শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯
সম্পাদকীয়
কিট উৎপাদন: ডেঙ্গু নির্মূলে আশার আলো
Published : Friday, 13 September, 2019 at 10:03 PM
ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে এবার দেশের মানুষের ভোগান্তি কম হয়নি। এই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হারও বলতে গেলে অস্বাভাবিক। এখনও প্রায়ই সংবাদমাধ্যমে আসছে ডেঙ্গুর বলি হয়ে মারা যাওয়ার খবর। এমন প্রেক্ষাপটে শুরুর দিকে ডেঙ্গু শনাক্তের কিট এর সংকটের কথা শোনা গেলেও এ বিষয়ে সুসংবাদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন: ডেঙ্গু শনাক্তের জন্য আবশ্যকীয় ‘কিট’ বিগত দিনে আমদানি নির্ভর থাকলেও আগামীতে দেশেই এটি পাওয়া যাবে।
তিনি বলেন: কাঁচামাল আমদানি করে দেশেই কিট উৎপাদনের প্রক্রিয়া গত ৬ আগস্ট থেকে আমরা শুরু করেছি। এখান থেকে প্রতিদিন ৩৫ হাজার কিট পাওয়া সম্ভব হবে। এ কারণে আগামী দিনে ডেঙ্গু নির্ণয়ে কিটের কোনো সঙ্কট হবে না।
আমদানি নির্ভরতার বদলে দেশেই ডেঙ্গু শনাক্তের কিট উৎপাদনের সিদ্ধান্তকে আমরা সাধুবাদ জানাই। ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং নির্মূলে সরকারের নেয়া পদেক্ষেপ অবশ্য এটাই প্রথম নয়। শুরুর দিকে কিছুটা সমন্বয়হীনতা থাকলেও শেষ পর্যন্ত বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। এর মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরের টেস্ট কিট ও রিএজেন্ট আমদানিতে সমুদয় আমদানি শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর (মূসক), আগাম কর এবং অগ্রিম আয়কর অব্যাহতি দেয়া অন্যতম। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তা বৃদ্ধি ও স্বল্প খরচে জনগণের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ডেঙ্গুর উপকরণ আমদানিকারকদের এই সুযোগ দেয়া হয়েছিল। এই সুবিধা এখনও বহাল রয়েছে।
ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় রক্ত পরীক্ষার অন্যতম অনুসঙ্গ উপাদান কিট বা রিএজেন্ট সংকটে ছিল রাজধানীর সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো। এর পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি ভিত্তিতে ডেঙ্গুর জীবাণু পরীক্ষার ৫০ হাজার কিট আমদানির কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আরও এক লাখ কিট সরবরাহ করবে বলেছে। এরপরও কোথাও কোথাও সংকট ছিল। বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে। এমন প্রেক্ষাপটে ডেঙ্গু নির্ণয়ের কিট উৎপাদনে যাওয়ার এই ঘোষণাকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় মাইলফলক বলেই আমরা মনে করছি।
এরপরও এ বিষয়ে আত্মতৃপ্তির সুযোগ নেই। কারণ, এর আগে ডেঙ্গু নির্মূলে গৃহীত নানা পদক্ষেপে সমন্বয়হীনতা এবং দুর্নীতির মতো বিষয়ও দেখেছি। সিটি কপের্োরেশনের ছিটানো মশা নিয়ন্ত্রণের ঔষধও অকার্যকর হয়েছে। তাই কিট শনাক্তের এই কাজে যথাযথ নজরদারির বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আমরা সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft