শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
ভৈরব নিয়ে এলজিইডি-পাউবো টানাপোড়েন
দেওয়ান মোর্শেদ আলম :
Published : Monday, 16 September, 2019 at 4:49 AM
ভৈরব নিয়ে এলজিইডি-পাউবো টানাপোড়েন স্থায়ী দখলমুক্ত, দূষণমুক্ত করে নদকে পুনরুজ্জীবিত করা ও দু’পাড়ে নৈসর্গিক পরিবেশ উপহার দেয়ার ঘোষণা দিয়ে এগিয়ে যাওয়া প্রকল্পের ডিজাইন চূড়ান্ত করা হয়েছে। একইসাথে ভৈরব নদ নিয়ে নতুন মহা কর্মপরিকল্পনার মাস্টার প্লানের কাজও শেষের পথে। এখন শুধু বরাদ্দ প্রয়োজন। আর বরাদ্দের উৎসও নিশ্চিত করে ফেলেছে এলজিআরডি মন্ত্রণালয় তথা এলজিইডি।
তবে এলজিইডির এই উদ্যোগ যথাযথ হয়নি বলে দাবি করেছেন পাউবো কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, ওয়াকিং ওয়ে হোক আর নৈসর্গিক পাড় হোক তা নির্মাণ করার সক্ষমতা পাউবো রাখে। তাদের সাথে   কোনো রকম সমন্বয় না করে এলজিইডি যা করছে তা রীতিমত একটি দায়িত্বশীল ডিপার্টমেন্টকে অপমান করা। এছাড়া আরও কয়েকটি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এলজিইডিও ওই বক্তব্য খন্ডন করেছে।
এই দুই দপ্তরের বক্তব্য নতুন এ প্রকল্পের কাজে দীর্ঘসূত্রিতার ইঙ্গিত বহন করছে।
এলজিইডি সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল এলজিইডির একটি বিশেষ টিম যশোরে সার্ভে করতে আসেন। তারা নদের বর্তমান অবস্থান প্রকৃতি ও আশপাশের পরিবেশ প্রতিবেশ নিয়ে কাজ করেন। একটি ম্যাপ তৈরীর কাজও করেন ঢাকা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ টিম। স্থায়ী দখলমুক্ত, দূষণমুক্ত করে নদকে পুনরুজ্জীবিত করে দু’পাড়ে নাগরিকদের জন্য নৈসর্গিক পরিবেশ উপহার দেয়ার টার্গেট নিয়ে এগুনো নতুন প্রকল্পে ২৬ এপ্রিল ড্রোন ক্যামেরায় নদের হাল হকিকত ভিডিও ধারণ করা হয়। এরপর ১৮ জুন ভৈরব নদ নিয়ে নতুন মহা পরিকল্পনার সর্বশেষ ট্রোপোগ্রাফিক্যাল সার্ভে সম্পন্ন করেন এলজিইডির কর্মকর্তারা।
ভৈরব নদ খনন সুষ্ঠুভাবে শেষ করতে গত ২৮ মার্চ ভৈরব নদের শহরের অংশের দু’পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু করে জেলা প্রশাসন। ওই দিন অভিযানে ১শ’২টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। উচ্ছেদ তালিকায় সড়ক ও জনপথ, পাউবো ও জেলা প্রশাসনের খাস জায়গা মিলিয়ে ২৯৬টি স্থাপনা ছিল।
টার্গেটে রাখা হয় স্থায়ীভাবে নদকে দখলমুক্ত করা, দু’পাশে গাছপালার নৈসর্গিক পরিবেশে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকিং ওয়ে করা,  নদ দূষণমুক্ত করতে নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে প্রতিবেশ পরিবেশ সংরক্ষণে যা যা করনীয় তা বাস্তবায়ন। এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে এলজিইডি একজন সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও পরামর্শক, নগর পরিকল্পনাবিদ, একজন স্থপতি ও পরামর্শক এবং কয়েকজন প্রকৌশলী নিযুক্ত করেন। টিমের নেতৃত্বে সম্প্রতি পরিকল্পনার একটি ডিজাইন সম্পন্ন হয়েছে।
এলজিইডি যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী ইফতেখার আলী গ্রামের কাগজকে জানিয়েছেন, এখন ডিজাইন চূড়ান্ত, মাস্টারপ্লানের কাজ এগুচ্ছে। এই পরিকল্পনার ব্যাপ্তি ও বিস্তার বিশাল। নদ স্থায়ী দখল  মূক্ত রাখার টার্গেট, দূষণ মুক্ত রাখা, দ্’ুপাড়ে নাগরিকদের জন্য নৈসর্গিক পরিবেশ তৈরি মূল টার্গেট। নদের দু’পাশ ঘিরে ফেলা হবে এমনভাবে, যাতে আর কখনও সেখানে দখলদাররা প্রবেশই করতে পারবে না। নদ ও মানুষকে স্থায়ী স্বস্তি দিতেই এই পরিকল্পনা। এর জন্য বিশাল বাজেট দরকার। যে টার্গেট মন্ত্রণালয় দিয়েছে তার অর্থ যোগান নিয়েও ভাবা হচ্ছে। ওয়াক ওয়ে ডিজাইনের পর আশপাশের পরিবেশ, স্থাপনা বিশ্লেষণ করে আসছে মাস্টারপ্লান। অর্থ চাহিদা ও বরাদ্দের ব্যাপারে জানাবে বিশেষজ্ঞ সার্ভে টিম, এলজিইডির কনসালট্যান্ট ও পরামর্শক এবং নগর পরিকল্পনাবিদগন।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী জানিয়েছেন, ওয়াকিং ওয়ে করার  নামে যে প্রক্রিয়ায় এলজিইডি এগুচ্ছে তা হঠকারিতা ছাড়া কিছুই  নয়। ওয়াক ওয়ে করা, নদের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, দূষণ মুক্ত করা, স্থায়ী দখল মূক্ত করার সক্ষমতা পানি উন্নয়ন বোর্ডের  আছে। অতি উৎসাহী হয়ে পাউবোকে না জানিয়ে সমন্বয় না করে সার্ভের পর সার্ভে করে যাচ্ছে এলজিইডি। তাদের জায়গা কোথায়, কোথায় তারা ওয়াকিং ওয়ে করবে? উচ্ছেদ করে যে জায়গা খালি করা হয়েছে সেখানে কোনো রকমে নদ খননের মাটি ফেলা যেতে পারে। উপযাজক হয়ে যথেচ্ছা করছে এলজিইডি। রীতিমত পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অপমান করে চলেছে। এই প্রকল্পের ব্যাপারে পাউবো কিছুই জানে না।
তিনি আরো বলেন, এখানেই শেষ নয়। যশোরের আরো কয়েকটি নদীতে উন্নয়ন ও জনস্বার্থের  নামে এলজিইডি যা করেছে তাতে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের সমন্বয়হীনতার কারণে এগুলো হচ্ছে। টাকা থাকলেও অপরিকল্পিত কিছু করে ফেলা সমীচিন নয় কখনও।
এসব বক্তব্য খ-ন করে এলজিইডি যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী ইফতেখার জানিয়েছেন, এ যাবৎ বিশেষজ্ঞ টিমের সার্ভে, ম্যাপ তৈরি, ড্রোন সার্ভে, ডিজিটাল ট্রোপোগ্রাফিকাল সার্ভে হয়েছে, তা মন্ত্রণালয় তথা সরকারি নির্দেশনায় হয়েছে। আর সব বিষয়েই যে পাউবোর কাছে শুনে করতে হবে এমনটিও ঠিক নয়। ওয়াকওয়েসহ যে পরিকল্পনা এলজিইডি করছে তা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানে না, একথা মনে হয় সঠিক নয়। যেহেতু ডিজাইন চূড়ান্ত, এরপর মাস্টারপ্লান আসছে। এখন জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক ও জনপথ এবং পৌরসভাকে সাথে নিয়েই সমন্বিত উদ্যোগে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft