সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
হতাশা উৎকণ্ঠায় দোকান মালিক আনন্দ
যশোরে চুরি ৩৪ ভরি সোনা উদ্ধার নেই
খোঁজা হচ্ছে আরো ৬ জনকে
দেওয়ান মোর্শেদ আলম :
Published : Friday, 13 September, 2019 at 6:31 AM
যশোরে চুরি ৩৪ ভরি সোনা উদ্ধার নেই যশোর শহরের প্রিয়াঙ্গণ জুয়েলার্সে অভিনব স্টাইলে ৩৭ ভরি সোনা চুরির ঘটনায় নতুন করে ৬ জনকে খোঁজা হচ্ছে। চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা এলাকার সনাক্ত হওয়া ওই জনকে আটকে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৌশলী অভিযানে মাঠে নেমেছে গোয়েন্দা শাখা।
এদিকে ৩৭ ভরি সোনার মধ্যে এখনও ৩৪ ভরি সোনা উদ্ধার না হওয়ায় চরম হাতাশা ও উৎকণ্ঠায় সময় কাটছে দোকান মালিকের। ঘটনার মাত্র ১৪ দিনের মাথায় গোয়েন্দা শাখার আইটি স্পেশালিস্ট কয়েকজন অফিসার চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা থেকে চুরি মিশনের ৪ জনকে আটক করার পর তথ্য পান ঘটনায় আরও ৬ জন জড়িত। তাদের আটক বাকি সোনা ও টাকা উদ্ধারে অভিযান চলছে বলে দাবি অফিসার ইনচার্জ মারুফ আহমেদের।  দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনায় জড়িত অন্যদের আটকসহ বাকি সোনা ও টাকা উদ্ধার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
২৭ জুন বিকেল ৩টা ৫২ মিনিটে ত্রিপল টাঙিয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার সাড়ে ৯ গজ দুরের প্রিয়াঙ্গণ জুয়েলার্সে বড় ধরণের চুরি সংঘটিত হয়। সংঘবদ্ধ চোর চক্রটি ৩টা ৫২ মিনিটে  ঢুকে ৮ মিনিট পর বিকেল ৪টা ১ মিনিটে বেরিয়ে আসে। আর বিনা বাধায় ব্যাগে করে স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে চলে যায়। চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি যশোরের নেতৃবৃন্দসহ সব জুয়েলারী দোকানী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে দ্রুত ঘটনায় জড়িতদের সনাক্ত করে আটক দাবি করেন পুলিশ প্রশাসনের কাছে। একই সাথে ২৮ জুন থানায় এজাহার দাখিল করেন জুয়েলারী মালিক অমিত রায় আনন্দ। অজ্ঞাত চোর চক্রের বিরুদ্ধে দেয়া মামলায় জুয়েলারী থেকে ৩৭ ভরি ১২ আনা সোনার গহনা ও নগদ আড়াই লাখ টাকা চুরি হিসেব দেয়া হয়। যার মূল্য প্রায় ২৪ লাখ ৭৯ হাজার দুশ’৫০ টাকা।
এদিকে, প্রকাশ্য দিবালোকে থানার ৯ গজ দুরে জনবহুল এলাকায় দুর্ধর্ষ এই চুরির ঘটনায় টক অব দ্যা যশোরাঞ্চল হওয়া এবং থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ প্রশ্ন তোলায় ২৮ জুন রাতে মামলাটি হস্তান্তর করা হয় যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবিতে। চুরির ঘটনা নিয়ে দৈনিক গ্রামের কাগজে সিরিজ সংবাদ প্রকাশিত হয়। পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ, ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ ও নানামুখি আল্টিমেটামে জোরেসোরে কাজ শুরু করে ডিবি। পুলিশ সুপার মঈনুল হকের (পিপিএম. বিপিএম. বার) সার্বিক দিক নির্দেশনায় গোয়েন্দা শাখার একটি আইটি স্পেশালিস্ট টিম মাঠে নামে। আইটি স্পেশালিস্ট সাব ইন্সপেক্টর শামীম হোসেন তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে  দু’সপ্তাহ কাজ করেন। সিসি ক্যামেরা থেকে সংগৃহিত ভিডিও ফুটেজে চোরদের অস্পষ্ট ছবি নিয়ে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। মোবাইল ট্রাকিং করা হয় শতাধিক পেশাদার সোনা চোর ও পুরোনো অনেক সোনা চোর ও চোরাই সোনা বিকিকিনি চক্রের লোকজনের। এভাবে চোর সনাক্ত করার কাজ এগিয়ে চলে। যশোর ডিবিকে ব্রাম্মণবাড়িয়া, ঢাকা, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের আরও কয়েকটি গোয়েন্দা টিম সহায়তা করে। এক পর্যায়ে চোর চক্র সনাক্ত হয়ে গেলে ১১ জুলাই ও ১২ জুলাই অভিযান পরিচালনা করে যশোর ডিবি। ইন্সপেক্টর আল মামুনের নেতৃত্বে এসআই শামীম হোসেন সোনা ও নগদ টাকাসহ সংঘবদ্ধ চক্রের ৪ জনকে আটক করতে সক্ষম হন। এরা হচ্ছে চট্টগ্রামের বহাদ্দারহাট এলাকার আব্দুর রশিদ বাদশা, বাকলিয়া এলাকার সোহেল ওরফে মোটা সোহেল, কুমিল্লার মুরাদ নগরের উজ্জল ও সুমন। এদের মধ্যে সোহেলের বসতবাড়ি থেকে নগদ দেড় লাখ টাকা ও ৩ ভরি ৭ আনা সোনা উদ্ধার হয়। আটককৃতদের মধ্যে আব্দুর রশিদ বাদশা ও সোহেল ওরফে মোটা সোহেলকে সিটি টিভি ফৃুটেজে দেখা যায় একজন পুটলি হাতে, অন্যজন ছাতা হাতে বের হয়ে যাচ্ছে। উদ্ধার হওয়া সোনা ও টাকা প্রিয়াঙ্গণ জুয়েলার্সের বলে নিশ্চিত করেন মালিক অমিত রায় আনন্দ। বাকি সোনা ও টাকার ব্যাপারে আটককৃতরা জানে না বলে জানায়। তবে ওই চুরিতে ওই এলাকরই আরো ৬জন জড়িত বলে তথ্য দেয় ও সোনা ও টাকা তাদের দখলে থাকতে পারে বলে জানায়। ওই তথ্যে ডিবির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শামীম আরও জোরালো তদন্ত শুরু করেন। তিনি ঘটনায় জড়িত নতুন ওই ৬ জনকে সনাক্ত করেন।  চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা এলাকায় তাদের আটকে অভিযান চালানো হলেও ওই ছয় মোবাইল বন্ধ রয়েছে। মোবাইল খুললেই তারা পাকড়াও হবে বলেও জানান।
এ ব্যাপারে যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ মারুফ আহমেদ গ্রামের কাগজকে জানিয়েছেন, মামলাটি নিয়ে জোরালোভাবে মাঠে নামা হয়েছে। আসামি সব সনাক্ত হয়েছে। বাকি সনাক্ত হওয়া ৬ জন আটক হলেই সোনা ও টাকা উদ্ধার সম্ভব হবে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft