শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
রাতে টয়লেটে মোবাইলের আলোই ভরসা
আশিকুর রহমান শিমুল :
Published : Wednesday, 30 October, 2019 at 1:46 AM
রাতে টয়লেটে মোবাইলের আলোই ভরসা যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্যানিটেশন ব্যবস্থা একেবারেই নাজুক। রাতে কোনো টয়লেটের বৈদ্যুতিক বাতি জ্বলেনা। টয়লেটে ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। সব থেকে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে নারীরা। হাসপাতালের স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিয়ে প্রতিদিনই রোগীদের কাছ থেকে অভিযোগ আসছে।

২৬ সেপ্টেম্বর দুপুর দু’টায় বুকে ব্যথা নিয়ে শার্শা উপজেলার ধাণ্যখোলা গ্রামের মৃত খোরশেদ আলীর স্ত্রী আতিরণ নেছা (৬০) হাসপাতালে ভর্তি হন। জরুরি বিভাগের ডাক্তার এম আব্দুর রশিদ তাকে ব্যবস্থাপত্র দিয়ে মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে রেফার করেন। রোগীর স্বজনরা ওয়ার্ডে আসলে দেখেন সেখানে কোনো স্থান নেই। ওয়ার্ডের ধারণ ক্ষমতার তিন-চার গুন বেশি রোগী। বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নেয়ার সামর্থ্য তাদের নেই। অবশেষ বাধ্য হয়ে মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের টয়লেটের সামনে তার স্থান হয়। রাত আট টায় তিনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে টয়লেটে যান। কিন্তু সেখানে বাতি থাকলেও জ্বলে না। ওই সময় বৃদ্ধা আতিরণ নেছা অন্ধকারে টয়লেটে পড়ে যান। পরে তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে দেখতে পান মাথা ফেটে রক্ত বের হচ্ছে ও অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। রোগীর স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে চিকিৎসা করান। 

রোগীর মেয়ে ফাতেমা খাতুনের অভিযোগ, বয়সের কারণে তার মা একা চলাচল করতে পারেন। ঘটনার সময় তিনি মায়ের ওষুধ কিনতে গিয়েছিলেন। তাই মা একাই টয়লেটে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে ময়লা আর্বজনার স্তুপ ও বাতি না থাকায় হাসপাতালে ভর্তি হয়ে মাথা ফাটলো। এখন বুকের সাথে মাথারও চিকিৎসা করাতে হচ্ছে। 

সরজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ড, পুরুষ মেডিসিন ও মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ড, লেবার ওয়ার্ড ও সংক্রামক ওয়ার্ডের অবস্থা সব থেকে নাজুক। ওইসব ওয়ার্ডের টয়লেটগুলোর বেশ ক’টির দরজা নেই। অন্যগুলোর দরজা থাকলেও কিছু কিছু দরজার সিটকানি নেই। টয়লেটের সদর দরজার সামনে মেঝেতে পানি জমে থাকে। বেসিংগুলো ব্যবহার না হওয়ায় তার চারপাশে ময়লা আর্বজনার স্তুপ। অনেক জায়গায় টয়লেটের পাইপ ভেঙ্গে পানি পড়ছে। দেয়ালে শ্যাওলা জমে লাল হয়ে আছে। 

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আজগর মৃধা নামে এক রোগীর অভিযোগ,  হাসপাতালের উৎকট দুর্গন্ধ এবং টয়লেটের নোংরা পরিবেশের কারণে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। বড় সমস্য কোনো টয়লেটে রাতে বাতি জ্বলেনা। পুরুষদের থেকে নারীদের দুর্ভোগ বেশি। রাতে টয়লেটে গেলে মোবাইল ফোনের বাতিই ভরসা। প্রতিদিন বৃদ্ধ রোগীরা টয়লেটে পড়ে আহত হচ্ছেন। 

ময়না বেগম নামে এক রোগীর অভিযোগ, গত তিন দিন ধরে তিনি মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতালে থাকা টয়লেট গুলো প্রতিদিন নিয়মিত তিন-চার বার পরিষ্কার করার কথা থাকলেও পরিছন্নকর্মীরা তাদের দায়িত্ব পালন করেন না। আবার কোনো কোনো দিন দায়সারা ভাবে একবার পরিস্কার করেই দায়িত্ব শেষ করেন। 

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার আবুল কালাম আজাদ লিটু জানিয়েছেন, তার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। অতিদ্রুত টয়লেটের সমস্যা গুলো সমাধান করা হবে।  রাতে টয়লেটে মোবাইলের আলোই ভরসা



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft