রবিবার, ০৭ জুন, ২০২০
অর্থকড়ি
যশোরে পেঁয়াজ সংকটের শঙ্কা!
দাম কমতে লাগবে তিনমাস
বাজার মনিটরিংয়ে দুর্বলতা
এম. আইউব :
Published : Tuesday, 15 October, 2019 at 6:14 AM
দাম কমতে লাগবে তিনমাস অস্থিরতা কাটছে না পেঁয়াজের বাজারে। গত দেড়মাস ধরে যশোরের বাজারে প্রায় একই দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। ৮৫ টাকা থেকে শুরু করে ১শ’১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। সর্বশেষ সোমবার বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৮৫ টাকা কেজি দরে। এটি বড় বড় আড়তের দাম। খুচরা দোকানে এই দামে কিছুটা হেরফের ছিল।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকাররা লোকসানে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। মোকাম থেকে যে দরে কিনছেন, যশোরের বাজারে সেই দামে বিক্রি করতে হচ্ছে মাঝেমধ্যে। এ কারণে তারা আপাতত মোকাম থেকে পেঁয়াজ না কেনার চিন্তা করছেন। আর এটি করলে যশোরের বাজারে সংকট তৈরি হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তখন দাম বর্তমানের থেকে আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা খুচরা বিক্রেতাদের।
গত ১২ আগস্ট ছিল ঈদুল আজহা। ঈদের আগে ও পরে পেঁয়াজের দাম কিছুটা হলেও বৃদ্ধি পায়। ঈদের সময় যশোরের বাজারে পেঁয়াজের দাম ছিল ৪৫-৫০ টাকা কেজি। তার আগে দাম আরও কম ছিল। ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদুল আজহার সপ্তাহ খানিক আগেও প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২৫ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছিল। ঈদ পার হওয়ার ঠিক এক মাসের মাথায় দাম কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্রেতারা হতভম্ব হন।
যশোরের খুচরা বিক্রেতারা শহরের এক ডজনের বেশি আড়ৎ থেকে পেঁয়াজ কিনে থাকেন। এখানে দেশি পেঁয়াজ আসে ফরিদপুর ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন মোকাম থেকে। বিশেষ করে ফরিদপুরের পেঁয়াজ আসে বেশি। এর বাইরে ভারতীয় পেঁয়াজ আসে ভোমরা বন্দর দিয়ে। তারপরও কোনো কোনো ব্যবসায়ী অন্যান্য জায়গা থেকে পেঁয়াজ সংগ্রহ করে থাকেন।
শহরের সবচেয়ে বড় পেঁয়াজের আড়ৎ নিউ আমিন এন্ড সন্সের অন্যতম স্বত্ত্বাধিকারী বাদশা মিয়া সোমবার জানান, মোকামে কয়েকদিন ধরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে। পাইকাররা ওইদামে কিনে যশোরের আড়তে একইদামে বিক্রি করেছেন কয়েকদিন। তারা এক প্রকার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন মোকাম থেকে পেঁয়াজ কিনে যশোরের বাজারে সরবরাহ করতে। কারণ তাদের লোকসান গুণতে হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে যশোরের কয়েকজন আড়ৎ ব্যবসায়ী জানান, নতুন পেঁয়াজ না ওঠা পর্যন্ত দাম যেভাবে যাচ্ছে একই রকম থাকবে। আর নতুন পেঁয়াজ উঠতে কমপক্ষে তিনমাস লাগবে। সেই পর্যন্ত ভোক্তাদের বাড়তি দামে পেঁয়াজ কিনতে হবে।
মোহাম্মদ নামে আরেকজন ব্যবসায়ী বলেন, পেঁয়াজের দাম মোকামে যেভাবে বাড়ছে, আড়তে সেই দামে বিক্রি হচ্ছে না। এ কারণে অনেকেই মোকামে আপাতত না যাওয়ার চিন্তা করছেন। এটি করলেও সংকট বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে দামও বেড়ে যেতে পারে বলে তার ধারণা। বর্তমানে যে দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে তার চেয়ে বেশি দামে ক্রেতাদের কিনতে হবে।  
ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজার মনিটরিংয়ে দুর্বলতার কারণে প্রতিনিয়ত পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। অনেক ব্যবসায়ী মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। কেবল বাজার ঘুরে বেড়ালে চলবে না। মনিটরিংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের মোকামের অবস্থাও জানতে হবে-বক্তব্য বিক্রেতাদের।
এসব বিষয়ে কথা হয় যশোর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিবের সাথে। তিনি বলেন, পূর্বে একদফা ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। তখন দাম কিছুটা কমেছিল। নতুন করে আবার বেড়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে। তার নেতৃত্বে আবারো ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।  
হঠাৎ করে দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে জানা যায়, বাংলাদেশে পেঁয়াজের রপ্তানিমূল্য দ্বিগুণ করে ভারত। প্রথম দফায় এ কারণে দাম বৃদ্ধি পায়। তখন আমদানিকারকরা জানিয়েছিলেন, ভারত প্রতিটন পেঁয়াজ ২শ’৫০ থেকে ৩শ’ মার্কিন ডলারে রপ্তানি করলেও মাস দেড়েক আগে তা বাড়িয়ে ৮শ’ ৫২ ডলার নির্ধারণ করে। আর এ কারণে বাংলাদেশের বাজারে মুহূর্তের মধ্যে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ হয়ে যায়। সর্বশেষ, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি আপাতত বন্ধ ঘোষণা করেছে। আর এটিকে পুঁজি করে বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft