শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০
আন্তর্জাতিক সংবাদ
কাশ্মীর আর্মি ক্যাম্প
রাত হলেই ভেসে আসে কান্না
কাগজ ডেস্ক :
Published : Tuesday, 17 September, 2019 at 10:13 PM
রাত হলেই ভেসে আসে কান্নারাত হলেই কাশ্মীরের সেনাবাহিনীর ক্যাম্প থেকে ভেসে আসে মানুষের আর্তনাদ। ভারত নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলটিতে মানুষের ওপর নির্যাতনের এমন ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে।
দক্ষিণ কাশ্মীরের চার জেলার একটি শোপিয়ানের হিরপোরা গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাতে প্রায়ই সময় তারা সেনা ক্যাম্প থেকে মানুষের কান্না শুনতে পান।
হিরপোরা গ্রামে অনেক মানুষই সেনাবাহিনীর হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে আবিদ খান নামে এক বাসিন্দা জানান, ১৪ আগস্ট মধ্যরাতে সেনা সদস্যরা বাড়িতে এসে তার ভাইসহ তাকে চোখ বেঁধে নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, ‘আমাকে আর আমার ভাইকে তারা ইলেকট্রিক শক দিয়েছিল। নির্যাতন সইতে না পেরে আমার ভাই চিৎকার করছিল।’
তিনি বলেন, বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে রাস্তার মধ্যেই আমার ভাইকে উলঙ্গ করে হাত পা বেঁধে রড দিয়ে পেটায় সেনা সদস্যরা। হিজবুল মুজাহিদীনের এক সদস্যকে আবিদ খানের বিয়েতে দাওয়াত দেয়ার অভিযোগে চৌগাম আর্মি ক্যাম্পে তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয় বলে তিনি জানান।
২৬ বছর বয়সী এই যুবক আরও বলেন, ‘বিয়েতে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এরপরেও সেনা সদস্যরা তাদের ওপর নির্যাতন চালায়। তারা আমাকে ইলেকট্রিক শক দেয়। যৌনাঙ্গে ইলেকট্রিক শক দিতে দিতে তাদের একজন বলছিল, আমি তোকে যৌন অক্ষম করে দেব।’ ছাড়া পাওয়ার পর এই যুবক টানা ১০ দিন বমি করেছিলেন এবং ২০ দিন পর কোনোভাবে উঠে দাঁড়াতে সক্ষম হন বলে জানান।
গ্রামবাসীদের মত, ওই জেলার সব গ্রাম থেকে কয়েকজনকে ধরে নিয়ে এ রকম অমানুষিক নির্যাতন চালায় সেনা সদস্যরা।
রাতে ঘরে এসে সেনাসদস্যরা তাদের আইডি কার্ড এবং মোবাইল নিয়ে যায়, পরে ক্যাম্প থেকে সেসব নিয়ে আসতে বলে। ক্যাম্পে গেলেই তাদের আটকে রেখে নির্যাতন করা হয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক নির্যাতিত যুবক জানান, ২৭ আগস্ট পর্যন্ত তিনবার তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়, প্রতিবারই তার উপর নির্যাতন চালানো হয়। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের খাবার সরবরাহ করার অভিযোগে তাকে ধরে নেয়া হয় বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, ‘অন্ধকার এক ঘরের মধ্যে ঢুকিয়ে আমার ওপর দুই ঘণ্টা যাবৎ ইলেকট্রিকের শক দেয়া হয়।’
গুগলুড়া গ্রামের বাসিন্দা ২১ বছর বয়সী ওবাইদ খান বলেন, ‘২৬ আগস্ট আইডি কার্ড এবং মোবাইল ফোন নিয়ে আসতে ক্যাম্পে যাই আমি। সেখানে আমাকে আটজন সৈন্য রড দিয়ে পেটায়।’
ওই গ্রামের স্থানীয় একজন কর্মকর্তা সাজ্জাদ হায়দার খান জানান, দক্ষিণ কাশ্মীরের জেলাটিতেই এখন পর্যন্ত ১৮০০ জন মানুষকে আটক করার একটি তালিকা তিনি দেখেছেন।
৫ আগস্ট সংবিধানের ৩৭০ ধারা তুলে নিয়ে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয় ভারত সরকার। তার আগের দিন থেকে কঠোর সামরিক পরিস্থিতি জারি করা হয় সেখানে। সে সময় সাবেক গৃহবন্দী করা হয় অন্য দুই সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি এবং ফারুকের ছেলে ওমর আবদুল্লাহকেও।
সরকারি হিসেবে, নিরাপত্তা আইনে জম্মু-কাশ্মীর থেকে গ্রেপ্তার হয়েছে অন্তত ৪০০০ হাজার মানুষ, যার মধ্যে রয়েছে সাবেক এই তিন মুখ্যমন্ত্রীসহ ২০০ রাজনৈতিক নেতা-কর্মী। যার মধ্যে ২৬০০ জনকে পরবর্তীতে মুক্তি দেয়া হয়েছে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft