বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
খাজুরার রাস্তা ও ফুটপাত দখলদাররা বহাল তবিয়তে
সংবাদ প্রকাশেও টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের
খাজুরা (যশোর) অফিস :
Published : Monday, 16 September, 2019 at 4:49 AM
সংবাদ প্রকাশেও টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষেরযশোরের খাজুরা বাজারের রাস্তা দখলদারদের কবলে থাকায় দিন দিন রাস্তার জায়গা সংকুচিত হয়ে যান চলাচলে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে প্রতিনিয়ত দেখা দিচ্ছে যানজট। ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এছাড়া ফুটপাতের উপর নির্মাণ সামগ্রী রাখায় কেউই ফুটপাত ব্যবহার করতে পারছে না। স্থানীয় স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী এবং পথচারীরা বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে। দীর্ঘদিনের এ ভোগান্তি বর্তমানে সবার কাছে বিষফোঁড়ায় পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে বাজারটি ঘুরে দেখা যায়, খাজুরা বাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে দক্ষিণমুখী বাজারে প্রবেশের ১৮ ফিটের ব্যস্ততম মূল রাস্তার প্রবেশমুখে তোতা ও জসিম ইঞ্জিনিয়ারিং নামে দুটি লেদ কারখানা রাস্তার উপরে টিনের চালা দিয়ে জনসম্মুখে ঝালাইয়ের কাজ করছে। রাস্তার বিপরীতে খালেক এন্টারপ্রাইজের ফুটপাত দখল করেই চলছে স্যানেটারী ও টাইলস্ ব্যবসা। আরেকটু সামনে দিকে রাস্তার পশ্চিমপাশে ভাই ভাই সাইকেল ষ্টোর থেকে শুরু করে জনসেবা হাসপাতাল হয়ে ঋষিপাড়া সীমানা পর্যন্ত রাস্তা জায়গায় টিনের চালা দিয়ে কৃষি পার্টস বিক্রি ও ইঞ্জিন মেরামতের কাজ চলছে। এর সামনেই রাস্তার উভয় দিকের দোকানিরা রাস্তার উপরই বিভিন্ন সাইজের বাক্স, আলমারি, কিচেন র‌্যাকসহ নিত্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের পসরা সাজিয়ে রেখেছে। গত ৬ মাস যাবৎ ঋষিপাড়ার বিপরীতে ফুটপাত ও রাস্তার উপরেই নির্মাণ সামগ্রী রেখে দুই প্রভাবশালী ব্যক্তি বাড়ি ও দোকান নির্মাণ করছেন। সম্প্রতি তার পাশেই রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে নির্মাণ সামগ্রী রাখার প্রতিযোগিতায় যুক্ত হয়েছেন আরেক প্রভাবশালী। পুরাতন ওয়ালটন শো-রুম থেকে শুরু করে খাদ্য গুদাম পর্যন্ত ফুটপাতের উপর লেপ, তোষক ও বস্তা ভর্তি তুলা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এছাড়া বাজারের ভেতরে পাকা রাস্তা বরাবর অধিকাংশ দোকান ঘর নির্মাণ করে সে সব দোকানের সামনেই আবার টিনের চালা দিয়ে এ্যালুমনিয়ামের হাড়ি-পাতিল, ক্রোকারিজ সামগ্রী ও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির রমরমা ব্যবসা চলছে। এর আগে গত ১৩ জুলাই দৈনিক গ্রামের কাগজ পত্রিকায় ফলাও করে এ ব্যাপারে সংবাদ প্রকাশিত হলেও এখন পর্যন্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রাস্তায় সৃষ্ট যানজট এবং শিক্ষার্থী ও পথচারীর ভোগান্তি দেখেও যেন না দেখার ভান করছে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়ে উঠেছে নানান প্রশ্ন।
কথা হয় রাস্তায় চলাচলকারী ভ্যান চালকদের সাথে। তারা জানান, একে তো রাস্তার বেশিরভাগ জায়গা দখল করে রেখেছে। অপরদিকে দোকানের সামনে ভ্যান দাড় করিয়ে যাত্রী উঠানামা করাতে গেলে এসব ব্যবসায়ীদের সাথে তাদের প্রায়ই ঝগড়া ও হাতাহাতি হয়।
খাজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসতে ভয় করে। ফুটপাতের উপরে ইট, বালু ও ব্যবসায়িক নিত্য প্রয়োজনীয় মালামাল রাখায় তাদের বাধ্য হয়ে ফুটপাতের নীচে রাস্তা দিয়ে স্কুলে আসা যাওয়া করতে হয় বলে তারা জানায়। সম্প্রতি এ স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা তানিয়া খাতুন এ রাস্তা হয়ে স্কুলে আসার পথে একটি ভ্যান গাড়িকে জায়গা দিতে গিয়ে অন্য একটি ভ্যানের সাথে ধাক্কা খেয়ে তার ভাই সাইকেলসহ রাস্তা ও ফুটপাতের উপরের ইটের খোয়ার স্তুপে পড়ে। এ সময় ঐ শিক্ষিকার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত হয়। এতে প্রায় ১৫ দিন তিনি অসুস্থ হয়ে ছুটতে বাড়ী ছিলেন।
খাজুরা সরকারি শহীদ সিরাজ্দ্দুীন হোসেন কলেজের একাধিক ছাত্র-ছাত্রীরা জানায়, এর আগেও তারা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করলেও কর্তৃপক্ষ এখনো কোন ব্যবস্থা নেয়নি। তাই তারা এ ব্যাপারে বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে।
ফুটপাতে হাটার জায়গা না পেয়ে মূল রাস্তায় চলাচলরত ষাটোর্দ্ধ মোফাজ্জেল মোল্যার কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি ক্ষোভের সাথে অনেকটা ব্যঙ্গ করে বলেন, ফুটবল খেলবো তাই ফুটপাত ছেড়ে রাস্তায় নেমেছি।
খাজুরা সরকারি শহীদ সিরাজ্দ্দুীন হোসেন কলেজের উপাধাক্ষ্য আমিনুর রহমান জানান, রাস্তা দখল করে ব্যবস্থা দীর্ঘদিনের। এটা সম্পূর্ণ অপরিকল্পিত ও ঝুঁকিপূর্ণ। ফুটপাত দখল থাকায় শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে মূল রাস্তায় চলাচল করছে। ফলে যে কোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। এসব অবৈধ দখলদারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানিয়া আফরোজ বলেন, আমি ইতিমধ্যে বাজারটি পরিদর্শন করেছি। এখানে উচ্ছেদ অভিযানের ব্যাপার রয়েছে। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা হয়েছে। দ্রুত এসব দখলদারীর বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।
এদিকে এলাকাবাসী দাবী করে বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টি এড়িয়ে কিভাবে দিনের পর দিন এ সব দখলবাজ হায়েনার দল বহাল তবিয়তে রয়েছে, তা বোধগম্য হচ্ছে না। দখলদারী সমস্যাটি আইনের নয়, আইনের শাসনের। আইনের শাসন যথাযথ কার্যকর ও মোটা অংকের জরিমানার ব্যবস্থা থাকলে কখনোই পরিস্থিতি এমন থাকতো না।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft