বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২০
জাতীয়
বিদেশে ওয়ান্ডারার্স ক্লাব পরিচালক সাঈদ কমিশনার
ঢাকা অফিস :
Published : Saturday, 21 September, 2019 at 6:22 PM
বিদেশে ওয়ান্ডারার্স ক্লাব পরিচালক সাঈদ কমিশনাররাজধানীর বিভিন্ন ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনো ও জুয়ার আসর বন্ধের র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) অভিযানে উঠে এসেছে যুবলীগ নেতা এ কে এম মমিনুল হক সাঈদের নাম। তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর। একই সঙ্গে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের (বাহফে) সাধারণ সম্পাদকও।
মতিঝিলের ওয়ান্ডারার্স ক্লাবটি পরিচালিত হতো তার নেতৃত্বে। খেলার বদলে এই ক্লাবে জুয়ার টাকায় জৌলুসের দৃশ্য ধরা পড়ার পরই তার সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একে একে বেরিয়ে আসছে সাঈদের টেন্ডারবাজি, জুয়ার আড্ডা, চাঁদাবাজি আর দখলবাজির বিভিন্ন অভিযোগ। সাঈদ ছাড়াও ডিএসসিসির ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আনিছুর রহমানসহ ঢাকার মিরপুর, উত্তরা, বাড্ডা ও পুরান ঢাকার আরও কয়েকজন কাউন্সিলরের খোঁজে মাঠে নেমেছে গোয়েন্দারা।
আনিছের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি গোড়ান আদর্শ স্কুলের কাছে অবৈধভাবে দখল করা জমিতে ১০ তলা ভবন নির্মাণ করেছেন। এমনকি তার বিরুদ্ধে বনশ্রীর প্রজেক্টের ভিতরেও একাধিক জমি দখল ও বিভিন্ন ধরনের চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। গত বুধবার র‌্যাব অভিযান চালিয়ে ফকিরাপুলের ইয়াংমেনস ক্লাব, মতিঝিলের ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, গুলিস্তানের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র এবং বনানীর গোল্ডেন ঢাকা বাংলাদেশ সিলগালা করে দেয়। অভিযানের পর র‌্যাব জানায়, ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের ক্যাসিনোর মালিক হলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কাওসার মোল্লা এবং স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মমিনুল হক সাঈদ। অভিযানের খবরে দুজনই পালাতক।
জানা গেছে, কয়েক দিন আগে সিঙ্গাপুরে যান সাঈদ। খোঁজ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানতে পারেন, পাঁচ-ছয় বছর ধরে কাউন্সিলর সাঈদ ক্যাসিনোর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। র‌্যাবের অভিযানের আগে তার ধারণা ছিল তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবেন এবং ক্লাবগুলোর কাজকর্ম নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না। তার ক্লাব খেলাকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হলেও জুয়া ছিল মুখ্য। অথচ এই ওয়ান্ডারার্স পঞ্চাশ-ষাটের দশকে ঢাকার ফুটবলে পরাশক্তি ছিল। শীর্ষ ফুটবল লিগে চ্যাম্পিয়নও হয়েছে। বড় বড় ফুটবলার খেলতেন এই ক্লাবে। তবে ক্যাসিনো আর মদ মুখ্য হওয়ায় অনেক বছর ধরেই ওয়ান্ডারার্স দেশের ফুটবলে আর আলোচনায় নেই। শীর্ষ লিগে তো নয়ই, পেশাদার লিগের দ্বিতীয় স্তরেও খেলে না। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ক্যাসিনো, চাঁদাবাজি আর টেন্ডারবাজিতে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন মমিনুল হক সাঈদ।
কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পরেই গড়ে তোলেন ডিএসসিসির আওতাধীন হাটগুলোর টেন্ডার সিন্ডিকেট। যে কারণে কয়েক বছর ধরে সিটি করপোরেশনের অস্থায়ী হাটগুলোর ইজারা ঘুরেফিরে একই ব্যক্তির হাতে চলে যায়। এসব নিয়ন্ত্রণ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মমিনুল হক সাঈদ। যার চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে এ বছর কোরবানিতে রাজধানীর অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা নেওয়ার সময়। সর্বোচ্চ দরদাতা মনোনীত হয়ে একাই দুটি হাটের ইজারা নিয়েছিলেন। অথচ সিটি করপোরেশন আইন-২০০৯ অনুযায়ী কোনো জনপ্রতিনিধি করপোরেশনের সঙ্গে এ ধরনের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত থাকার কথা নয়। প্রতিবছরই কয়েকটি হাট নামে-বেনামে তিনি ভাগ করে নেন।
এবারও সর্বোচ্চ ৭০ লাখ টাকার দর দিয়ে ব্রাদার্স ইউনিয়ন বালুর মাঠ এবং সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকার দর দিয়ে কমলাপুর স্টেডিয়ামের পাশের হাটের ইজারা নেন মমিনুল হক সাঈদ। তিনি আরামবাগ ও ফকিরাপুলে রাস্তায় লোহার গেট স্থাপন করে নিরাপত্তার কথা বলে প্রতি বাসা, দোকান ও প্রেস থেকে প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করতেন। এসব চাঁদা আদায়ের দায়িত্বে আছেন নোয়াখাইল্যা আবদুল মান্নান ও সাবেক বিএনপি নেতা ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মাইনু। এ ছাড়া সাঈদের নিয়ন্ত্রিত দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাব ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবেও চলে ক্যাসিনোর রমরমা বাণিজ্য। ২০১৭ সালে তার বিরুদ্ধে মতিঝিলের আরামবাগ এলাকায় রাতের আঁধারে প্রায় ২৫ কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি দখল করে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।
জানা যায়, ‘আফতাবুন্নেছা প্লাজা’ নামের বাণিজ্যিক একটি ভবনের ছাদ ভেঙে ফেলা হয়। জাল দলিলের মাধ্যমে সুজা উদ্দিন সুজা নামে এক ব্যক্তি ভবনটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান অবস্থায় কাউন্সিলর সাঈদের সহায়তায় ভবনটি দখলে নেয় সুজা। এ ছাড়া মতিঝিলে সোনালী ব্যাংকের পেছনে নবাব জেরিন কমপ্লেক্স টিনশেড মার্কেট দখল করে নেয়। পরে ঠিকঠাক করে ৩৫টি দোকান তৈরি করে। এসব দোকান ১০-২০ লাখ টাকা অ্যাডভান্স নিয়ে ভাড়া দেওয়া হয়। দাবি করা চাঁদা না দেওয়ায় ফকিরাপুলের ১ নম্বর লেনের ২০৭ নম্বর বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ সাঈদের নির্দেশে বন্ধ করে দেয় যুবলীগ নেতা জামাল ও মতিঝিল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাসান।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft