সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
কায়েমকোলার মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ সড়ক
৪৮ বছর ধরে দুর্ভোগে তিন গ্রামের মানুষ
এম. আইউব :
Published : Monday, 4 November, 2019 at 6:30 AM
৪৮ বছর ধরে দুর্ভোগে তিন গ্রামের মানুষকায়েমকোলা থেকে গোয়ালবাড়ি। চার কিলোমিটার পথ। অধিকাংশ কাঁচা রাস্তা। রাস্তাটির নাম মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ সড়ক। মুক্তিযুদ্ধকালীন ঝিকরগাছা থানা মুজিব বাহিনীর উপপ্রধান ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ। তিনি পাক হানাদার বাহিনীর হাতে ১৯৭১ সালের ৮ অক্টোবর শহীদ হন। তার নামেই স্থানীয়রা সড়কটির নামকরণ করেছেন। জাতির একজন শ্রেষ্ঠ সন্তানের নামে করা এই সড়কটি দীর্ঘ ৪৮ বছর ধরে অবহেলায় পড়ে রয়েছে। আর এ কারণে দুর্ভোগে রয়েছে তিন গ্রামের ২০ হাজার মানুষ।
মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ সড়কটির কিছু অংশ সলিং হয় বছর বিশেক আগে। বাকিটা কাঁচা। এই রাস্তার শেষ প্রান্তে শহীদ আব্দুল হামিদের মাজার। জায়গাটি ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলার একেবারেই সীমান্ত। এ কারণে শহীদ আব্দুল হামিদের মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে দু’ উপজেলার হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয় এখানে। যাতায়াত ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় দুর্ভোগে পড়তে হয় খানকার মানুষের। মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ সড়কের পাশে রয়েছে ছোটকুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই স্কুলে কায়েমকোলা, ছোটকুলি ও গোয়ালবাড়ি গ্রামের শিশুরা পড়ালেখা করে। রাস্তা কাঁচা হওয়ায় বর্ষাকালে কোমলমতি এসব শিশুর স্কুলে যাওয়া দুরূহ হয়ে পড়ে। এমনকি অনেকে স্কুলেই যায় না।
কথা হয় গোয়ালবাড়ি গ্রামের বৃদ্ধা রাবেয়া বেগম, তার ছেলে আব্দুল কুদ্দুস, কায়েমকোলা গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ সিরাজুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, আকিদুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক, দুলাল চন্দ্র ও জয়দেব কুমারের সাথে। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৫০-৬০ বছর ধরে এলাকার হাজার হাজার মানুষ রাস্তাটির কারণে দুর্ভোগে রয়েছে। অথচ দেখার কেউ নেই। জনপ্রতিনিধিরা আসেন যান, প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু কেউ কথা রাখেননি।
৮০ বছর বয়সী রাবেয়া বেগম বলেন, ১৯৭১ সালের ৮ অক্টোবর সকালে ঝিকরগাছা থানার তৎকালীন মুজিব বাহিনীর উপপ্রধান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ ছোটকুলি কালভার্টের ওপর বসে ছিলেন। ওই সময় রাজাকারদের সহযোগিতায় পাক আর্মিরা তাকে ধাওয়া করে। তখন তিনি দৌড়ে কালভার্টের অদূরে রাবেয়া বেগমের বাড়ির সামনে পাট ধোয়ায় রত শ্রমিকদের সাথে মিশে যান। শুরু করেন পাট ধোয়ার কাজ। তারপরও শেষ রক্ষা হয়নি। পাকিস্তানি আর্মিরা সেখানে গিয়ে তাকে গুলি করে ও বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে। ঘটনাটি মুক্তিযোদ্ধাদের জানানো হয়। মুক্তিযোদ্ধারা ঘটনাস্থলে আসার পর রাবেয়া বেগমের স্বামী সন্তানসহ আশপাশের লোকজন শহীদ আব্দুল হামিদকে ডোবা থেকে রাস্তার ওপর তোলে। এরপর উপস্থিত মাওলানাদের পরামর্শে শহীদ হওয়ায় তাকে গোসল না করিয়ে দাফন করার সিদ্ধান্ত হয়। পাক বাহিনীর ভয়ে তড়িঘড়ি করে রাবেয়া বেগম ও তার জা ছায়রা খাতুনের দু’টি শাড়ি দিয়ে কাফন পরানো হয়। এরপর রাবেয়া বেগমের স্বামী মুরাদ আলীর ঝোঁপজঙ্গলে পরিপূর্ণ একটি জায়গায় তাকে দাফন করা হয়; যাতে পাক আর্মিরা কবর খুঁজে না পায়!
দেশ স্বাধীনের পর এলাকার মানুষ কায়েমকোলা বাজার থেকে গোয়ালবাড়ি পর্যন্ত সড়কটির নামকরণ করে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদের নামে। তিনি যেখানে শহীদ হয়েছিলেন সেখানে সরকারিভাবে স্মৃতিফলক করা হয়েছে। যেখানে দাফন করা হয়েছে সেখানে উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে করা হয়েছে একটি মঞ্চ। সাথে তার কবরটি করা হয়েছে পাকাকরণ। প্রতি বছর শহীদ আব্দুল হামিদের মৃত্যুবার্ষিকীতে হাজারো মানুষের ঢল নামে । তারপরও মানুষের আফসোসের শেষ নেই। তাদের দাবি, দেশের এই সূর্যসন্তানের নামের রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করা হোক।
এই রাস্তাটির এমনই অবস্থা এখানে কেউ বিয়ে-শাদী করতেও চায় না। এখানকার ছোটকুলি গ্রামের আশরাফুল ইসলামের মেয়ে বিয়ে হচ্ছিল না রাস্তার দুরবস্থার কারণে। পরে ছেলেপক্ষের হাতেপায়ে ধরে শেষ পর্যন্ত বিয়েটা হয়েছে কোনোমতে। তবে, সেটি শর্ত সাপেক্ষে।
এসব বিষয়ে কথা হয় মাগুরা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাকের সাথে। তিনি বলেন শহীদ আব্দুল হামিদ সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা এলাকার হাজার হাজার মানুষের প্রাণের দাবি। এ কারণে যুগের পর যুগ অবহেলায় থাকা রাস্তাটি স্থানীয় এমপির সহযোগিতায় চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় এমপি মেজর জেনারেল ডাক্তার নাসির উদ্দিনের কাছে রাস্তাটি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নামের এই সড়কটি দীর্ঘদিন চলাচলের অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে পাকা করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft