সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০
সারাদেশ
নুসরাত হত্যা:
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামিকে কনডেম সেলে পাঠাতে চিঠি
কাগজ ডেস্ক :
Published : Monday, 28 October, 2019 at 3:34 PM
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামিকে কনডেম সেলে পাঠাতে চিঠিফেনীর সোনাগাজীতে মাদরাসাছাত্র নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামিকে কুমিল্লা কারাগারের কনডেম সেলে পাঠাতে কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) এর কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
গতকাল রবিবার ফেনী জেলা কারা কর্তৃপক্ষ এ চিঠি পাঠায় বলে সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফেনী জেলা কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার রফিকুল কাদের।
তিনি জানান, ফেনী জেলা কারাগারে পৃথক কনডেম সেল না তাকায় ১৬ আসামিকে কুমিল্লা কারাগারের কনডেম সেলে রাখার অনুমতি চেয়ে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে। কারণ, কুমিল্লা কারাগারেও যদি কনডেম সেল ফাঁকা না থাকে তবে আসামিদের স্থানান্তরের জন্য কাশিমপুরসহ যেসব কেন্দ্রীয় কারাগারে কনডেম সেল ফাঁকা রয়েছে সেগুলোতে যোগাযোগ করা হবে।
ইতোমধ্যে নুসরাত হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ১৬ আসামিদের যেসব সেলে রাখা হয়েছে সেখানে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশীদের আদালত বহুল আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ এসএম সিরাজউদ্দৌলাসহ অভিযুক্ত ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করে রায় ঘোষণা করেন। সেই টাকা আদায় করে নুসরাতের পরিবারকে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
নুসরাত হত্যায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামি হলেন- সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ এসএম সিরাজউদ্দৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরয়ে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, হাফেজ আবদুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে শম্পা ওরফে চম্পা, আবদুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মোহাম্মদ শামীম, মাদরাসাটির গভর্নিং বডির সহ-সভাপতি রুহুল আমীন ও মহিউদ্দিন শাকিল।
রায় ঘোষণার সময় আদালত বলেন, ‘নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার রায়ের মধ্য দিয়ে ‘নারীত্বের মর্যাদা রক্ষায়’ ও নুসরাতের ‘তেজদীপ্ত আত্মত্যাগ’ চিরকাল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। এলাকার শিক্ষা সম্প্রসারণে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলোকজ্জ্বল ভূমিকাকে কালিমালিপ্তকারী এ ঘটনা বিশ্ব বিকেককে নাড়া দিয়েছে। নারীত্বের মর্যাদা রক্ষায় ভিকটিম নুসরাতের তেজদীপ্ত আত্মত্যাগ তাতে ইতোমধ্যে অমরত্ব দিয়েছে। নুসরাতের এই অমরত্ব চিরকালের অনুপ্রেরণা। অন্যদিকে আসামিদের ঔদ্ধত্য কালান্তরে মানবতাকে লজ্জিত করবে নিশ্চয়। এ কারণে আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তিই প্রাপ্য।’
সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা থেকে আলিম (এইচএসসি সমমান) পরীক্ষার্থী নুসরাতকে চলতি বছরের ৬ এপ্রিল পরীক্ষা চলাকালে মাদরাসা ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। গুরুত্বর দগ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হলে ৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় সবার চেষ্টা ব্যর্থ করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান নুসরাত।
সোনাগাজীর উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের মাওলানা এ কে এম মুসা মানিকের মেয়ে নুসরাত তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে ছিলেন তৃতীয়।
পরিবারের অভিযোগ, সোনাগাজী সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ এস এম সিরাজউদ্দৌলা ২৭ মার্চ নুসরাত জাহানের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। নুসরাত বিষয়টি বাসায় জানালে তার মা সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। ওই মামলার প্রেক্ষিতে সোনাগাজী থানা পুলিশ অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাকে গ্রেফতার করে।
এরপরই মামলা তুলে নেয়ার জন্য প্রতিনিয়ত নুসরাত ও তার পরিচারের ওপর চাপ বাড়াতে থাকে লম্পট সিরাজের লোকেরা। ক্রমেই পরিস্থিতি প্রতিকূল হয়ে উঠে। এমতাবস্থায় প্রতিদিন নুসরাতকে পরীক্ষা হলে দিয়ে আসতো তার বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। এক পর্যায়ে মামলা তুলে নিতে নুসরাত অস্বীকৃতি জানালে ৬ এপ্রিল পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ পরই নুসরাতকে মাদরাসা ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় পাষণ্ডরা।
নুসরাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সারা দেশে সব মহলে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠে গোটা দেশ। এরইমধ্যে ৮ এপ্রিল নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এর পরই অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌল্লাসহ এক এক করে ২১ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এরই ধারবাহিকতায় ১৬ জনকে আসামি করে ২৯ মে আদালতে ৮০৮ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করে পিবিআই। চার্জশিটভুক্ত ১৬ আসামির মধ্যে ১২ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
৩০ মে মামলাটি স্থানান্তর হয় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে। ১০ জুন আদালত মামলাটি আমলে নিলে শুরু হয় শুনানি। ২০ জুন অভিযুক্ত ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গঠন করেন বিচারিক আদালত।
এর পর ২৭ ও ৩০ জুন মামলার বাদী নোমানকে জেরার মধ্য দিয়ে মামলার বিচারকার্য শুরু হয়। মোট ৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে ৮৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেনন আদালত।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft