শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০
সারাদেশ
গাইবান্ধার মহাসড়কে ট্রমা সেন্টার এখন সময়ের দাবী!
ছাদেকুল ইসলাম রুবেল, গাইবান্ধা প্রতিনিধি :
Published : Friday, 27 September, 2019 at 4:29 PM
গাইবান্ধার মহাসড়কে ট্রমা সেন্টার এখন সময়ের দাবী!ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের গাইবান্ধা জেলার মধ্যে বিদ্যমান সড়ক গুলোতে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা লেগে আছে। এসব দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ব্যক্তিকে জরুরী চিকিৎসা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় অসংখ্য প্রাণ ঝরে যায়।
গাইবান্ধা জেলার প্রয়োজনীয়তা সত্তে¦ও গোবিন্দগঞ্জ, পলাশবাড়ী, ধাপেরহাট ও পীরগঞ্জ ট্রমা সেন্টার স্থাপনের বিষয়টি অতি জরুরী মহাসড়কের ৪টি স্থানে অন্ততঃ একটি ট্রমা সেন্টার থাকলে দুর্ঘটনা কবলিত ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সহায়তা দেয়া সম্ভব হত।
মহাসড়কে একটি ট্রমা সেন্টার স্থাপন করা সময়ের জরুরি দাবি হয়ে পড়েছে। এ মহাসড়কটি দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এ সড়কে রয়েছে বেশ কয়েকটি জেলা।
জেলা গুলো হল গাইবান্ধা, রংপুর, কুড়িগ্রাম, পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, নীলফামারীসহ দিনাজপুর। সড়কের নানা বিষয় দেখভালের জন্যে পৃথক জেলায় কয়েকটি হাইওয়ে থানা ও হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িও রয়েছে।
লোকবল ও সরঞ্জামাদিতে অপর্যাপ্ত এসব থানা এবং ফাঁড়ির কর্মকর্তারা নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে সচেষ্ট থাকলেও আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা তাদের নাগালের বাইরে থেকে যায়। ফলে দুর্ঘটনাস্থল থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছাতে যে সময়টুকু ব্যয় হয়, তাতে অপেক্ষাকৃত কম আহত ব্যক্তি আরো গুরুতর হয়, আর গুরুতর আহত ব্যক্তি শেষ নিদ্রায় হার মানেন।
মহাসড়ক তত্ত্বাবধানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সড়ক ব্যবহারকারী নানা শ্রেণী-পেশার যাত্রী-চালকদের সকলেই এই দাবীর প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, প্রতিটি জেলায় অন্ততঃ একটি করে ট্রমা সেন্টার থাকলে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার অনেক কমে যেত।
অনুসন্ধান করে জানা গেছে, মহাসড়কের রংপুর থেকে ঢাকা মধ্যবর্তীস্থানে বিশেষ করে ভায়া গাইবান্ধ থেকে গোবিন্দগঞ্জ, পলাশবাড়ী,ধাপেরহাট, পীরগঞ্জ, মিঠাপুকুর পযর্ন্ত দুর্ঘটনা বেশিঘটে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে ব্যক্তিদের নিয়ে ছুটতে হয় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দিকে নতুবা বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের দিকে । তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যতিত কোন সেবা ভাগ্যে জোটে না রোগীর। উপায়ান্তর না দেখে জীবন-মৃত্যুর দোলাচলে আহত ব্যক্তিদের নিয়ে যেতে হয় সর্বোচ্চ ৬০-৮০ কিলোমিটার দূরের হাসপাতালে অর্থাৎ বগুড়া না হয় রংপুরে।
বেশিরভাগ সময় যানজট লেগে থাকার কারণে সময়ের পরিধিও বেড়ে যায়। ফলে পথেই জীবনযুদ্ধের পরাজয় নেমে আসে বেঁচে ওঠার লড়াইয়ে। অনুরূপভাবে গাইবান্ধার অন্য কোন উপজেলার কোথাও দুর্ঘটনা ঘটলে উন্নত চিকিৎসার্থে তাদের পাড়ি দিতে হয় দূরবর্তী রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। অনেক ক্ষেত্রে সেখানে যথাযথ চিকিৎসা না পেলে যেতে পারি দিতে হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এক্ষেত্রেও কাঙ্খিত গন্তব্যে পৌঁছাতে সইতে হয় ঢাকার পথের নানা বিড়ম্বনা।
মৃত্যুর মিছিলের লাগাম টেনে ধরার কোন পথ যেখানে সুদূর পরাহত, সেখানে আপাতকালীন সেরে ওঠার সহায়ক হিসেবে ট্রমা সেন্টার অনেকটা বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে গাইবান্ধার সীমানাবর্তী এলাকার মহাসড়কে। কিন্তু দীর্ঘ এ পথে ন্যূনতম একটি ট্রমা সেন্টার স্থাপনে সরকারের কোন উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এমনকি সরকার দলীয় জাতীয় সংসদের ডিপুটি স্পীকার এ্যাডঃ ফজলে রাব্বী এমপি ও হুইপ মাহবুবা গিনী এবং গাইবান্ধা -৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রণালয়ের সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য মোঃ ইউনুস আলী সরকার এমপি ডাক্তার হওয়া সত্বেও তাদেরও কোন পদক্ষেপ নেই।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ট্রমা সেন্টারের অভাবে মহাসড়কের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটলেও ট্রমা সেন্টার থাকলে অন্ততঃ বেশি অর্ধেকে মৃত্যুর কুপহতে বাঁচানো সম্ভব হতো।
গত দু-তিন বছরে রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় বেশি মানুষ মারা গেছে। এদের মধ্যে অনেকেই নিহত হয়েছেন হাসপাতালে নেয়ার পথে।
একজন হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মুঠোফোনে বলেন, অনেক সময় দুর্ঘটনার পর যানজট লেগে যায়। তখন হাসপাতালের দীর্ঘ পথ আরও দীর্ঘ হতে শুরু করে। নিকটতম কোন স্থানে ট্রমা সেন্টার থাকলে হয়তো দুর্ঘটনা কবলিত মানুষের জন্য সহায়ক হতো। কিন্তু দুঃখ জনক হলেও দীর্ঘ পথে দুর্ঘটনাপ্রবণ এই মহাসড়কে একটিও ট্রমা সেন্টার নেই। অর্থাৎ উত্তর বঙ্গে নেই ট্রমা সেন্টার।
গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালে ট্রমাবিশেজ্ঞ ডাঃ এমএ কাদের বলেন মহাসড়কে বিশেষ করে গোবিন্দগঞ্জ থেকে পীরগঞ্জ পযর্ন্ত এরই মধ্যে ট্রমা সেন্টার হলে আল্লাহর রহমতে দুঘর্টনায় গুরুতর রোগীদের চিকিৎসায় অসংখ্য মৃত্যুর কবল থেকে রক্ষা করা সম্ভব হতো।
পলাশবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, ট্রমা সেন্টার না থাকায় অনেক প্রাণ ঝরে যায় দূরের হাসপাতালে নেয়ার পথে। বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে কখনো আলোচনায়ও আসেনি। অথচ দুর্ঘটনায় প্রাণহানির হার কমাতে এটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
গাইবান্ধা বাসীর দাবী মহাসড়কের পাশে একটি ট্রমা সেন্টার স্থাপনে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft