সোমবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৯
সম্পাদকীয়
জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রসমূহের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন
Published : Sunday, 6 October, 2019 at 6:25 AM
বিগত কয়েক দশকে পৃথিবীতে মানব বসতির ক্ষেত্রে হুমকি হিসেবে সবচাইতে আলোচিত বিষয়টি হলো জলবায়ু পরিবর্তন। সঙ্গত কারণেই সর্বশেষ কয়েকটি জাতিসংঘ অধিবেশনে সবচাইতে বেশি গুরুত্ব সহকারে আলোচিত হয়েছে এ বিষয়টি।
জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আন্তঃরাষ্ট্রীয় প্যানেল (আইপিসিসি) কয়েক বছর ধরে জলবায়ু পরিবর্তন ও মানববসতির ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব এবং ভবিষ্যতের পৃথিবীতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সম্ভাব্য আশঙ্কা নিয়ে গবেষণাকর্ম পরিচালনা করে আসছে।
ইন্টার গভর্মেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি) এবারের জাতিসংঘ অধিবেশন চলাকালে চলতি বছরে পরিচালিত তাদের তৃতীয় গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এ প্রতিবেদনে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে যে সকল অনুমান তুলে ধরা হয়েছে, তা রীতিমত ভয়ঙ্কর। তাদের মতে, অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ও বরফ গলার হার বাড়ছে। সাথে সাথে বরফের আচ্ছাদন বিলীন হবার দরুণ বেড়ে চলেছে কার্বন নিঃসরণের মাত্রা।
গবেষণা বলছে, ২০০৭ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে তার আগের ১০ বছরের তুলনায় অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলেছে প্রায় তিনগুণ। অ্যান্ডিজ, মধ্য ইউরোপ এবং উত্তর এশিয়ায় যেসব হিমবাহ রয়েছে, সেগুলোর বরফ ২১০০ সাল নাগাদ ৮০ শতাংশ গলে যাবে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বরফ গলা এ পানি গিয়ে পতিত হচ্ছে সাগরে। ফলে এভাবে চলতে থাকলে আগামী দশকগুলোতে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকবে। আইপিসিসির নতুন এই রিপোর্টে বলা হয়েছে ২১০০ সাল নাগাদ সাগর-পৃষ্ঠের উচ্চতা ১.১ মিটার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এ ধারণা বাস্তবে রূপ নিলে পৃথিবীর নিচু অঞ্চলগুলোতে সাগরের উচ্চতা বৃদ্ধির পরিণতি হবে মারাত্মক। পৃথিবীর এসব নিচু উপকূলীয় এলাকায় বসবাসরত অন্তত ৭০ কোটি মানুষের জীবন বিপন্ন হবার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
এছাড়া সমুদ্রের ওপর এ ধরনের চাপ পৃথিবীর জীববৈচিত্র্যেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচাইতে আশঙ্কাজনক সম্ভাবনার মধ্যে বাংলাদেশের মতো দ্বীপ এলাকাগুলো যেমন রয়েছে, এ সকল ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে বাদ যাবে না নিউইয়র্ক বা সাংহাইয়ের মত বিত্তশালী নগরগুলোও।
বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং খাদ্যাভ্যাসের ধরনের কারণে নজিরবিহীন হারে ভূমি ও পানির ব্যবহার হচ্ছে। আইপিসিসির মতে, আগের চেয়ে খুব পরিমিত ও দক্ষভাবে ভূমি ব্যবহার করতে হবে। ফেরাতে হবে পশু-পাখির ভূমি। মাটির ক্ষয় ও মরুকরণ ঠেকাতে বড় ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে। জলবায়ু ব্যবস্থায় মাটির ভূমিকাকে প্রায়শই এড়িয়ে যাওয়া হয়। অথচ সমুদ্রের পর মাটি হচ্ছে দ্বিতীয় বৃহত্তর কার্বন মজুদের স্থান। গাছপালা বায়ুম-ল থেকে কার্বনডাইঅক্সাইড শোষণ করে এবং তা মাটিতে ছেড়ে দেয়। তবে বন উজারিকরণ ও কম কৃষি চর্চার কারণে তা আর সম্ভব হয়ে ওঠে না। ফলে মাটির ক্ষয় হয়ে কার্বনডাইঅক্সাইড আবার বায়ুম-লে ফিরে যায়।
বিশ্বের প্রায় ১৫০টি দেশে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এ ধরনের প্রতিবাদ-বিক্ষোভ আরও জোরালো করতে হবে। পৃথিবীর ক্ষমতাশালী রাষ্ট্রসমূহের নীতিনির্ধারকদের এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণে বাধ্য করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে পারলে এবং জলবায়ুর ক্ষতিকর পরিবর্তন বিষয়ে বিশ্বব্যাপী মানুষকে সচেতন করে তোলা সম্ভব হলে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে মানবসভ্যতা রক্ষা পেতে পারে। এর অন্য কোনো বিকল্প নেই।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft