শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০
অর্থকড়ি
ধান, আলুর পর পাটের নাম না থাকায় হতাশ বরেন্দ্র অঞ্চলের চাষিরা
ডাঃ মোঃ হাফিজুর রহমান (পান্না), রাজশাহী ব্যুরো :
Published : Monday, 21 October, 2019 at 9:48 AM
ধান, আলুর পর পাটের নাম না থাকায় হতাশ বরেন্দ্র অঞ্চলের চাষিরাপাটের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার রাজশাহীতে পাটের আবাদ বেড়ে  প্রায় ৭ হাজার বিঘা পাট চাষ করেছেন চাষিরা। আশা করছিলেন সোনালী আঁশের সু-দিন ফিরে আসবে। কিন্তু কাংখিত দাম না পাওয়ায় কৃষকেরা অনেকটায় হতাশ।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর হতে জানা যায়, এবার রাজশাহীতে পাটের আবাদ হয়েছে ১৩ হাজার ৫৯৮ হেক্টোর জমিতে। আবাদের লক্ষমাত্রা ছিল ১৩ হাজার ৫৭৫ হেক্টার। গত বছর পাটের আবাদ হয়েছিল ১২ হাজার ৭২৫ হেক্টোর জমিতে। গত বছরের চেয়ে এবার প্রায় ৭ হাজার বিঘা বেশি জমিতে পাটের আবাদরাজশাহীর চাষিরা।
সোনালী আঁশের সু-দিন ফিরে আসারতো দুরের কথা সোনালী আঁশ এখন কৃষককে গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক সময়ে জেলার প্রধান অর্থকরি ফসল ছিল পাট। অর্থকরী ফসল হিসাবে এলাকায় পাটের কদরও ছিল বেশ ভাল। বর্তমানে ধানের দামের মত পাটের দাম না পেয়ে কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।
পাটচাষি সূত্রে জানা গেছে, খরাপীড়িত বরেন্দ্র অঞ্চলের লোক কৃষির উপর নির্ভরশীল। বরেন্দ্র অঞ্চলে পাট ও ধানের চাষ ভালো হয়। এবারে পাটের বীজ বপনের সময় আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাটের ফলন ভাল হয়েছে।
গোদাগাড়ী উপলোর কৃষক মতিউর রহমান বলেন, শ্রমিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাট বিক্রি করে কিছুই থাকছে না কৃষকের। শ্রমিকদের দু’বেলা খাবার দিয়ে একজন পাট ধোয়া শ্রমিকের মজুরি সাড়ে ৫শ’ টাকা। সারা দিনে একজন শ্রমিক ১৮ থেকে ২০ বিড়া  পাট ধুতে পারে। পাটের দাম কম হবার কারণে অন্যান্য খরচাদি দিয়ে কৃষকের লাভ জুটছে না। পাটের ন্যায্য দাম না পেয়ে কৃষক হতাশ হয়ে পড়েছেন।
তিনি আরো বলেন, ধান, আলু, পাটে এই ভাবে লশ খেয়ে আমারা ঋনে জরিয়ে গেছি। এভাবে ক্ষতি হওয়াতে আমারা দিন দিন আবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছি। কোন ভাবে কৃষককে সুদিন ফিরে আসছেনা। কারা এসব সিন্ডিকেট করছে সরকার তাদেরও ব্যাস্থা করছেনা।
তানোর উপজেলার কয়েকজন পাট চাষির সাথে কথা বলে জানা গেছে, এবারে এক বিঘা জমিতে পাট চাষ বাবদ বীজ, সার, কীটনাশক, পরিচর্যা, পচানী দিতে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়ার পরিবহন খরচ থেকে শুরু করে পাট ছিলা ও রোদে শুকিয়ে তা ঘরে তোলা পর্যন্ত ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হছে। এর মধ্যে পাট কাটা ও তা পরিবহনসহ পাট গাছ জাগ দেয়ার জন্য সেগুলো কোন জলাশয়ে নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত পরিবহন খরচ সহ বিঘা প্রতি খরচ হয় ১০ হাজার টাকা।
তাদের মতে, এ বছর পাটের আঁশ মোটা না হওয়ায় বিঘা (৩৩ শতক) প্রতি ৭ থেকে ৮ মণ (৪০ কেজি) হারে উৎপাদন হচ্ছে। বর্তমানে উপজেলার কয়েকটি হাটে নতুন পাট বেচা কেনা শেষের পথে। কেনা বেচার শুরুর দিকে মানভেদে এসব পাটের দর প্রতি মণ ১৮শ’ থেকে ২ হাজার টাকা থাকলেও বর্তমানে আরো কমেছে। পাটের দাম কম হয়ায় খরচ জুটছে না। কৃষকদের দাবি ধানের মত পাটের বাজারও সিন্ডিকেটের দখলে চলে যাওয়ার লোকশান গুণতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে তারা সরকারি ভাবে পাটের দাম নির্ধারন ও পাট ক্রয়ের উদ্যোগ গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন তারা।
সোমবার সকালে নওহাটা বাজারে প্রতিমণ পাট বিক্রি হয় ১৬শ-১৭শ টাকা। এতে কৃষকের পাটচাষে লোকসান হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সামছুম হক বলেন, পাট একটি পরিবেশ বান্ধব উদ্ভিদ আখ্যায়িত করে বলেন, জেলায় এবারে পাটের আবাদ বেড়েছে। বর্তমান বাজারে লোকসান হওয়ার কথা নয়। এছাড়াও ফসলের মূল্য কমবেশী বাজার মনিটরিং কর্মকর্তাগণ দেখভাল করে থাকেন।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft