শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০
আন্তর্জাতিক সংবাদ
ইরাকে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জাতিসংঘের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
Published : Sunday, 6 October, 2019 at 8:06 PM
ইরাকে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জাতিসংঘেরমধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম অধ্যুষিত যুদ্ধবিধ্বস্ত রাষ্ট্র ইরাকজুড়ে এরই মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ। এতে টানা পাঁচদিন যাবত সড়কে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তাবাহিনীর চলা সংঘর্ষে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে একশ ছাড়িয়েছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। তাছাড়া গুরুতর আহত হয়েছে আরও কমপক্ষে আড়াই হাজারের অধিক বেসামরিক। যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
যে কারণে বিক্ষোভে মৃত্যুর ঘটনাকে ‘বাছবিচারহীন প্রাণহানি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে অবিলম্বে তা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। শনিবার (৫ অক্টোবর) সংস্থাটির ইরাক বিষয়ক মিশনের প্রধান জেনাইন হেনিস-প্লাসচেয়ার্ট আহ্বানটি জানান।
এক বিবৃতিতে জেনাইন হেনিস-প্লাসচেয়ার্ট বলেছেন, ‘গত পাঁচদিনে শতাধিক লোকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাছাড়া অনেক বেসামরিক এতে হতাহত হয়েছেন। যা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। এই প্রাণহানির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদেরকে অবিলম্বে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।’
কর্তৃপক্ষের বরাতে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘বিবিসি নিউজ’ জানায়, গত মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দমনে এরই মধ্যে রাজধানী বাগদাদজুড়ে জারি করা হয়েছে কারফিউ। তাছাড়া শহরটির প্রতিটি সড়কে পুরোপুরি সতর্ক অবস্থানে আছে পুলিশ।
সূত্রের বরাতে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’ জানায়, সরকারি চাকরি এবং দুর্নীতি নির্মূলের দাবিতে ইরাকের গণআন্দোলন আরও বেগবান হয়েছে। বিক্ষোভে নিহত শতাধিকের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) পুলিশসহ নিহত হয়েছেন মোট ১২ জন। তাছাড়া আহতদের মধ্যে অন্তত ৪২৩ জন নিরাপত্তাকর্মী।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ইরাকের দক্ষিণ প্রান্তের শহরগুলোতে ইতোমধ্যে কারফিউ জারি করেছে প্রশাসন। তবে জনগণ কিছুই মানছে না। তারা কারফিউ ভেঙেই রাস্তায় নামছে। আর এতেই সংঘর্ষের ঘটনা বেশি ঘটছে।
চাকরির সংকট, নিম্নমানের সরকারি সেবা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে মঙ্গলবার থেকে বাগদাদের রাজপথে নামেন কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী। তারা রাজধানীর সব প্রধান রাস্তা বন্ধ করে দিলে বিক্ষুব্ধদের দমাতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ও গুলি চালায় পুলিশ।
যার অংশ হিসেবে গত বুধবার বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে আরও তিন শহরে। শুক্রবার এই বিক্ষোভ আরও বিস্তৃত হয়েছে। এক বছর আগে প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদুল মাহদি ক্ষমতা গ্রহণের পর এটাই ইরাক জুড়ে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এ দিকে প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদুল মাহদি বলেছেন, তার সরকার বিক্ষোভকারীদের দাবি মানতে প্রস্তুত। তবে দুর্নীতি দূর করা কিংবা অন্যান্য সমস্যাগুলো একদিনে সমাধান করা যাবে না বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এজন্য আন্দোলনকারীদের কাছে সময় চেয়েছেন মাহদি।
অপরদিকে প্রশাসনের দাবি, বিক্ষোভের কারণে শহরে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কায় এরই মধ্যে রাজধানীজুড়ে আপাতত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সব ধরনের ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রয়েছে। প্রায় এক বছর আগে প্রধানমন্ত্রী আদেল আব্দুল মাহদি দায়িত্ব গ্রহণের পর এটাই দেশটিতে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভের ঘটনা বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft