সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
ক্ষেতশ্রমে নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি
শিলা খাতুন :
Published : Friday, 25 October, 2019 at 6:24 AM
ক্ষেতশ্রমে নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি  দুই ছেলে বিয়ে করে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আলাদা সংসার পেতেছেন। বিয়ের পর মেয়েটাও শ্বশুরবাড়ি। সত্তর বছর বয়সী স্বামী শুধু কর্মক্ষমই নন, গুরুতর অসুস্থ। নিজেদের কোন জমি-জিরেত নেই যা ব্যবহার করে দু’জনের মুখের অন্ন জোগাড় হবে। বাধ্য হয়েই তাই অন্যের ক্ষেতে কামলা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে ৬০ বছরের তসিরন বিবিকে।
যশোর সদর উপজেলার আব্দুলপুর গ্রামে বাড়ি তসিরন বিবির। যশোর শহর থেকে যশোর-চৌগাছা সড়কের ১০/১২ কিলোমিটার দূরে গ্রামটি সবজির বীজ উৎপাদনের জন্যে ইতোমধ্যেই বিখ্যাত হয়েছে। এই গ্রামের প্রায় প্রতিটি কৃষকই নানা ধরণের সবজির বিজ উৎপাদনের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন দেশের নানা প্রান্তে। যা চাষ করে সবজির চাহিদা পূরণের মাধ্যমে বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে। দেশ পাচ্ছে রাজস্ব। আন্দুলিয়ার এমনই একজন ক্ষেতশ্রমিক তসিরন বিবি।
সম্প্রতি তসিরন বিবির সাথে যখন কথা হয় তখন তার সাথে ক্ষেতে বাঁধাকপির চারা রোপন করছিলেন আরেক সহকর্মী শেফালী বেগম। তিনিও সংসারের নিদারুন বাস্তবতায় শেষ বয়সে হয়েছেন ক্ষেতশ্রমিক। এরকম প্রায় কুড়িজন নারী ক্ষেতশ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন আন্দুলিয়ার মাঠে। সবজির বীজ ও সবজি উৎপাদনে নিজেরা যেমন অবদান রাখছেন তেমনি নিজেদের সংসারের অভাব দূরীকরণেও ক্ষেতই হয়ে উঠেছে তাদের সহায়ক। নারী-পুরুষের কোনও ভেদাভেদ এখানে খুঁজে পাওয়া যাবে না-সবাই কাজ করছেন সমানতালে।
তসিরন বিবি জানান, স্বামী কোনও কাজ করতে পারেন না। সন্তানরাও কোন খোঁজখবর নেন না। মাঝেমধ্যে মেয়ে-জামাই আসলে তাদের মুখে দু’মুঠো ভালোমন্দ খাবারও তুলে দেয়া লাগে। রয়েছে অসুস্থ স্বামীর জন্যে নিয়মিত ওষুধ কেনার বাড়তি খরচ। সব মিলিয়ে খুবই করুন অবস্থায় তারা দিনাতিপাত করতে বাধ্য হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় সবজি ক্ষেতে কাজ করে যা রোজগার করেন তা দিয়ে কোনওমতে চলছেন বলে জানান তিনি।ক্ষেতশ্রমে নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি
তসিরন বিবি জানান, স্বামী ভ্যানে শুধু কাঁচামাল আনানেয়া করেন। সে কারণে প্রতিদিন ভাড়া হয় না। মাঝেমধ্যে যা হয় তাও নিতান্ত। বাধ্য হয়েই তাকে রোজগারে নামতে হয়েছে। নিজে ক্ষেতে বীজ বপন করেন। ১০ গ্রামের এক পাতা বীজ ঠিকঠাকমত বপন করতে পারলে ২৫ টাকা পাওয়া যায়। এভাবে দিনে প্রায় ১৫ পাতা বীজ বপন করতে পারেন তিনি। এতে দিনে আয় হয় প্রায় পৌনে তিনশ টাকা। পাশাপাশি ক্ষেত থেকে পটল, সিম, ঝাল তোলার কাজও করেন তসিরন বিবি। সকাল বা বিকেলে একবার এ কাজ করার সুযোগ পান তিনি। এর জন্যে পারিশ্রমিক পান ৬০ টাকা।
শেফালী বেগমের এক ছেলে, এক মেয়ে। দু’জনই পড়াশোনা করে। তিনি জানান, দিনে যা রোজগার করেন তা দিয়ে সন্তানদের পড়াশোনার খরচই ওঠে না। টানাপোড়েনের সংসারে হাল ধরতে বাধ্য হয়েই তিনি ক্ষেতের কাজে নিযুক্ত হয়েছেন। ঘরের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করে তিনি এই কাজ করছেন বলে জানান।
আন্দুলিয়া এলাকার প্রায় প্রতিটি জমিতে এভাবে নারীদেরকে পুরুষের সাথে সমানতালে কাজ করতে দেখা যায়। ক্ষেতমালিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অনেক নারী শ্রমিক আন্দুলিয়ার মাঠে বীজ উৎপাদনে নিয়মিত কাজ করছেন। এরা প্রতিদিন ভোরে ক্ষেতে চলে আসেন। কাজও করেন গভীর মনোযোগের সাথে।
একজন পুরুষের তুলনায় নারী শ্রমিক বেশি কাজ করেন জানিয়ে ক্ষেত মালিক টিটো মিয়া বলেন, ‘পুরুষ শ্রমিকরা কাজের ফাঁকে ফাঁকে বিড়ি খাওয়া, এটা ওটা করতে যেয়ে বেশ সময় অপব্যয় করেন। কিন্তু, নারী শ্রমিকদের তেমন কোনও বিষয় নেই। তারা যতক্ষণ কাজ করে গভীর মনোযোগের সাথে করে।’
এদিকে, নারী শ্রমিকের পাশাপাশি এলাকার অন্যান্য গৃহবধূদেরকেও স্বামী, সন্তানদের সাথে ক্ষেতে শ্রম দিতে দেখা যায়।
নারী-পুরুষ সমতার ভিত্তিতেই এই এলাকা সবজি উৎপাদনে সাফল্যের শীখরে উঠছে বলে জানান আজগর আলী নামে স্থানীয় এক কৃষক। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft