের প্রভাব মানুষকে জানিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য আমাদের ৬টি টিম বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করছে। এছাড়া জেলার ৫টি স্টেশনে ৮টি টিম প্রস্তুত রয়েছে। পার্শ্ববর্তী জেলাতেও কথা বলা আছে, প্রয়োজনে সেখান থেকে কিছু ইউনিট বাগেরহাটের জন্য আনা হবে।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায় জানান, পুলিশের পক্ষ থেকেও উপকূলবাসীকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হচ্ছে। বিভিন্ন  থানা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা সেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি নারী-শিশু ও বৃদ্ধদের আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে সহায়তা করছেন।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, বিভিন্ন ধরনের ৩২টি নৌযান নিয়ে সুন্দরবনে ভ্রমণে যাওয়া তিন সহস্রাধিক পর্যটককে উপকূলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ওই সব পর্যটকরা শরণখোলা এবং মোংলায় বিভিন্ন হোটেলসহ নিরাপদ স্থানে রয়েছে। বনের স্টাফরা সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। সুন্দরবনের দুবলার চরে ঝড়ো বাতাস বয়ে যাচ্ছে। জোয়ারের স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। দুবলার চরে আশ্রয় কেন্দ্রে কয়েকশ জেলে আশ্রয় নিয়েছে। বন বিভাগ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
শরণখোলা (বাগেরহাট) থেকে মেহেদী হাসান জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে ১০ নং মহা-বিপদ সংকেত ঘোষণায় সিডর বিধ্বস্ত শরণখোলায় মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছেন। অপরদিকে উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নে ৮ সহস্রাধিক মানুষ ভেড়িবাঁধ ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছেন।
সাউথখালী ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন জানান, রায়েন্দা, গাবতলা, উত্তর সাউথখালী, দক্ষিণ সাউথখালী, বগী ও শরণখোলা গ্রামের ৮ সহস্রাধিক মানুষ ভেড়িবাঁধ ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছেন। সাউথখালী ইউনিয়নে বলেশ্বর নদের প্রায় তিন কিলোমিটার পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভেড়িবাধ ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে। যা জলোচ্ছাসের তোড়ে ভেঙে এলাকা প্লাবিত হতে পারে। পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) জয়নাল আবেদীন জানান, সুন্দরবনের দুবলারচরে অবস্থানরত প্রায় আট হাজার জেলে ওখানকার সাইক্লোন শেল্টারসহ বনের মেহেরআলী, আলোরকোল, ভেদাখালী, নারিকেলবাড়িয়াসহ অন্যান্য স্থানের ছোট ছোট খালের মধ্যে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে। শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরদার মোস্তফা শাহীন জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ইতোমধ্যে ইউনিয়ন ও উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি মিটিং করে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনাসহ উপজেলার ৯৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুদ রাখা হয়েছে। মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে।
সাতক্ষীরা থেকে রেজাউল ইসলাম জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে পুলিশ, বিজিবি, নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে গঠিত টিম উপকূলবর্তী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে আনার কাজ শুরু করেছে। হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিক সার্বক্ষণিক খোলা রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক এস এস মোস্তফা কামাল ইতোমধ্যে জেলার ২৭০ টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৬০ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন। এছাড়া দুর্যোগকবলিতদের সহায়তায় ৩১০ মেট্রিকটন চাল, নগদ পাঁচ লাখ ৪২ হাজার টাকা, দু’হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ২৭ হাজার পিস পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও পর্যাপ্ত ওষুধপত্র মজুদ রাখা হয়েছে। একই সাথে দুর্যোগপূর্ববর্তী, দুর্যোগকালীন এবং দুর্যোগপরবর্তী তিন স্তরের প্রশিক্ষিত ২২ হাজার স্বেচ্ছাসেবকসহ ৮৫টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া শিশুদের জন্য এক লাখ টাকা ও গবাদি পশুর জন্য আরও এক লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। উপকুলীয় উপজেলা শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালিগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এছাড়া সুন্দরবনসংলগ্ন নদী ও খালে থাকা নৌযানগুলিকে উপকূলবর্তী নিরাপদ স্থলে আনা হয়েছে।
এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরার দু’বিভাগের আওতায় ২৫০ কিলোমিটার বেঁড়িবাধ ঝুকিপূর্ণ রয়েছে। বুলবুলের জলোচ্ছাসের আঘাত যদি সাত ফুট উচ্চতায় হয় সেক্ষেত্রে এসব বেড়িবাঁধ রক্ষা করা সম্ভব হবেনা বলে জানা গেছে।
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের উপ-পরিচালক জুলফিকার অলী জানান, বেলা ১২টা পর্যন্ত সাতক্ষীরায় ২৯ মিলি লিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, এখনও পর্যন্ত সাতক্ষীরায় ১০ নং বিপদ সংকেত চলছে।  
মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) থেকে গনেশ পাল জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে যাতে ক্ষয়ক্ষতি কম হয় সে লক্ষ্যে দুর্যোগপ্রবণ উপকূলীয় উপজেলা বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে সকল প্রকার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, থানা প্রশাসন। এসব প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে মাইকিং করে জনসাধারণকে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে যাবার জন্য সচেতন করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিয়নের আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে দেয়া হয়েছে শুকনা খাবার।
শনিবার সকাল থেকেই ৮৩টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেয়া হয়েছে। সেখানে আশ্রয় নিয়েছে গর্ববর্তী মা, প্রতিবন্ধী, শিশু, বৃদ্ধসহ প্রায় ১০ হাজার সাধারণ মানুষ। এছাড়া, দু’হাজার গবাদিপশু তোলা হয়েছে কেন্দ্রগুলোতে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান শনিবার সকাল থেকে সদর ইউনিয়নের গাবতলা, কাঠালতলা, খাউলিয়ার সন্ন্যাসী, নিশানবাড়িয়ার পলিটিক্স আশ্রয়কেন্দ্র ও বারইখালীর তেঁতুলবাড়িয়া সাইক্লোন শেল্টারগুলো পরিদর্শন করে সাধারণ মানুষের খোঁজ খবর নেন। একইসাথে তিনি সচেতনতার লক্ষ্যে মাইকিং করে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে উপস্থিত হওয়ার জন্য আহ্বান জানান।
উপজেলা প্রশাসনের দুর্যোগ মোকাবেলায় কন্টোলরুম থেকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন জানান, দুর্যোগ বুলবুল মোকাবেলায় ইতোমধ্যে ১৬টি ইউনিয়নসহ পৌরসভায় ৮৩টি সাইক্লোন শেল্টার, ১৭টি মেডিকেল টিম, আনসার বিডিপি, গ্রাম পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবক, স্কাউট, জনপ্রতিনিধিসহ ২৫ সদস্যবিশিষ্ট প্রায় আড়াই হাজার কর্মী মাঠ পর্যায়ে প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
ইতোমধ্যে এসব স্বেচ্ছাসেবক টিম আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে জনসাধারণের উপস্থিতি নিশ্চিত করছেন। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের ১৭ সদস্যর টিম ও পুলিশ বাহিনী সার্বক্ষণিক অবস্থান করছেন। দূরপাল্লার সকল প্রকার নৌ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
এ সর্ম্পকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুজ্জামান বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবেলায় ইতোমধ্যে সকল প্রকার প্রস্তুতি  রাখা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে সকালের চেয়ে বিকেল ৩টার পর থেকেই উপস্থিতি বেড়েছে। তাদেরকে দেয়া হয়েছে শুকনা খাবার। ইউনিয়ন পর্যায়ের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখা হচ্ছে কন্টোল রুম থেকে।  
কলারোয়া পৌর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি মেহেদী মাসুদ জানান, সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় উপজেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা অডিটোরিয়ামে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু বলেন- ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আতঙ্কিত না হয়ে সকলকে সতর্ক, সজাগ ও নিরাপদ থাকতে হবে।’
রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি অমিত পাল জানান, শনিবার সকাল ৯টায় রামপাল উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা অডিটোরিয়ামে সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তুষার কুমার পালের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বন পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার । বিশেষ অতিথি ছিলেন রামপাল উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ মোয়াজ্জেম হোসেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল হক লিপন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হোসনেয়ারা মিলি। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত বুলবুলের প্রভাবে রামপালে সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। উপজেলায় ৩৪টি আশ্রয়কেন্দ্র ও ১৯০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা হয়েছে। সকল ইউনিয়নে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুত করা হয়েছে। সকাল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসা হচ্ছে। ঘূর্নিঝড়ের কারণে জানমালের ক্ষতি এড়াতে সকলকে সতর্ক করা হচ্ছে এবং সরকারি সকল দপ্তর খোলা রাখা হয়েছে।  
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি এসএম আলাউদ্দিন জানান, ইউএনও জুলিয়া সুকায়না বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরণের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ৩৬টি আশ্রয় কেন্দ্রসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা হয়েছে। মজুদ রয়েছে শুকনো খাবার, প্রস্তুত রয়েছে ১১টি মেডিকেল টিমসহ স্কাউটস ও স্বেচ্ছাসেবক সদস্যরা। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস জানান, দুর্যোগ মোকাবেলায় কন্ট্রোরুম খোলা হয়েছে। কন্ট্রোলরুমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক দুর্যোগ পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য প্রতিটি এলাকায় মাইকিং অব্যাহত রয়েছে। ওসি এমদাদুল হক শেখ জানান, দুর্যোগকালীন সময়ে মানুষের জানমালের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সরদার আলী আহসান জানান, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রশাসনের সব ধরণের প্রস্তুতি থাকা সত্বেও দেলুটি, লতা, সোলাদানা ও গড়ইখালী ইউনিয়ন সহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানাগেছে।
চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি দেবাশিষ বিশ্বাস জানান, বুলবুলের প্রভাবে বাগেরহাটের চিতলমারীতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে নিম্মআয়ের মানুষ। গত দু’দিনের বিরামহীন বৃষ্টিপাতে জনজীবন দুর্বিসহ হয়ে পড়েছে। পার্শ্ববর্তী নৌবন্দর মংলায় ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত ঘোষণার পর শনিবার সকাল থেকে চিতলমারী উপজেলা প্রশাসন লোকজনকে সতর্ক করতে ও নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বিভিন্ন ইউনিয়নে মাইকিং করেছে। কিন্তু গবাদী পশু-পাখি ও দামি আসবাবপত্র ফেলে আশ্রয়কেন্দ্রে কেউ যেতে রাজি হচ্ছে না।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফুল আলাম জানান, শনিবার সকাল থেকে চিতলমারী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে লোকজনকে সতর্ক করতে ও নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে মাইকিং করা হয়েছে। উপজেলার ১৭টি সাইক্লোন শেল্টারসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আশ্রয়কেন্দ্রের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেইসাথে শুকনা খাবার ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। উপজেলায় একটি ও ৭ ইউনিয়নে ৭টি কন্ট্রোলরুম, ৮টি মেডিকেল টিম গঠন এবং প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো খোলা রাখা হয়েছে। কিন্তু গবাদী পশু-পাখি ও দামি আসবাবপত্র ফেলে অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে রাজি হচ্ছে না।
যশোর: দুর্যোগপ্রবণ এলাকা না হলেও যশোরের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল বিষয়ে সতর্কতা রয়েছে জেলা প্রশাসনের। শনিবার সন্ধ্যায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রফিকুল হাসান দৈনিক গ্রামের কাগজকে টেলিফোনে এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের একটি কন্ট্রোলরুম রয়েছে। সেটা সার্বক্ষণিক খোলা রয়েছে। অন্যান্য উপজেলাকেও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে। কেন্দ্র থেকে যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সেটা মান্য করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft