সোমবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
অস্তিত্ব রক্ষায় হুমকির মুখে খুলনার তাঁতী পরিবারগুলো
ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধি :
Published : Monday, 9 September, 2019 at 6:33 AM
অস্তিত্ব রক্ষায় হুমকির মুখে খুলনার তাঁতী পরিবারগুলোসুজলা-সুফলা শস্য শ্যামলা বাংলাদেশের বস্ত্র চাহিদার সিংহভাগ যোগান দিতো যে সম্প্রদায় সেই তাঁতী সম্প্রদায় আজ অস্তিত্ব রক্ষায় হিমসিম খাচ্ছে। এই তাঁতীদের একটি সোঁনালী অতীত ছিল। অষ্টাদশ শতকে তাঁতীদের তৈরি তাঁতের কাপড় সারা বিশ্ব মাতিয়েছিল। কথিত আছে, এই তাঁতীদের হাতে তৈরি ঢাকাইয়া মসলিন যেমন জগৎ বিখ্যাত ছিলো তেমনই গুণেমানে নৈপূন্যে সম্মৃদ্ধ ছিলো তাঁতবস্ত্র। তাঁতীদের তাঁতে তৈরি মসলিন এমনই নৈপূন্যে ভরপুর ছিলো যে একটা পুরো মসলিন শাড়ি ম্যাচের ভেতর ভরা যেত। সেসব গৌরব গাঁথা সুখ্যাতি অতীত প্রায় গল্প গাথার মত শোনা যায়। যাদের নিপুন হাতে তৈরি হতো বাহারী শাড়ি সেই নিপুন তাঁতীরা অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হিমসিম খাচ্ছে। পেশা ছেড়ে দিনমজুরে পরিণত হয়েছে তাঁতীরা। সারা বাংলাদেশের প্রতিটা জেলায় প্রায় শত শত, হাজার হাজার তাঁতী পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি জেলার তাঁতীরা এখনও সম্মৃদ্ধির সোপানে নড়াচড়া করে বেড়াচ্ছে। তারা হলো পাবনা, সিরাজগঞ্জ, কুমারখালী, কুষ্টিয়া, যশোর, ময়মনসিংহ, ঝালকাঠি, খুলনা, টেকেরহাট, বাবুগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ ইত্যাদি জেলার তাঁতীরা।
এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আমাদের মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশই তাঁতী জনগোষ্ঠি যা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিভিন্ন জেলায় জনপদে। কিন্তু এদের মধ্যে ৯৮ ভাগই পেশাচ্যুত আজ আর তাদের তাঁতী বলে চেনা যায় না। এমনই অবস্থা আমাদের খুলনার তাঁতী পরিবাগুলোর। খুলনা জেলার ৯ টি উপজেলায় প্রায় ৯৭ হাজার তাঁতী পরিবার রয়েছে। এদের অধিকাংশই পেশাহারা। হাতেগোনা কয়েকটি পরিবার এই পেশার সাথে জড়িত রয়েছে যাদের অবস্থান ফুলতলা ও ডুমুরিয়া উপজেলায়। যার সংখ্যা মাত্র ৬০/৭০ পরিবার। অনুসন্ধানে জানা যায়, বস্ত্র উৎপাদনে যে উপকরণগুলো প্রয়োজন তার মুল্য কয়েক শত গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। যেমন ১৯৭০/৭৪ সালে এক বান্ডিল সুতার মুল্য ৩৫/৪০ টাকা ছিলো যার বর্তমান মুল্য প্রায় হাজার টাকা। রঙসহ অন্যান্য উপকরণের মুল্য অনুরুপভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তারপর উপকরণ প্রাপ্তিতে বড় বাঁধা হলো অধিকাংশ সুতার মিল বন্ধ রয়েছে প্রায় ৩০/৩৫ ধরে। বন্ধ মিলগুলো সরকার ভর্তূকি দিয়ে চালু করলে উৎপাদিত সুতার মাধ্যমে তাঁতী পরিবারগুলো আবার স্ব-স্ব পেশায় ফিরে যেতে উজ্জীবিত হতো। আবার প্রতিবেশি দেশ থেকে কমদামে কালোবাজারে বস্ত্র অনুপ্রবেশের কারণে দেশি তাঁত শিল্প আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। টাঙ্গাইলের শাড়ির জন্য গৃহবধুরা পাগল প্রায় তা থেকে এখনও পর্যন্ত তাঁতের কদর যে অব্যহত রয়েছে সেটা অনুমান করা যায়। এই তাঁতী সম্প্রদায়কে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকতে হবে, ভর্তূকি দিয়ে তুলা চাষ করতে হবে, আমদানী করতে হবে তুলা, প্রতিষ্ঠা করতে হবে তাঁত ব্যাংক, তাঁতী বাজার। সুদমুক্ত পর্যাপ্ত মুলধন প্রকৃত তাঁতীদের হাতে পৌঁছে দিতে হবে। তাহলে জাতির মৌলিক চাহিদার দ্বিতীয় খাতটি সম্মৃদ্ধ হবে, টিকে থাকবে তাঁত ও তাঁতী জনগোষ্ঠি। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft