বুধবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
লিজার আত্মহত্যা:
থানায় রেকর্ড না রাখায় শাহমখদুম থানার ওসিকে কৈফিয়ৎ তলবের সুপারিশ
রাজশাহী ব্যুরো :
Published : Sunday, 6 October, 2019 at 3:06 PM
থানায় রেকর্ড না রাখায় শাহমখদুম থানার ওসিকে কৈফিয়ৎ তলবের সুপারিশরাজশাহীতে থানা থেকে বের হয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে কলেজছাত্রীর আত্মহননের ঘটনায় পুলিশের কোন গাফিলতি খুঁজে পায়নি তদন্ত কমিটি। তবে ঘটনাটি থানায় রেকর্ড না রাখায় শাহমখদুম থানার ওসিকে কৈফিয়ৎ তলবের সুপারিশ করা হয়েছে। রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে এ সুপারিশ করা হয়েছে।
আরএমপির মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, কলেজছাত্রী লিজা রহমান তার স্বামীর দ্বারা মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে অভিযোগ করতে শাহমখদুম থানায় গিয়েছিলেন। কিন্তু এটি কোন ফৌজদারি অপরাধ না হওয়ায় মামলা রেকর্ড করেননি ওসি। তবে লিজাকে দুই নারী কনস্টেবলের সঙ্গে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখান থেকে বেরহয়ে থানার পাশে মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের গেটের সামনে লিজা নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গোলাম রুহুল আরো বলেন, লিজার অভিযোগ ফৌজদারি অপরাধ নয় বলে ঘটনাটি শাহমখদুম থানার ওসি হিসেবে রেকর্ড রাখেন নি। তাই তাকে কৈফিয়ৎ তলবের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। ঘটনাটি কেন থানায় রেকর্ড রাখা হয়নি তা জানতে চেয়ে পুলিশ কমিশনার শাহমখদুম থানার ওসিকে কৈফিয়ৎ তলব করবেন বলেও জানান তিনি।
আরএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) সালমা বেগমের নেতৃত্বে গঠিত দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি বিষয়টি তদন্ত করেন। তদন্ত শেষে গত বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটি আরএমপি পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবিরের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেন।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর লিজা স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে যান আরএমপির শাহমখদুম থানায়। কিন্তু অভিযোগ না নেয়ায় ক্ষোভে ও অপমানে থানা থেকে বেরিয়েই নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয় লিজা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে অবস্থা অবনতি হওয়ায় তাকে ওই দিনই ঢাকায় পাঠান চিকিৎসকরা। গতবুধবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যান লিজা। তার গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বুজরুক বোয়ালিয়া গ্রামে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে নিজ গ্রামে পারিবারিক গোরস্থানে লিজার মরদেহ দাফন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় লিজার বাবা আলম মিয়া বাদী হয়ে বুধবার রাতে মহানগরীর শাহ মখদুম থানায় একটি মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় তার মেয়েকে আত্মহননের প্ররোচিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। মামলায় আসামী করা হয় লিজার স্বামী সাখাওয়াত হোসেন, তার বাবা মাহাবুবুল আলম খোকন ও মা নাজনিন বেগমকে। শাহমখদুম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বণী ইসরাইলকে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার লক্ষীনারায়নপুর গ্রাম হতে লিজার স্বামী সাখাওয়াতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে লিজার স্বামী সাখাওয়াত রাজশাহী জেল হাজতে রয়েছে। শাখাওয়াত রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র। বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার খাজুরা থান্দুরা গ্রামে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft