শনিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৯
সারাদেশ
পুলিশের ভালবাসায় জীবন ফিরে পেলে শিশু তামিমা
শাহ্ মুহাম্মদ সুমন রশিদ,বরিশাল ব্যুরো :
Published : Thursday, 19 September, 2019 at 8:53 PM
পুলিশের ভালবাসায় জীবন ফিরে পেলে শিশু তামিমাজন্ম থেকেই বিরল রোগে আক্রান্ত ছিল শিশু তামিমা আক্তার। তার পিঠে একটি টিউমারের মতো দেখা যায়। অথচ চিকিৎসকরা জানান, এটি টিউমার নয়। ধীরে ধীরে সেটি বড় হতে থাকে। পরে জানতে পারেন রোগটির নাম ‘মেনিংগোসেল’। একমাত্র সন্তানের এ রোগের চিকিৎসা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন বাবা মা। দরিদ্র পরিবার স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করিয়ে কোন সুফল পাচ্ছিলেন না। শিশুটির বেড়ে ওঠাও থমকে যায়। দিন দিন মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়তে থাকে। এ অবস্থায় চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য শিশুটির বাবা স্মরণাপন্ন হন ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এম এম মাহমুদ হাসানের। তিনি শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। ঢাকায় তাঁর এক চিকিৎসক বন্ধুর মাধ্যমে চিকিৎসা শুরু হয় শিশু তামিমার। দেড় বছর বয়স হলে চিকিৎসকের পরামর্শে অপারেশন করার ব্যবস্থা করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। অপারেশন সফল হলে তামিমা ফিরে পায় নতুন জীবন। খুশি তার বাবা মা।
জানা যায়, ঝালকাঠি শহরের কাঠপট্টি পুরাতন কলাবাগান এলাকায় বসবাস করেন ড্রেজার শ্রমিক মো. তাবির হোসেন জোমাদ্দার। ২০১৫ সালে তিনি বিয়ে করেন শাহনাজ আক্তারকে।  ২০১৭ সালের ৪ আগস্ট তাদের কোলজুড়ে জন্ম নেয় একটি কন্যা সন্তান। নাম রাখা হয় তামিমা আক্তার। জন্ম থেকেই শিশুটি ‘মেনিংগোসেল’ রোগে আক্রান্ত। তার পিঠে গোলাকৃতির একটি টিউমারের মতো দেখা যায়। এক পর্যায়ে সেটি বড় হতে থাকে। এ রোগে শিশুটির মৃত্যু ঝুঁকি রয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানায়। একমাত্র সন্তানের চিকিৎসার ব্যায় বহন করা সম্ভব হচ্ছিল না দরিদ্র পরিবারের। জমানো যে টাকা ছিল, তাও চিকিৎসায় ব্যায় হয়ে যায়। অর্থ সংকটে ভুগছিলেন তারা। কোথাও কোন উপায় খুঁজে না পেয়ে ছুঁটে যান ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এম এম মাহমুদ হাসানের কাছে। তাঁর কাছে শিশুটির চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা কামনা করেন দরিদ্র পিতা। মানবিক এ পুলিশ কর্মকর্তা শিশুটির চিকিৎসার জন্য ঢাকার আগারগাও শিশু হাসপাতালে তাঁর বন্ধু ডা. দেলোয়ার হোসেন ও ডা. সঞ্চিতার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই দুই চিকিৎসক শিশুটিকে ঢাকা নিয়ে যেতে বলেন। নিজের খরচে শিশু তামিমা ও তাঁর পরিবারকে ঢাকায় পাঠান মাহমুদ হাসান। চিকিৎসকরা শিশুটির চিকিৎসা শুরু করেন। চিকিৎসার পুরো দায়িত্ব নেন পুলিশ কর্মকর্তা এম এম মাহমুদ হাসান। দীর্ঘ দিন চিকিৎসা শেষে শিশুটির বয়স দেড় বছর হলে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর আগারগাও শিশু হাসপাতালে অপারেশন করা হয়। ‘মেনিংগোসেল’ রোগ থেকে মুক্তি পায় শিশু তামিমা। নতুন করে জীবন ফিরে পাওয়ায় শিশুটির বাবা মায়ের মুখে হাসি ফুটে উঠে। স্বস্তি ফিরে আসে দরিদ্র এ পরিবারটির। বর্তমানে তামিমা পুরো সুস্থ।
শিশুর বাবা তাবির হোসেন বাংলাদেশ বুলেটিন কে বলেন, আমার মেয়ের জীবন যখন সংকটাপন্ন, তখন আমি মাহমুদ স্যারের কাছে গিয়ে সাহায্য প্রার্থনা করি। তিনি আমার মেয়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেন। এতে যত টাকা খরচ হয়েছে, তিনি দিয়েছেন। তাঁর কাছে আমরা চিরঋণি। এমন মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা সব জেলাতেই থাকা প্রয়োজন। আমরা সব সময় তাঁর জন্য দোয়া করি।
ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এম এম মাহমুদ হাসান বাংলাদেশ বুলেটিন কে বলেন, ‘মেনিংগোসেল’ রোগটি প্রথমে আমরা বুঝতে পারিনি। আমার ঢাকায় দুই বন্ধু চিকিৎসকের কাছে পাঠানোর পরে তারা রোগটি ধরতে পারেন। শিশুটির চিকিৎসার সব ব্যবস্থা করে দিতে পেরে আমিও আনন্দিত। আমারও সন্তান রয়েছে। আমি ওই পরিবারের অসহায়ত্বের কথা শুনে নিজেও কষ্ট পেয়েছি। নিজের সন্তানের মতোই যতœ নিয়ে তার চিকিৎসার খরচ বহন করেছি। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft