বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯
অর্থকড়ি
নিয়ন্ত্রণহীন পেঁয়াজের বিক্রি কমেছে
এস এম আরিফ :
Published : Monday, 4 November, 2019 at 6:30 AM
নিয়ন্ত্রণহীন পেঁয়াজের বিক্রি কমেছেকোনভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না পেঁয়াজের বাজার। ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানির খবরে দু’একদিন দাম কমলেও ফের বেড়ে গেছে। পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বিক্রেতা; সকলের বিক্রিই কমে অর্ধেকে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মানুষ যতটুকু না হলে নয় ততটুকুই কিনছেন। সহসা এই দাম কমার আশ্বাসেও স্বস্তি নেই সাধারণ মানুষের মধ্যে।
সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক পলি ইন্টারন্যাশনালের স্বত্ত্বাধিকারী তপন ব্যানার্জী গ্রামের কাগজকে জানিয়েছেন, ভারতের মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে পেঁয়াজ ভোমরা বন্দর দিয়ে আসে। দেশি আমদানিকারক বা ব্যবসায়ীরা ভারতীয় পেঁয়াজ সরাসরি এলসির মাধ্যমে আমদানি করতে পারছেন না। যে কারণে ভোমরা বন্দরের বাংলাদেশি সীমানার গোডউন পেঁয়াজশূন্য। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন আগামী সপ্তাহের মধ্যে ভোমরা বন্দরে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পেঁয়াজ আসবে। তখন বাজারে এর দর কম হবে।
গত এক সপ্তাহে যশোরের বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজ একশ ৫০ টাকা থেকে একশ ৬০ টাকা পর্যন্ত কেজিতে বিক্রি হয়েছে। তবে গতকাল রোববার দর ছিলো কিছুটা কম। পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে একশ থেকে একশ সাত টাকা কেজি দরে। খুচরা বাজারে এর দাম ছিল একশ ২০ থেকে একশ ৩০ টাকা কেজি।
যশোরের বড়বাজারের খুচরা পেঁয়াজ ব্যবসায়ী নাজির শংকরপুরের আবু বকর সিদ্দিক বলেন, পাইকারি বাজার থেকে কিনে এনে তারা খুচরা বিক্রি করেন। পাইকারি বাজারে দাম বাড়িয়ে দিলে তাদের কিছু করার থাকে না। রোববার তিনি পাইকার থেকে একশ পাঁচ টাকা কেজি দরে ৭১ কেজি পেঁয়াজ কিনেছেন। যা খুচরা একশ ২০ টাকা করে বিক্রি করছেন । কেজি প্রতি ১৫ টাকা বেশি রাখার কারণ হিসেবে বলেন প্রতি বস্তায় তিন থেকে সাড়ে তিন কেজি পচা বা নষ্ট পেঁয়াজ পাওয়া যায়। সেই সাথে পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ যোগ করলে কেজিপ্রতি তাদের চার-পাঁচ টাকার বেশি টেকে না। সে হিসেবে দাম বাড়লে তাদের আহামরি লাভ থাকে না।
বড়বাজারের আড়তদার মেসার্স বাংলা ভান্ডারের স্বত্ত্বাধিকারী গোবিন্দ ঘোষ জানান, বাজারে যেমন পেঁয়াজের সরবরাহ কম তেমনি দামবৃদ্ধির কারণে বিক্রিও কম। আগে যেখানে দিনে ৬০-৭০ বস্তা পেঁয়াজ বিক্রি হতো সেখানে এখন দিনে গড়ে দশ বস্তার মতো বিক্রি হচ্ছে। তিনি জানান, যশোরে পেঁয়াজ আসে ফরিদপুর, রাজবাড়ী জেলার পাংশা, বালিয়াকান্দি, সমাধিনগর, কুষ্টিয়ার খোকসা, ঝিনাইদহের শৈলকূপা মোকাম থেকে। চড়া দামের কারণে সেখান থেকেও পেঁয়াজ কম আসছে।
যশোর হাটচান্নি আলু পেঁয়াজ পট্টির নোয়াখালী এজেন্সির স্বত্ত্বাধিকারী আলমগীর কবির জানান, আমদানিকৃত পেঁয়াজ বাজারে আসছে না। মোকাম থেকে বাজারে পেঁয়াজ কম আনছে। ফলে চাহিদার তুলনায় যোগান কম হওয়ায় দাম বাড়ছে। নতুন পেঁয়াজ কিংবা এলসি পেঁয়াজ বাজারে না আসা পর্যন্ত দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।
তিনি বলেন, মিডিয়াতে খবর আসছে ভারতীয় পেঁয়াজ আসছে। কিন্তু কবে কখন কিভাবে আসছে সে বিষয়ে কোনো সুনির্দ্দিষ্ট তথ্য নেই। এখন বাজারে কোথাও ভারতের পেঁয়াজের অস্তিত্ত নেই। আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে আছেন। যদি হুট করে বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ চলে আসে তবে দাম পড়ে যাবে। তখন তাদের বেশি দামের কেনা পেঁয়াজ লসে বিক্রি করতে হবে। আর যদি না আসে তবে এর দাম আরও বেড়ে যাবে। এ কারণে পাইকাররা পেঁয়াজ কেনাবেচায় দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন। তিনি বলেন সরকারিভাবে বাজার তদারকি না থাকায় যে যেভাবে পারছেন সেভাবে দান মারার চেষ্টা করছেন। যেন এসব দেখার কেউ নেই।
বাজার করতে আসা বারান্দীপাড়ার শহিদুল ইসলাম জানান, ‘দাম বাড়ায় আগের চেয়ে এখন পেঁয়াজ কম কিনি, তারপরও তো আগের চেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে। বাজার খরচ সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’ তিনি বলেন অন্যসব কিছুর মতো পেঁয়াজও নি¤œ আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।
চুয়ডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের খুচরা পেঁয়াজ বিক্রেতা মিজানুর রহমান মিঠু বলেন, দেশি পেঁয়াজ ডিসেম্বরের আগে ওঠার সম্ভাবনা নেই। এখন যদি বাজারে এলসির পেঁয়াজ না আসে তবে এখন যে দাম তা কমার পরিবর্তে আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।
চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে বাজার করতে আসা আমদাবাদ ফরিদপুরের গৃহিণী তহমিনা বেগম বলেন, ‘দাম বাড়ার কারণে হিসেব করে চলতে হচ্ছে। পেঁয়াজ কেনায় ‘‘না হলেই নয় ’’ এমন পরিস্থিতি না হলে কিনছি না। সংসার খরচে পেঁয়াজের দামও প্রভাব ফেলেছে।’
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সংকটময় পরিস্থিতি এড়াতে সরকার পেঁয়াজের আমদানির কথা ভাবছে। তবে আইনগত জটিলতায় টিসিবি কোনো পণ্যই আমদানির এখতিয়ার রাখে না। তবে সরকারের বিশেষ বিবেচনা আইনে টিসিবি পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নিলেও সব প্রক্রিয়া শেষ করে তা দেশে পৌঁছাতে কত সময় লাগবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft