রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০
জাতীয়
আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগ, দাবি সহপাঠীদের
ঢাকা অফিস :
Published : Monday, 7 October, 2019 at 4:24 PM
আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগ, দাবি সহপাঠীদেরবাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরে-বাংলা হলের দ্বিতীয়তলা থেকে আবরার ফাহাদ (২১) নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শিবির সন্দেহে তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে।
আববারের সহপাঠীরা বলছেন, বাংলাদেশ-ভারত চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার, আইন বিষয়ক উপ-সম্পাদক অমিত সাহার নেতেৃত্বে তাকে ক্রিকেট স্ট্যাম্প দিয়ে পেটানো হয় বলে জানিয়েছেন বেশকয়েকজন প্রতক্ষ্যদর্শী।
ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করে বলে দাবি করেছেন হলের আবাসিক ছাত্ররাও।
নিহত আবরার ফাহাদ বুয়েটের শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। ওই হলের হলের শিক্ষার্থীরা জানায়, শিবির সন্দেহে আবরারকে রোববার রাত আটটার দিকে হলের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে রাত আড়াইটার দিকে হলের সিঁড়ির পাশে আবরারের দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে ডাক্তারকে খবর দিলে তিনি এসে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তাকে হলের ওই কক্ষে মারধর করা হয় বলে বুয়েট ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিটু জানিয়েছে।
তিনি বলেন, আবরারকে শিবির সন্দেহে রাত আটটার দিকে হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে আনা হয়। সেখানে আমরা তার মোবাইলে ফেসবুক ও মেসেঞ্জার চেক করি। ফেসবুকে বিতর্কিত কিছু পেইজে তার লাইক দেয়ার প্রমাণ পাই। সে কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগও করেছে। শিবির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাই। এক পর্যায়ে আমি রুম থেকে বের হয়ে আসি। এরপর হয়তো তাকে মারধর করে থাকতে পারে। পরে রাত তিনটার দিকে শুনি আবরার মারা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে ফাহাদের একজন রুমমেট বলেন, টিউশনি শেষে রুমে রাত নয়টার দিকে আসি। তখন আবরার রুমে ছিলো না। অন্য রুমমেটদের কাছ থেকে জানতে পারি তাকে ছাত্রলীগের ভাইয়েরা ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে গেছে। পরে রাত আড়াইটার দিকে হলের একজন এসে আবরার আমাদের রুমমেট কিনা জানতে চান। আমি হ্যাঁ বললে সিঁড়ি রুমের দিকে যাওয়ার জন্য বলেন। পরে সিড়ি রুমের দিকে গিয়ে একটা তোশকের ওপরে আবরার পড়ে আছে। পরে ডাক্তার এসে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হল প্রভোস্ট মো. জাফর ইকবাল খান বলেন, রোববার (৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে খবর পাই এক শিক্ষার্থী হলের সামনে পড়ে আছে। তাৎক্ষণিকভাবে বুয়েটের চিকিৎসক দিয়ে তাকে পরীক্ষা করা হয়। ওই চিকিৎসক জানান তিনি বেঁচে নেই। পরে পুলিশকে খবর দিই। পুলিশ এসে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। কেন সে বাইরে গিয়েছিল, কী হয়েছিল, তা এখনো জানা যায়নি।
ডাক্তার মাসুক এলাহী জানান, রাত তিনটার দিকে হলের শিক্ষার্থীরা আমাকে ফোন দেয়। আমি হলে গিয়ে সিঁড়ির পাশে ছেলেটিকে পড়ে শোয়ানো অবস্থায় দেখতে পাই। ততক্ষণে ছেলেটি মারা গেছে। তার সারা শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাই।
ঘটনার বিষয়ে লালবাগ জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার কামাল হোসাইন জানান, হল প্রশাসনের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি। এসে ছেলেটির লাশ দেখতে পাই। পরে তা উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft