বুধবার, ০৩ জুন, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
ভবদহ অঞ্চলে খাল দখল করে মাছ চাষ : ভয়াবহ জলাবদ্ধতার আশঙ্কা
কাগজ ডেস্ক :
Published : Sunday, 29 September, 2019 at 6:46 AM
ভবদহ অঞ্চলে খাল দখল করে মাছ চাষ : ভয়াবহ জলাবদ্ধতার আশঙ্কাযশোরের অভয়নগর উপজেলার ভবদহ অঞ্চলে চলিশিয়া ইউনিয়নের কোটা গ্রামে গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি খাল দখল করে মাছ চাষের অভিযোগ পাওয়া গেছে। খালের মধ্যে থাকা স্লুইস গেটের একপাশে লোহার নেট লাগিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। অপর পার্শ্বে মাটি ভরাট করে খাল দখল করা হয়েছে। খাল ও বিল এক করে মৎস্য চাষ করছে একটি প্রভাবশালী মহল। ভয়াবহ জলাবদ্ধতার আশঙ্কায় রয়েছে এলাকাবাসী।
অবৈধভাবে দখল করা খাল ও স্লুইস গেট অবমুক্তকরণের দাবি করে ইউএনও বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান বিষয়টি খতিয়ে দেখে জনস্বার্থে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
ইউএনও বরাবর গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে পেশকৃত অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চলিশিয়া ইউনিয়নের ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডে বিল চাত্রার পাশে সয়েলের খান নামে একট সরকারি খাল রয়েছে। উক্ত খালের মধ্যে সরকারি স্লুইস গেট রয়েছে। স্থানীয় একটি কুচক্রী মহল দীর্ঘদিন যাবৎ সরকারি খালটি দখল করে রেখেছে এবং স্লুইস গেটের দুই পার্শ্বের মুখ বন্ধ করে খাল দখল করে মাছ চাষ করছে। এমতাবস্থায় উক্ত খাল ও স্লুইস গেটটি অবমুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার চলিশিয়া ইউনিয়নের কোটা গ্রামে বিল চাত্রার পাশ দিয়ে বয়ে চলা সরকারি খাল (সয়েল) গিয়ে দেখা যায়, খালের শুরুটা কোটা গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় (খন্দকার পাড়া)। খালটি সরাসরি ভবদহের টেকা নদী ও ডুমুরতলা খালের সাথে সংযুক্ত হয়েছে। খালের সাথে বিলের কয়েকটি স্থানে মাটির বাঁধ না থাকায় খাল ও বিল এক হয়ে গেছে। তবে দুটি মৎস্য ঘের মালিক তাদের মৎস্য ঘের ও খালের মধ্যবর্তী স্থানে মাটি এবং নেট দিয়ে বাঁধ তৈরি করেছে। খালের মাঝামাঝি স্থানে একটি দুই ভেল্টের স্লুইস গেট আছে। সেই স্লুইস গেটের একপার্শ্বে বিলের সাথে খালের পানি একাকার হয়ে আছে। গেটের মুখে লোহার রড দিয়ে তৈরি নেট তালাবদ্ধ করে রাখা আছে। সাথে রয়েছে পলিথিন ও অসংখ্য ছোট নেট। যার মধ্য দিয়ে মাছ নয়, পানি প্রবাহ অসম্ভব।
গ্রামবাসী জানায়, তাদের গ্রামের একটি প্রভাবশালী মহল মৎস্য প্রকল্পের নামে বিল ও খালের মধ্যে থাকা বাধ কেটে কৌশলে খাল দখল করেছে। এই খালে হত দরিদ্ররা মাছ শিকার বা গবাদি পশুর জন্য কোনো খাদ্য সংগ্রহ করতে যেতে পারে না। এমনকি সাধারণের চলাচলও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
চলিশিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রসুল বলেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য জাকির তরফদার ও তার বাহিনী প্রায় ১৪ একর খালের জমি অবৈধভাবে দখল করে মাছ চাষ করছে। প্রতিবাদ করতে গেলে মারপিট, হামলা ও মামলার ভয় দেখানো হয়।
চলিশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাদির মোল্যা বলেন, ২০১৬/১৭ সালে সুশীলন নামের একটি এনজিও সয়েলের খালটিকে বিল থেকে আলাদা করে দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে একটি চক্রটি খাল বিল এককরে ফেলেছে। আমরা খাল দখলকারীদের হাত থকে মুক্তি চাই।  
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য জাকির তরফদার বলেন, ভবদহের লবণাক্ত পানি বিলে প্রবেশ করতে না পরে সে জন্য স্লুইস গেটের মুখে বাধ দেওয়া হয়েছে। কয়েক বছর আগে লবণাক্ত পানি বিলে প্রবেশ করায় সেই বছর ফসল করতে পারেনি বিলে জমি থাকা ৩৫০টি পরিবার। খাল ও বিল এক করার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। খালে সাধারণ মানুষ যাতায়াত করতে পারে না, এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, তেমন কোনো বিধি-নিষেধ দেওয়া হয়নি। স্থানীয় একটি মহল আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।  
অভয়নগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ্ ফরিদ জাহাঙ্গীর এ ব্যাপারে বলেন, খাল ও বিল দখল করা যাবে না। এটা রাষ্ট্রীয় সম্পদ। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের সম-অধিকার রয়েছে। সাধারণ মানুষকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। গ্রামবাসীর অভিযোগ শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীনুজ্জামান বলেন, সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে যারাই খাল, নদী বা বিল দখল করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft