রবিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২০
অর্থকড়ি
কেশবপুরের বাদুড়িয়ার আখের হাট জমজমাট
মঙ্গলকোট (কেশবপুর) থেকে পরেশ দেবনাথ :
Published : Friday, 20 September, 2019 at 6:56 AM
কেশবপুরের বাদুড়িয়ার আখের হাট জমজমাট কেশবপুর-চুকনগর সড়কের মধ্যস্থল মঙ্গলকোট বাসস্ট্যান্ড রেখেই বাদুড়িয়ার মোড়। বসুন্তিয়া, পাঁচারই, বড়েঙ্গা, কেদারপুর, নরনিয়া, আঠার মাইল, বাদুড়িয়া, রামকৃষ্ণপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের লোকজন বাদুড়িয়া মোড় বাজারে যাতায়াত করে। এ কারণে মোড়ের গুরুত্ব দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মঙ্গলকোট ইউনিয়নের বাদুড়িয়ার মোড় বাজারটি আখের হাট নামে পরিচিত। ১২/১৩ বছর ধরে এখানে চলছে আখের জম-জমাট ব্যবসা। এখানে দক্ষিণবঙ্গের বৃহত্তর আখের আড়ৎ গড়ে ওঠায় বিভিন্ন অঞ্চলের আখ ব্যবসায়ীরা এখানে কেনাবেচা করতে আসেন। সরেজমিন দেখা যায়, মহম্মদ আলী, আহম্মদ আলী সরদার, মিঠু সরদার, ইউনুছ আলী, হবিবর রহমান, মনিশঙ্কর রায়, আমজেদ হোসেন, রবিউল ইসলাম, আনিছুর রহমান, নূর ইসলাম, আফছার আলী, ইকবাল হোসেন, পিটু, আব্দুর রশিদ গাজী, বাবলুর রহমানসহ ১৬/১৭ জন আড়ৎদার রয়েছেন। গত বছর এখানে আখের আড়ৎদার ছিলেন ১১ জন। আড়তদাররা বলছেন, এবার আখের দাম ভাল যাচ্ছে না, বেচাকেনা কম। কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন, এখানে দূর-দূরান্ত থেকে ব্যাপারীরা আখ কিনতে আসেন, কিন্তু নছিমন-করিমন চলাচল বন্ধ থাকায় ঠিকমত আখ কেনাবেচা করতে পারছেন না। নছিমন করিমন ছেড়ে দিলে বাজারটা আরো জমজমাট হতো। কৃষকরা উপযুক্ত মূল্যে আখ বিক্রি করতে পারতেন। বর্তমানে বাজারে বিপুল পরিমান আখ উঠছে, কিন্তু সময়মত বিক্রি করতে না পারায় কিছু আড়তদারের আখ শুকিয়ে যাচ্ছে। শুকনা আখ আড়তে পড়ে থাকায় মান কমে যাচ্ছে।
আখের আড়ৎদার ইউনুছ আলী, আছাদুল ইসলাম ও আহম্মদ আলী জানান, দক্ষিণ বঙ্গের একমাত্র আখের আড়ৎ বাদুড়িয়ার মোড়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রতিদিন এখানে লাখ লাখ টাকার আখ বেচাকেনা হতো। ভরতভায়না, মধ্যকুল, হাজিডাঙ্গা, খুলনা, পাইকগাছা, কয়রা, তালা, কপিলমুনি, আঠারমাইল, ডুমুরিয়া, সাতক্ষীরা, নওয়াপাড়া, নড়াইলসহ বিভিন্ন স্থান থেকে এখানে আখ কিনতে আসেন ব্যপারীরা। আড়তদার নূর ইসলাম জানান, এ ব্যবসার সাথে শত শত যুবকের বেকারত্ব দূর হয়েছে। তালা থেকে আগত ব্যপারি সাইফুল জোয়ারদার জানান, এত বড় আখের বাজার আমি আর কোথাও দেখিনি। বিভিন্নস্থান থেকে চলাচলের পথে মোটরসাইকেল, পাজেরো গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে খুচরা কিছু আখ বিক্রি হচ্ছে, তাতে তাদের পোষাচ্ছে না। কেশবপুরের বাদুড়িয়ার আখের হাট জমজমাট
এ বাজারে চৌগাছা থানা পুলিশের কর্মকর্তা সবুজের সাথে কথা হয়। তিনি এখান থেকে চারখানা আখ কিনলেন। সাতক্ষীরা কামরুজ্জামান বাড়ি যাবার পথে এখান থেকে আখ কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এখানে নারী খুচরা আখের ব্যবসায়ীও আছেন। বসুন্তিয়া গ্রামের আখ চাষী শফিকুল ইসলাম, দিপংকর দাস, আহম্মদ আলী সরদার, আনন্দ রায়, রামকৃষ্ণপুর গ্রামের রবিউল ইসলাম গাজী, মঙ্গলকোট গ্রামের আজিবর রহমান, মফিজুর রহমান জানান, অন্যান্য ফসল থেকে আখ চাষে মুনাফা বেশী পাওয়ায় এবং দক্ষিণবঙ্গের বৃহত্তর আখের আড়ৎ বাদুড়িয়ার চৌরাস্তার মোড় হওয়ায় এলাকার অধিকাংশ কৃষক এই চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। কিন্তু এবার যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য ব্যাপারীরা আখ কিনতে আসতে পারছে না, ফলে আখের দাম কম। আখ ব্যবসায়ী আহম্মদ আলী জানান, এবার আখ বেচাকেনা কম, তারপর মঙ্গলকোট হাট ডাক কর্তৃপক্ষকে ৩০ হাজার টাকা দিতে হবে। দীর্ঘদিন পর বিদ্যুতের ছোঁয়া পেয়ে এ মোড়ে আখের আড়ৎদারের সংখ্যা বেড়েছে।
মঙ্গলকোট ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল জানান, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বাদুড়িয়ার চৌরাস্তার মোড় বিদ্যুতের আলো পেয়ে আমরা খুশি হয়েছি। এখানে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একটি সৌর স্ট্রিট লাইট দেয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে স্ট্রিট লাইট আরও যোগান দেয়া হবে। বিদ্যুতের অভাবে এই মোড়ের দোকান পাট সন্ধ্যার পরেই বন্ধ হয়ে যেত। কিন্তু এখন অনেক রাত পর্যন্ত দোকানপাট খোলা থাকে।
যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর বর্তমান সভাপতি মোতাহার হোসাইন জানান, বাদুড়িয়ার মোড়সহ ওই এলাকায় আগে বিদ্যুৎ ছিল না। বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গীকার অনুযায়ী অবহেলিত বাদুড়িয়ার মোড়সহ কেশবপুরকে শতভাগ বিদ্যুতায়ন করতে পেরেছি। বাদুড়িয়ার মোড় এখন অন্ধকার থেকে আলোর মুখ দেখার ফলে দিন দিন বাজারটি উজ¦ল হতে শুরু করেছে।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]agoj.com
Design and Developed by i2soft