বুধবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
তালায় ৭টি খালের ২শ’ বিঘা জমি প্রভাবশালীদের দখলে
স্টাফ রিপোর্টার পাটকেলঘাটা (সাতক্ষীরা) থেকে :
Published : Friday, 27 September, 2019 at 6:39 AM
তালায় ৭টি খালের ২শ’ বিঘা জমি প্রভাবশালীদের দখলে উপজেলার খলিষখালী ইউনিয়নে জলাবদ্ধ ৭টি খালের শ্রেণী পরিবর্তন করে কৃষি ও পরিত্যক্ত চাষযোগ্য জমি দেখিয়ে স্থায়ীভাবে বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে। ফলে প্রায় দুই শ’ বিঘা জমি সরকারের বেহাত হয়ে গেছে।
ভূমিহীন নামধারী ব্যক্তিদের অনুকুলে দেয়া স্থায়ী বন্দোবস্তের এ বিপুল পরিমান সম্পত্তির বেশীর ভাগই হাত বদল হয়ে চলে গেছে প্রভাবশালীদের দখলে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে একদিকে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। অন্যদিকে জলাবদ্ধ এসব খালগুলিতে বেড়ীবাঁধ দিয়ে মৎস্য চাষ করায় খালের আশে পাশের জমির পানি সরানোর ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। এ ঘটনায় খলিষখালী ইউনিয়নের দক্ষিনাঞ্চলের বিল এলাকার চাষিরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে। তারা ইজারা বাতিল করে জলাবদ্ধ খাল গুলি পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার দাবি জানিয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে,  খলিষখালী ইউনিয়নের খলিষখালী মৌজার দুধলিয়া গ্রামের বিলের কয়েক হাজার বিঘা জমির পানি নিষ্কাষনের একমাত্র খাল যা তেয়াশিয়া নদীর সাথে সংযুক্ত, এই খালটি এখন জলাবদ্ধ। কিন্তু কয়েক বছর আগে স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে জলাবদ্ধ খালটির কাগজ কলমে দেখানো হয়েছে চরভরাটি পরিত্যক্ত জমি। জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে শতাধিক বিঘা এই খালটি স্থায়ী বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে প্রভাবশালীদের নামে। ফলে খালের আশেপাশের কয়েক হাজার বিঘা জমির পানি নিষ্কাষণ ব্যবস্থা বাধাপ্রাপ্ত হয়। একই সাথে কাশিয়াডাঙ্গা ও খলিষখালী মৌজার কাশিয়াডাঙ্গা বিলের জলাবদ্ধ খালটির একইভাবে শ্রেণী পরিবর্তন করে প্রভাবশালীদের কাছে স্থায়ী বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে। গাছা মৌজার খড়িয়াডাঙ্গা খালটি কয়েক‘শ বিঘা আয়তনের। যা শ্রেণী পরিবর্তন করা হয়েছে। ভূমি কর্মকর্তাদের আর্থিক সুবিধা দিয়ে জলাবদ্ধ খালটি ভরাট দেখিয়ে চাষাবাদের জন্য ইজারা দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে টিকারামপুর মৌজা ও খলিষখালী মৌজার টিকারামপুর খালটি ইজারা দেয়ায় খালের উপর নির্ভরশীল কয়েক হাজার বিঘা জমির পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। শুক্তিয়া মৌজার শুক্তিয়া খালটি ইজারা দেয়ায় একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
পারকৈখালীর হন্যেমারী খালটি এখনও বুক সমান পানি। সেটিও ভরাট খাল দেখিয়ে জমির শ্রেণী পরিবর্তন করা হয়েছে। দেখানো হয়েছে ভরাট খাল। সেখানে দেখা গেছে এখনও বুক সমান পানি। সেখানে হচ্ছে মৎস্য চাষ। আশপাশের জমির পানি নিষ্কাশন হয় না। ধুকুড়িয়া খালটি বর্তমানে একই অবস্থা। প্রভাবশালীরা খালটি ইজারা নিয়ে সেখানে খন্ড খন্ড করে বেড়ীবাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছে। ফলে কৈখালী, পাকশিয়া, মঙ্গলানন্দকাটি, বারানগর, টিকারামপুর বিলের পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। বারানগরের ঘন্টার খালের পানি বর্তমানে নিষ্কাশন বন্ধ রয়েছে।
কৈখালী গ্রামের ইউপি সদস্য তপন কুমার বাছাড় জানান, কৈখালী, বারানগর, ধুকুড়িয়া যে খালটি ভরাট খাল দেখানো হয়েছে সেই খালটি এখন বুক সমান পানি। খালটিতে বাঁধ দিয়ে সেখানে মাছ চাষ করা হচ্ছে। ফলে এলাকার চাষিরা বর্তমানে বোরো আবাদ করতে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। আশেপাশের জমির পানি নিষ্কাশন করতে না পেরে বোরো আবাদ ক্ষতির মুখে পড়া কয়েক হাজার চাষি বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে।
বারানগর গ্রামের কালিপদ মন্ডল ওরপে ঘন্টা মন্ডল জানান, ছোট বেলা থেকে দেখে আসছি বারানগর খালটি বড় একটি খাল ছিল। ওই খাল দিয়ে আশে পাশের ১০টি গ্রামের পানি নিষ্কাষণ হত। ধান চাষ ও মাছ চাষ সবই হতো। কিন্তু দূর্নীতিবাজ ভূমি কর্মকর্তা জলাবদ্ধ এই খালটির শ্রেণী পরিবর্তন করে ভরাট খাল দেখিয়ে প্রভাবশালীদের কাছে স্থায়ী বন্দোবস্ত দিয়েছে। এখন খালটিতে খন্ড খন্ড করে সেখানে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে।
শুক্তিয়া গ্রামের ইউপি সদস্য গনেশ চন্দ্র বর্মন জানান, তার এলাকার টিকারামপুর, শুক্তিয়া, দলুয়া, দুধলিয়া গ্রামের কয়েক হাজার বিঘা জমির পানি নিষ্কাশনের দুটি খাল একটি দুধলিয়া খাল ও টিকারামপুর-শুক্তিয়া খাল একসময় পানিতে টুইট¤ু^র ছিল। এলাকার বিলে এলাকার মানুষ সেখানে জাল দিয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত। কিন্তু এসব ¯্রােতধারা বহমান থাকলেও খালের শ্রেণী পরিবর্তন করে দুর্নীতিবাজ ভূমি কর্মকর্তারা ভরাট খাল দেখিয়ে বন্দোবস্ত দিয়েছে। পরে তা বিক্রি হয়ে প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে। ইজারার কোন নীতিমালা মানা হয়নি। সম্পূর্ন নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে খালগুলি স্থায়ী বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে।
খলিষখালী ভূমি অফিসের কর্মকর্তা অরুণ কুমার পাল জানান, তিনি কর্মস্থলে নতুন এসেছেন। ভূমির শ্রেণী পরিবর্তন করে খালগুলো ভরাট দেখিয়ে ইজারা দেয়া হলে তা অবশ্যই বাতিল করতে তিনি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবেন।
খলিষখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাফ্ফর রহমান জানান, তিনি জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতিমধ্যে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলেছেন। ভূমির শ্রেণী পরিবর্তন করে পানি প্রবাহের খালগুলি ভরাট খাল দেখিয়ে স্থায়ী বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি খালের ইজারা বাতিলসহ খালগুলি খনন করে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তালা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার জানান, কোনভাবেই জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে জলাবদ্ধ খালকে কৃষি জমি হিসেবে দেখানো আইন সঙ্গত হয়নি। এর ফলে জলাবদ্ধ খালগুলোতে বাধ দিয়ে মাছ চাষ করে কোনভাবেই পানি প্রবাহ বন্ধ করা যাবে না। তিনি জনগনকে সাথে নিয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টিকারী সব খালের বাধ অপসারনের জন্য সহযোগিতা করবেন বলে জানান।
এ বিষয়ে তালা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খন্দকার রবিউল ইসলাম জানান, জমির শ্রেণী পরবর্তন করে ইজারা দেয়া হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার কথা উল্লেখ করেন।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft