বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
অর্থকড়ি
বাগেরহাটের চিংড়ি ঘেরে মড়ক
বাগেরহাট প্রতিনিধি :
Published : Friday, 25 October, 2019 at 6:24 AM
বাগেরহাটের চিংড়ি ঘেরে মড়কআগস্ট মাসের শেষে বাগেরহাটের তিন উপজেলার চিংড়ি ঘেরগুলোতে হঠাৎ করে মড়ক দেখা দেয়। মাত্র দুই-তিন দিন স্থায়ী এই মড়কে চিংড়ি চাষিদের ক্ষতি হয় প্রায় ৩০ কোটি টাকা। যদিও সরকারি ভাবে চাষিদের ক্ষতির পরিমান বলা হচ্ছে ১৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। চিংড়িতে এ বিপর্যয়ের পর এই পর্যন্ত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু ও সচিব রইছুল আলম মন্ডলসহ মৎস্য অধিদপ্তরের উর্ধতন কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্থ মৎস্য ঘের পরিদর্শনসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে মতবিনিময় করেন।
গত ২১ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর এই মড়কের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি ছিল। পরে এর মাত্রা কমতে শুরু করে। এসময় বাগেরহাট জেলা মৎস্য অধিদপ্তর ক্ষতিগ্রস্থ ওই তিন উপজেলার বিভিন্ন মৎস্য ঘের হতে ৫০টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য বাগেরহাট চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্রে পাঠায়। সেখানে পরীক্ষা নিরিক্ষার পর প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে চিংড়ি ঘেরগুলোর মড়কের জন্য অক্সিজেন সল্পতাকে প্রধান কারন উল্লেখ করা হয়েছে। আর এই অক্সিজেন সল্পতা বৈরি আবহাওয়ার জন্য সৃস্টি হয়েছিল বলে জানান বাগেরহাট চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্রের উর্ধতন কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম।
যদিও এর আগে বাগেরহাট জেলা মৎস্য অধিদপ্তর প্রাথমিক ভাবে তিনটি কারণ উল্লেখ করে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছিল। সেই কারনগুলো ছিল- অধিক ঘনত্বে মাছ ছাড়া (শতাংশ প্রতি যে পরিমাণ মাছ চাষ করা যায়, তার থেকে বেশি পরিমাণ মাছ ছাড়া), পানির গভীরতা ঠিক না রাখা ও অতিরিক্ত খাবার দেওয়া এবং বৈরি আবহাওয়া ও হঠাৎ বৃষ্টি।
বাগেরহাট জেলা মৎস্য অধিদপ্তর সুত্রে জানাগেছে, জেলায় ৭৩ হাজার ২৭০টি চিংড়ি ঘের রয়েছে। যার আয়তন ৫২ হাজার ৯শ’ হেক্টর। এর মধ্যে ৪৯ হাজার ৩০৯টি গলদা চিংড়ির ঘের রয়েছে। এরমধ্যে প্রথম ধাপেই ক্ষতিগ্রস্থ হয় ৩ হাজার ১০৩টি ঘের। আর আয়তন ৯৪০ হেক্টর।
প্রথম ধাপের তীব্র মড়কে বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট, মোল্লাহাট, চিতলমারী ছাড়াও বাগেরহাট সদর উপজেলার কিছু অংশে মড়ক দেখা দেয়। সেই সাথে খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার ঘেরগুলোতেও এই মড়ক দেখা যায়।
ফকিরহাট উপজেলার নলধা এলাকার চিংড়ি চাষি আছাদুজ্জামান বলেন, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে হঠাৎ বৃষ্টিতে চিংড়ি ঘেরের পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ায় তার ঘেরের গলদা-বাগদা চিংড়ি মারা গেছে। এই মড়ক তাদের সহায় সম্বল কেড়ে নিয়েছে। বিভিন্ন এনজিও ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতেন তারা।
চিতলমারী উপজেলার বারাশিয়া বিলের ঘের ব্যবসায়ী মেসার্স জাহিদ ট্রের্ডাসের স্বত্তাধিকারী জাহিদুল ইসলাম জানান, ‘ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ৮৫ বিঘা জমিতে মাছের চাষ করেছিলাম। বাগদা, গলদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছে ঘের ভরা ছিল। কিন্তু গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে হঠাৎ বৃষ্টির পর আমার ঘেরে মড়ক দেখা দেয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মারা যাওয়া শুরু করে চিংড়ি। এতে আমার ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন আমি সর্বশান্ত হয়ে পড়েছি। আমাদের সরকারি ভাবে সাহায্য ও ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে পুনঃরায় ঋণ দেয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবী জানাই।’
একই অবস্থা হয়েছে আক্রান্ত এলাকার অন্য ঘের ব্যবসায়ীদেরও। তারাও সরকারের নিকট ক্ষতি নিরুপন করে আর্থিক সহায়তা কামনা করেছেন।
বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. খালেদ কনক বলেন, জেলার তিন উপজেলার এতো পরিমাণ চিংড়ি মারা যাওয়া চাষিদের জন্য বিপর্যয়ের। চাষিদের ক্ষতির পরিমান নিরুপন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। সনাতন পদ্ধতিতে মাছ চাষের ফলে অনেক চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft