রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯
শিক্ষা বার্তা
যশোরে ছুটির দিনে কোচিং বন্ধ
জাহিদ আহমেদ লিটন :
Published : Thursday, 19 September, 2019 at 6:10 AM

যশোরে ছুটির দিনে কোচিং বন্ধ যশোরের সাংস্কৃতিক কর্মীদের পাঁচ বছরের আন্দোলন সফল হয়েছে। তিন জন জেলা প্রশাসক বদল হবার পর সদ্য আগত ডিসি তার কথা রেখেছেন। এখন থেকে শুক্রবার শহরের কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধ থাকবে। এছাড়া জাতীয় দিবসগুলোতেও কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধ রাখতে মালিকরা একমত হয়েছেন।
যশোরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার কোচিং সেন্টারে শিশু শ্রেীণ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক, বিবিএ, এমবিএ, বিশ্ববিদ্যালয় এমনকি মেডিকেল ভর্তি কোচিং ও চাকরি প্রাপ্তির কোচিং পর্যন্ত করানো হয়। সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা অবদি বিভিন্ন শিফটে এসব সেন্টারে কোচিং চলে। যার থেকে রেহাই পায় না শিশু শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়ারা। সপ্তাহের সাতদিনই চলে এসব কোচিং সেন্টার। শুক্রবারে আবার চাপ থাকে বেশী। এদিন বেশিরভাগ কোচিংয়ে থাকে পরীক্ষা। ফলে পরীক্ষার চিন্তায় শিক্ষার্থীদের ছুটির দিন মাটি হয়ে যায়। তাদের জন্য থাকে না কোন বিনোদন ও খেলাধুলা। এ অস্বস্থিকর পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে যশোরের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরা মাঠে নামেন।
২০১৫ সালে কালেক্টরেট সভাকক্ষে একটি সভায় তৎকালীন জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীরের কাছে শিক্ষার্থীদের এ অবস্থা বিবেচনায় এনে বিভিন্ন দাবি উপস্থাপন করেন সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংগঠক অধ্যাপক সুকুমার দাস। তিনি দাবি জানান, সপ্তাহে অন্তত একটি দিন শুক্রবারে কোচিং সেন্টার থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের পরিত্রাণ দেয়া হোক। একইসাথে বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও স্কুল-কলেজ চলাকালীন কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার দাবি জানান। তার এ কথায় আশ্বাস দেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক। কিন্ত পরিস্থিতির কোন পরিবর্তন হয়নি। এরপর যশোরে যোগদান করেন জেলা প্রশাসক আশরাফ হোসেন। তার কাছেও সাংস্কৃতিক কর্মীরা একই দাবিতে স্মারকলিপি দেন ও বৈঠক করেন। কিন্তু কাজ কিছুই হয়নি। তার বদলির পর যশোরে জেলা প্রশাসক হয়ে আসেন আব্দুল আওয়াল। তার কাছেও সাংস্কৃতিক অঙ্গণের কর্মীরা একই দাবি নিয়ে হাজির হন। কিন্তু তিনি দেখবেন বলে যশোরে তার সময়কাল পার করে গেছেন। সর্বশেষ গত জুলাই মাসে জেলা প্রশাসক হয়ে আসেন মোহাম্মদ শফিউল আরিফ। তার কাছে গত আগস্ট মাসে সাংস্কৃতিক কর্মীরা একই দাবি নিয়ে হাজির হন। এসময়ে তিনি তাদেরকে শুধু আশ্বাস দিয়েই থেমে থাকেননি। পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলেও জানান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে তিনি নিদিষ্ট এ ইস্যুতে সাংস্কৃতিক কর্মীদের সাথে বৈঠক করেন। তাদের কাছ থেকে তিনি বিস্তারিত প্রস্তাবনা শোনেন। এরপর গত ১১ সেপ্টেম্বর কোচিং সেন্টার মালিকদের সাথে বৈঠক করেন এবং শিশুদের মানসিক বিকাশের বিষয়টি তুলে ধরেন। সভায় মালিকরা জেলা প্রশাসকের সাথে একমত পোষণ করে শুক্রবারে কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন। এ সিদ্ধান্ত ১৩ সেপ্টেম্বর কোন কোন প্রতিষ্ঠানে বাস্তবায়ন হলেও কাল শুক্রবার যশোরের সকল কোচিং সেন্টারে বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে।
কোচিং সেন্টার শুক্রবার বন্ধ থাকার বিষয়ে কথা হয় ই-স্টার, এডুকেয়ার, এপেক্্র, পিকাসোসহ কয়েকটি কোচিং সেন্টার কর্তৃপক্ষের সাথে। তারা বলেন, জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে সভার সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তারা সপ্তাহের শুক্রবার, স্কুল চলাকালীন ও বিভিন্ন জাতীয় দিবসে কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখবেন।
বিষয়টি নিয়ে কথা হয় যশোর ডা. আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজের প্রভাষক আব্দুল গণির সাথে। তিনি বলেন, শিশুদের মাথায় শুধুমাত্র পড়াশুনার বোঝা চাপিয়ে দিলে চলবে না। তাদের মানসিক বিকাশ প্রয়োজন। এ জন্য তাদের লেখাপড়ার পাশাপাশি বিনোদন ও খেলাধুলার সুযোগ দিতে হবে।
এ বিষয়ে যশোর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দাস বলেন, তাদের পাঁচ বছরের আন্দোলন তিন জন জেলা প্রশাসক বদল হবার পর সফল হলো। তাদের এ দাবি ছিল গণমানুষের। এ দাবি পূরণে পাঁচ বছর সময় পার হলেও তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ বলেন, তিনি যোগদানের পর সাংস্কৃতিক কর্মীরা এ দাবিতে তার কাছে গেলে তিনি কোচিং সেন্টার মালিকদের সাথে সভার মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিষয়টি প্রতিষ্ঠান মালিকদের বুঝিয়ে বলা হলে তারা অনুধাবন করতে পেরে মেনে নিয়েছেন।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft