রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০
সারাদেশ
‘ওসি মোয়াজ্জেম ব্যবস্থা নিলে নুসরাত মরত না’
কাগজ ডেস্ক:
Published : Monday, 4 November, 2019 at 8:26 PM
‘ওসি মোয়াজ্জেম ব্যবস্থা নিলে নুসরাত মরত না’‘সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন যদি সে সময় আইনগত ব্যবস্থা নিতেন তাহলে নুসরাতকে এভাবে মরতে হতো না।’
সোমবার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালতে সাক্ষ‌্য দেয়ার সময় এ কথা বলেন ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির বান্ধবী নাসরিন সুলতানা ফুর্তি।
ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ‌্যক্ষের কাছে যৌন হয়রানির শিকার হওয়া নুসরাত জাহান রাফিকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় সোমবার সাক্ষ‌্য দেন নাসরিন সুলতানা ফুর্তি।
এদিন আদালতে আরো দুজন সাক্ষ্য দেন। তারা হলেন-নুসরাতের আরেক বান্ধবী নিসাত সুলতানা এবং সিআইডির ফরেনসিক কর্মকর্তা। এ তিনজনের সাক্ষ্য শেষে আদালত আগামী ১১ নভেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য করেন।
নাসরিন সুলতানা ফুর্তি আদালতে বলেন, গত ২৭ মার্চ নুসরাতের শ্লীলতাহানির অভিযোগে যে মামলা হয়েছিল তার জন্য আমাদের থানায় ডাকা হয়। আমার সামনে নুসরাতের ভিডিও ধারণ করা হয়। ভিডিও ধারণ করার সময় নুসরাতকে বার বার বলা হচ্ছিল মুখ থেকে হাত সরাতে। সেদিন নুসরাতকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ওসি মোয়াজ্জেম আমার মুখের নেকাব খুলতে বলেন। আমি জিজ্ঞেস করি, কেন নেকাব খুলতে হবে? ওসি বলে নেকাব খুলে জোরে কথা বলতে হবে, যেন আমি শুনতে পাই। এরপর নিশাতকে ডেকে তারও ভিডিও রেকর্ড করে। পরে আমরা চলে আসি। কিছুদিন পর নুসরাতের ভিডিও করার ঘটনা সোশ‌্যাল মিডিয়াতে দেখতে পাই। ওসি মোয়াজ্জেম যদি সে সময় আইনগত ব্যবস্থা নিতেন তাহলে নুসরাতকে জীবন দিতে হতো না।
নুসরাতের আরেক বান্ধবী নিসাত সুলতানা বলেন, গত ২৭ মার্চ নুসরাতের শ্লীলতাহানির মামলার জন্য পুলিশ আমাদের মাদ্রাসায় এসে আমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। ওখানে অনেক তর্ক-বিতর্ক হয়। এরপর আমি, নুসরাত, ফুর্তি ও কলেজের প্রিন্সিপালকে থানায় নেয়া হয়। ওসি মোয়াজ্জেম প্রিন্সিপালকে এক রুমে বসান। ওসি সাহেব আমাকে অন্য রুমে পাঠিয়ে দেন। অন্য রুমে বসা অবস্থায় পুলিশ এসে ১০/১৫ মিনিট পরে আমাকে ডেকে নিয়ে যায়। ওই সময় ওসি মোয়াজ্জেম মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আমার কথা রেকর্ড করেন। আমি ওসিকে জিজ্ঞাসা করি, কেন ভিডিও রেকর্ড করা হচ্ছে? উত্তরে ওসি মোয়াজ্জেম জানান, মামলার স্বার্থে এটা করা হচ্ছে। অন্য রুমে নুসরাত ও ফুর্তিও ছিল। থানা থেকে বের হয়ে ফুর্তিকে আমি জিজ্ঞেস করি, তোরও কি ভিডিও ধারণ করেছে? সে হ‌্যাঁ বলে। এর কিছু সময় পর আমরা তিনজন চলে আসি। ঘটনার কিছু দিন পর নুসরাতের ভিডিওটা ইউটিউবে দেখতে পাই। এসব নিয়ে অনেক মানববন্ধনও হয়েছে।
এ তিনজনসহ মামলাটিতে ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে।
সোমবার সাক্ষ্য গ্রহণকালে ওসি মোয়াজ্জেমকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft