শনিবার, ০৬ জুন, ২০২০
জাতীয়
ওয়াকার্স পার্টির তালিকায় ৮৫ ভাগ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা!
কাগজ ডেস্ক :
Published : Tuesday, 29 October, 2019 at 8:37 PM
ওয়াকার্স পার্টির তালিকায় ৮৫ ভাগ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা!মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নাম ওঠাতে অনৈতিক প্রস্তাব করে বসেছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। এমন প্রস্তাবে বিব্রত সংসদীয় কমিটি। কেন তাদের মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নাম ওঠাতে হবে তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এবার এমন কারো নাম এসেছে যার জন্ম ১৯৮০ সালে। সেও নাকি মুক্তিযোদ্ধা! এসব বিষয় নিয়ে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংসদীয় কমিটি।
মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে সংসদ ভবনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকের আলোচনায় এসব তথ্য উঠে আসে।
বৈঠক শেষে কমিটি সভাপতি মো. শাজাহান খান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে এসব তথ্য জানান।
কমিটির সভাপতি বলেন, ‘চট্টগ্রামের ন্যাপ ছাত্র ইউনিয়নের নেতা মো. মিজানুর রহমান। তার জন্ম ১৯৮০ সালে। সে কি করে মুক্তিযোদ্ধা হয়? ১৯৮০ সালে যার জন্ম কেন তাকে মুক্তিযোদ্ধা বানাব? এনিয়ে আমরা উচ্চ আদালতে যাব।’
তিনি বলেন, ‘ওয়ার্কার্স পার্টির ৪২১ জনের তালিকা দিয়েছিল তাদের শতকরা সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ টিকতে পারে। বাকি ৮৫ ভাগই অমুক্তিযোদ্ধা, আরও বেশি হতে পারে। আমাদের নীতিমালায় মুক্তিযোদ্ধার যে সঙ্গা, সেই সঙ্গায় এখানেও টিকবে না অন্তত ৫০ শতাংশ। কেন তাদেরকে মুক্তিযোদ্ধা বানাব? এসব বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের ব্যাখা চাওয়া হয়েছে।’
মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটে নাম রয়েছে চট্টগ্রামের মো. মিজানুর রহমানের। তার বাবার নাম মৃত আব্দুল মজিদ, গ্রাম-হাজিগাঁও, ডাকঘর-বটতলী, উপজেলা-আনোয়ারা, জেলা-চট্টগ্রাম।
বৈঠকে গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্সের বর্তমান অবস্থা, মুক্তিযোদ্ধাকল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বোর্ড গঠন, গজনবি রোড, কলেজ গেইট মোহাম্মদপুরে অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১ এর বরাদ্দ এবং গজনবি রোডের বাড়ি নম্বর ১/৬ এর সর্বশেষ অবস্থা, সাব-কমিটিসমূহের কার্যক্রমের সার্বিক অবস্থা এবং বিবিধ বিষয়ের উপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। স্বল্প সুদে মুক্তিযোদ্ধাদের ঋণ প্রদান এবং রাজাকারদের তালিকা চূড়ান্তকরণের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা করা হয়।
এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের নাম ব্যবহারকারী সংগঠনগুলোর নাম, ঠিকানা এবং রেজিস্ট্রেশন ইত্যাদি সঠিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংগঠনগুলোকে নিবন্ধিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়। রাজাকারদের তালিকা চূড়ান্তকরণের লক্ষে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এবং প্রত্যেক জেলা প্রশাসককে চিঠি পাঠানোর মাধ্যমে রাজাকারদের তালিকা সংগ্রহের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়।
যে সকল জেলা/উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স তালাবদ্ধ অবস্থায় আছে। সেগুলো খুলে দেয়ার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সিদ্ধান্ত হয়। চূড়ান্ত যাচাই বাচাইকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করার বিষয়েও বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়।
রাজাকারদের তালিকার বিষয়ে কমিটি সভাপতি বলেন, ‘রাজাকারদের তালিকা আমরা পেয়েছি। কিছুটা অসম্পন্ন। আরও যাচাই-বাছাই করে তালিকা প্রকাশ করা হবে। কারো নাম একবার তালিকায় চলে আসার পর যদি দেখা যায় সঠিক না। তাহলে তো প্রশ্নের সন্মুখীন হতে হবে। তাছাড়া একজনের নাম অযাচিতভাবে আসলে তার জন্য লজ্জজনক হবে। তাই আরো যাচাই বাছাই করে প্রকাশ করা হবে। কবে প্রকাশ করা হবে সে বিষয়ে জামুকার (জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল) বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে।
কমিটির সভাপতি শাজাহান খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, রাজি উদ্দিন আহমেদ, মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম, বীর উত্তম, কাজী ফিরোজ রশীদ এবং ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল অংশ নেন।
এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, মুক্তিযোদ্ধাকল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের মহাপরিচালকসহ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft